বরিশালে একজন আদর্শ শিক্ষক ইউসুফ আলী

 

নিজস্ব প্রতিনিধি:একজন প্রজ্ঞাশীল ব্যক্তিত্ব, স্বল্পভাষী ও সৎ আদর্শের প্রতিকৃতি বরিশাল সদর উপজেলার জাগুয়া ইউনিয়নের মহাম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক মোঃ ইউসুফ আলী (বিএ.বিএড.)। একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে ইতিমধ্যে জীবনের অনেকটা সময় পার করে এসেছেন তিনি। অবদান রেখেছেন জাতির অগ্রগতি সাধনে মানুষ তৈরীর একজন কারিগর হিসেবে। পরম মমতা আর অন্তরিকতা দিয়ে তিনি তৈরী করেছেন হাজার হাজার শিক্ষার্থী, যারা আজ বিভিন্ন ক্ষেত্রে স্বমহিমায় প্রতিষ্ঠিত। এ কারণে শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের কাছে ‘ইউসুফ স্যার অতি পরিচিত ও শ্রদ্ধেয় নাম। শিক্ষকতায় তিনি শিক্ষার্থীদের কাছে একজন আদর্শের প্রতীক।
তিনি অসংখ্য শিক্ষক প্রশিক্ষণ গ্রহণ করে নিজকে একজন দক্ষ শিক্ষক হিসেবে স্কুলের উন্নয়নে নানামুখী পদক্ষেপ গ্রহণে একাগ্রচিত্তে সকল প্রকার সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিচালনা ও উপস্থাপনা, দিক-নির্দেশনা এবং দেশের জাতীয় দিবসগুলো পালনে অগ্রণী ভূমিকা,দৈনিক সমাবেশ পরিচালনা,পরিবেশ রক্ষার কর্মকাণ্ড সম্পন্ন করতে পারদর্শীতার পরিচয় দিয়েছেন। যে কোনো অনুষ্ঠান পরিচালনা ও উপস্থাপনায় স্কুলে তিনি অতুলনীয় ।

শ্রেণিকক্ষে একজন দক্ষ ও অভিজ্ঞ শিক্ষক হিসেবে দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীদের আস্তা ও জনপ্রিয়তা অর্জন করেন। তিনি শিক্ষক প্রতিনিধি হিসেবে একাধিকবার দায়িত্ব পালন করে শিক্ষার্থীর শিক্ষার উন্নয়নে বিশেষ ভূমিকা পালন করেন।
একাধিক প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা বলেন, ইউসুফ স্যারে আমাদের এই বিদ্যালয়ে প্রায় ৩ যুগের বেশি সময় যাবত কর্মরত আছেন। মত নিবেদিত প্রাণ শিক্ষক ও সাদামনের মানুষ দ্বিতীয় কেউ আছেন বলে আমার জানা নেই ।আমরা যখন ছাত্র ছিলাম, স্যার আমাদের কে ক্লাশে অত্যন্ত আন্তরিকতার সাথে শিক্ষা দিতেন। এই যুগে এমন শিক্ষক কি আর আছে? এ ধরণের মানুষরা মানুষ গড়ার কারিগর হিসেবে নিভৃতেই কাজ করে যান দেশ জাতি ও সমাজের জন্য। আমরা ছাত্রাবস্থায় তার কাছে পড়াশোনার কোন বিষয় নিয়ে গেলে তিনি স্বাচ্ছন্দে তা আমাদেরকে বুঝিয়ে দিতেন, ছাত্রছাত্রীদের মাঝে জ্ঞানের আলো ছড়ানোতেই ছিল তার আনন্দ।
মোঃ ইউসুফ আলী’র সাথে একান্ত আলাপ কালে তিনি জানান, ,শিক্ষকতা জীবনে অবদান কম হলেও প্রাপ্তি অনেক বেশি। এলাকার শিক্ষার্থীদের অত্যন্ত আস্থাভাজন সৎ চরিত্র ও দায়িত্ববান শিক্ষক হিসেবে দিন দিন পরিচিতি লাভ করেন।
উল্লেখ্য, তিনি ১৯৬৪ সালে ঝালকাঠি সদর উপজেলার গাভা রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের কাচাবালিয়া গ্ৰামের সম্ভ্রান্ত মুসলিম পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। এরপরে কাঁচাবালিয়া বি.কে মাধ্যমিক বিদ্যালয় থেকে এসএসসি পরীক্ষার উত্তীর্ণ হন। পরবর্তীতে চাখার শেরেবাংলা একে ফজলুল হক ডিগ্ৰী কলেজ থেকে এইচএসসি ও বিএ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। ১৯৮৬ সালের ০৪ সেপ্টেম্বর মহাম্মদ আলী মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেন। সর্বশেষ চাকুরীরত অবস্থায় বিএড পরীক্ষার অংশগ্রহণ করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here