লকডাউনে বেড়ে যাওয়া ওজন কমানোর পরামর্শ ব্রিটিশ সরকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:মহামারি করোনাভাইরাসের সংক্রমণ নিয়ন্ত্রণে আনতে জারি করা হয় লকডাউন। এই লকডাউনের সময়টি মূলত ঘরে বসেই থাকতে হয়। শারীরিক পরিশ্রমের কাজ করা হয় না। এর অনিবার্য ফল হলো মুটিয়ে যাওয়া। তাই লকডাউন শেষ হওয়ার পর এবার লোকজনকে স্বাস্থ্যকর খাবার খাওয়া ও ওজন কমানোর পরামর্শ দিচ্ছে ব্রিটিশ সরকার।

সাম্প্রতিক এক জরিপে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে জনস্বাস্থ্যের ওপর লকডাউনের প্রভাব কাটাতে পুষ্টিকর খাদ্য গ্রহণের পাশাপাশি কর্মক্ষেত্রেও নাগরিকরা যাতে আরো সক্রিয় হয়ে ওঠে, ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিসের পক্ষ থেকে সে বিষয়ে নানাভাবে উৎসাহ প্রদান করা হচ্ছে। তারা ওজন কমানোর বিষয়ে নানা ধরনের অ্যাপস ও পরিকল্পনা সরবরাহ করছে। খবর এনডিটিভির।

দেশটির ৪১ শতাংশ প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিক বলেছেন, গত বছর প্রথমবার লকডাউন শুরু হওয়ার পর থেকে তাদের ওজন বাড়তে শুরু করেছে। সারা দেশে ৫ হাজার মানুষের ওপর ২ জুলাই থেকে ৮ জুলাই পর্যন্ত জরিপ চালিয়ে এই তথ্য পেয়েছে ওপিনিয়াম নামের একটি সংস্থা। এরপর জাতীয় স্বাস্থ্য সার্ভিস নাগরিকদের ওজন কমাতে নানা পরিকল্পনা শুরু করেছে।

পাবলিক হেলথ ইংল্যান্ডের প্রধান পুষ্টিবিদ অ্যালিসন টেডস্টোন এক ই-মেইল বার্তায় বলেন, ‘গত ১৬ মাসে দৈনন্দিন জীবন যাপনে নাগরিকদের অভ্যাসের অনেক পরিবর্তন ঘটেছে। সুতরাং লোকদের ওজন বেড়ে গেছে, এমন খবরে অবাক হওয়ার কিছু নেই।’

জরিপের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নাগরিকদের ওজন বাড়ার প্রধান কারণ হলো ঘন ঘন খাওয়া দাওয়া এবং কোনো কাজ না করা। প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনের সরকার জনগণের কাছে লকডাউনে জনস্বাস্থ্যের সমস্যাগুলো জনগণের কাছে তুলে ধরছে এবং জাতীয় স্বাস্থ্য সার্ভিসের সঙ্গে সমন্বয় করে দ্রুত এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে কাজ শুরু করেছে।

জাতীয় স্বাস্থ্য সার্ভিস বলেছে, ওজন বাড়ার হার গড়ে ৪ কেজি। ওজন কমানোর জন্য জনগণকে আগ্রহী করে তুলতে তারা টিভিতে বিজ্ঞাপন দেয়ার কথা বলেছে। একই সঙ্গে স্বাস্থ্যকর রেসিপিও সরবরাহ করা হবে বলে জানিয়েছে তারা।

জনস্বাস্থ্যবিষয়ক মন্ত্রী জো চার্চিল বলেন, ‘মহামারিটা আমাদের জন্যে মারাত্মক চ্যালেঞ্জিং। আমরা জনগণকে জন্য একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারা দিতে চাই, যেটা তাদের কাজে লাগবে। তাদের জীবনযাপন আরো সহজ করতে চাই।’

এমনিতেই ক্রমশ বেড়ে চলা স্থূলতার মাত্রা কমাতে নানাভাবে চেষ্টা চালাচ্ছে দেশটি। গত মে মাসে টেলিভিশনে সরকার জাংকফুড ব্যবসায় সীমাবদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছিল। অনেক খাদ্যোৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানকে তাদের উৎপাদিত খাদ্যে ক্যালরির পরিমাণ জানাতে বলা হয়েছিল। তবে চলতি মাসের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন দেশের মানুষের খাদ্যাভ্যাস পরিবর্তনের উপায় হিসেবে অস্বাস্থ্যকর খাবারের ওপর বেশি ট্যাক্স বসানোর ধারণাটি ‘তেমন আকর্ষণীয়’ নয় বলে তা নাকচ করে দিয়েছিলেন।

২০২০ সালে করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়েছিলেন প্রধানমন্ত্রী নিজেও। সে সময় তাকে হাসপাতালে ভর্তি হতে হয়েছিল। অবস্থা এতটা সঙ্গীন হয়ে উঠেচিল যে, শেষ পর্যন্ত তাকে আইসিইউতে নিতে হয়েছিল।  সুস্থ হয়ে ওঠার পর অক্টোবরে দলের এক ভার্চুয়াল বৈঠকে তিনি স্বীকার করেন, ‘অতিরিক্ত মোটা’ হওয়ার কারণে তাকে বাজেভাবে ভুগতে হয়েছিল।

চলতি বছরের মার্চ মাসে তিনি জানান, তার ওজন কমেছে। তবে সে জন্য তাকে চকোলেট এবং রাতে ঘুমাবার আগে পনির খাওয়া ছাড়তে হয়েছে। এ ছাড়া তাকে প্রচুর ব্যায়ামও করতে হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here