দামে কম মানে ভালো: মনসুরের ‘দেহ দোকানে’র পণ্য

দিনাজপুর প্রতিনিধি:পঞ্চাশোর্ধ্ব মনসুর আলী। ঘুরে ঘুরে বিক্রি করেন হরেক রকম পণ্য। ক্রেতা আকর্ষণের জন্য নিজের দেহটাকেই বানিয়েছেন দোকান। সাজিয়েছেন রুমাল, মানিব্যাগ, চিরুনি, কটনবাড, নেইল কাটার, কাঁচি, ন্যাপথলিন, সেফটিপিনসহ বিভিন্ন পণ্য দিয়ে।

দিনাজপুরের শহরের বিভিন্ন মোড়, রেলস্টেশন, বড়মাঠ, ডিসি অফিস চত্বর, আদালত চত্বর ও ফুটপাতে ঘুরে ঘুরে কম দামি কিন্তু প্রয়োজনীয় এসব পণ্য বিক্রি করেন মনসুর আলী।

জানা গেছে, মনসুর আলীর বাড়ি নীলফামারীর সৈয়দপুরের টিকাপাড়া। জীবনের বেশিরভাগ সময় দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় ঘুরে ঘুরে হরেক পণ্য বিক্রি করেই কাটিয়েছেন তিনি। তার সামান্য আয়েই চলছে চার সদস্যের সংসার।

মনসুর আলী জানান, প্রায় ৩০ বছর ধরে নিত্যপ্রয়োজনীয় এসব কম দামি পণ্য শরীরে ঝুলিয়ে সৈয়দপুর থেকে দিনাজপুরের পথে-প্রান্তরে ঘুরে ঘুরে বিক্রি করছেন তিনি। প্রতি মাসে দুই থেকে তিনবার বাড়িতে ফিরে যান। আবার সৈয়দপুর থেকে পণ্য কিনে ১০-১৫ দিনের জন্য দিনাজপুরের বিভিন্ন উপজেলায় চলে যান। রাত কাটান স্বল্প খরচের বোর্ডিংয়ে।

তিনি আরো জানান, আগে বেচাকেনা ভালো হতো। কিন্তু এখন করোনার কারণে দিনে ১০০-৩০০ টাকার বেশি হয় না। বর্তমানে যা আয় হয় তা থাকা-খাওয়ায় শেষ হয়ে যায়। ট্রেন বন্ধ থাকায় বাড়িতেও যেতে পারেন না। তবে প্রতিদিন মোবাইলে স্ত্রী-ছেলেমেয়ের সঙ্গে কথা বলেন।

পঞ্চাশোর্ধ্ব মনসুর বলেন, ছোটবেলা থেকেই নিজের দেহকে দোকান বানিয়ে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য বিক্রি করে আসছি। জীবনের প্রায় শেষ প্রান্তে চলে এসে- এমন অচলাবস্থায় পড়তে হবে কখনো কল্পনা করিনি। আমার মতো অনেকেই এমন ‘দেহ দোকান’ সাজিয়ে পণ্য বিক্রি করে। তাদের অবস্থাও ভালো না।

তিনি আরো বলেন, বয়স অনেক হয়েছে। আর এভাবে ঘুরে ঘুরে ‘দেহ দোকান’ নিয়ে চলাচল করতে পারব না । এবার সুযোগ পেলেই সৈয়দপুরে পরিবারের কাছে ফিরে যাব। সেখানে স্থায়ীভাবে কিছু করার চেষ্টা করব।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here