মাত্র ২০০ টাকা পেলেই হাতুড়ি হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন গোলজার

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও ডবলমুরিং থানার তালিকাভুক্ত ১ নম্বর আসামি গোলজার আলম প্রকাশ ওরফে পিস্তল গোলজার। সবসময় তার পকেটে পিস্তল ও হাতে থাকে হাতুড়ি। মাত্র ২০০ টাকা পেলেই এসব অস্ত্র হাতে ভয়ঙ্কর হয়ে ওঠেন তিনি।

সোমবার রাতে নগরীর ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়া থেকে অস্ত্র, গুলি ও ইয়াবাসহ গোলজারকে গ্রেফতার করা হয়েছে। তার বিরুদ্ধে অস্ত্র, মাদক, ছিনতাই, চাঁদাবাজি, হত্যাপ্রচেষ্টা, বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন থানায় ১৫টি মামলা রয়েছে।

গ্রেফতারকৃত গোলজার ডবলমুরিং থানার দাইয়াপাড়ার আছিয়া বাপের বাড়ির মো. মুছার ছেলে। সে ডবলমুরিং থানা যুবদলের সাবেক যুগ্ম সম্পাদক।

মঙ্গলবার ডবলমুরিং থানার ওসি মোহাম্মদ মহসীন বলেন, গোলজার চট্টগ্রামের তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী এবং ডবলমুরিং থানার তালিকাভুক্ত ১ নম্বর আসামি। সে ডবলমুরিং এলাকার ত্রাস। চুরি থেকে শুরু করে ছিনতাই, চাঁদাবাজি, মাদকসহ এমন কোনো অপরাধ নেই যা সে করে না। সে ভিক্ষুকের কাছ থেকেও ২০ টাকা চাঁদা নেয়। আবার ২০০ টাকা দিলেই যে কাউকে গিয়ে মেরে আসে। গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সোমবার রাত সাড়ে ১২টায় দাইয়াপাড়া থেকে তাকে গ্রেফতার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে একটি পাইপ গান, এক রাউন্ড গুলি ও ১০৫টি ইয়াবা উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানিয়েছে, গোলজার সবসময়ই পকেটে পিস্তল ও হাতে হাতুড়ি রাখে। যখন তখন যাকে তাকে গুলি করে সে। ২০১৮ সালে ডিশ ব্যবসা নিয়ে টিপু ও সগীর নামে দুইজনকে গুলি করে গোলজার। ২০১৩ সালে পুলিশকে লক্ষ্য করেও গুলি করে সে। আর কেউ তার কথার অবাধ্য হলে তাকে হাতুড়িপেটা করে। সর্বশেষ গত ১১ জুলাই দাইয়াপাড়ায় রাশেদ নামে একজনকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে আহত করে। এর এক সপ্তাহ আগে আরো একজনকে একই কায়দায় পিটিয়ে আহত করে।

আরো জানা গেছে, গোলজারের আয়ের কোনো উৎস নেই। চাঁদাবাজি তার আয়ের প্রধান উৎস। এলাকায় দোকান থেকে শুরু করে ভিক্ষুক থেকে পর্যন্ত চাঁদা নেয় সে। ভিক্ষুকের কাছ থেকে ২০ টাকা চাঁদা নেয় সে। চাঁদাবাজির অভিযোগে একাধিকবার গ্রেফতারও হয়েছে সে।

পুলিশ আরো জানায়, ভাড়ায় অপরাধ করে গোলজার। মাত্র ২০০ টাকা দিলেই সে যে কাউকে গিয়েই মেরে আসে। বিশেষত তার এলাকাতেই এ ঘটনা ঘটায় বেশি। এলাকায় ব্যক্তি পর্যায়ে কারও সঙ্গে বাকবিতণ্ডা হলেই তাকে ভাড়া করে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে সে তার স্টাইলে হাতুড়ি দিয়ে পেটায়।

মামলা সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে গোলজার ডবলমুরিং থানার চিহ্নিত মাদক বিক্রেতা। মূলত টেকনাফ থেকে আনা ইয়াবা সে খুচরা বিক্রি করে। এজন্য তার তিনজনের একটি বিক্রয় প্রতিনিধি দলও আছে। কমিশনের ভিত্তিতে তারা গোলজারের ইয়াবা বিক্রি করে। তার বিরুদ্ধে মাদক আইনে দুটি মামলা রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here