নদীর কূলে ধানের তরী

আমজাদ হোসেন, নরসিংদী:মানুষের জীবন, যৌবন এবং স্বপ্ন সম্ভার নিয়ে নদীর সঙ্গে উপমা দিয়ে অনেক কবি লিখেছেন কবিতা। কবিগুরু রবীন্দ্রনাথের রচিত সোনার তরী কবিতায় বলা হয়েছে- ‘ওগো, তুমি কোথা যাও কোন বিদেশে,/ বারেক ভিড়াও তরী কূলেতে এসে। কৃষক বলেন, ‘যেয়ো যেথা যেতে চাও,/ যারে খুশি তারে দাও, /শুধু তুমি নিয়ে যাও/ ক্ষণিক হেসে/ আমার সোনার ধান কূলেতে এসে।’

এ কবিতার সঙ্গে অনেকটাই মিলে যায় যখন কোনো নদী, মাঝি, ধান এবং কৃষকের এক সঙ্গে সমন্বয় ঘটে। এমনই একটি ঘটনা ঘটেছে নরসিংদীর শিবপুর উপজেলার বাঘাব ইউপির লামপুর গ্রামের পাশ দিয়ে বয়ে যাওয়া কলাগাছিয়া নদীর কূলে। প্রায় ৪০০ মণ ধানের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নৌকা কলাগাছিয়া নদীর কূলেতে এসে থামে।

নৌকা মাঝি মো. বাবুল মিয়া এই কূলে নোঙর পেতেছেন। উদ্দেশ্য এই নদী কেন্দ্রীক এলাকার কৃষকের ঘর থেকে ধান ক্রয় করবেন এবং এই তরীতে তোলে নিয়ে যাবেন মেঘনা নদী পথে ভৈরব হয়ে আশুগঞ্জ ধানের চাতালে। যেখানে ধান সিদ্ধ করে রৌদ্রে শুকিয়ে চাল করা হয়।

৪০০ মণ ধানের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নৌকা কলাগাছিয়া নদীর কূলেতে এসে থামে। 

৪০০ মণ ধানের ধারণ ক্ষমতা সম্পন্ন একটি নৌকা কলাগাছিয়া নদীর কূলেতে এসে থামে।

নৌকার মাঝি মো. বাবুল মিয়া জানান, তার বাড়ি নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার চরসুবুদ্ধি ইউপির বলপপুর গ্রামে। ওই গ্রামেরই কয়েকজন ধান ক্রেতা বা ধানের ব্যাপারী তাকে ভাড়া করে নিয়ে আসছেন এখানে।

ক্রেতারা জানান, ৪০০ মণ ধান ক্রয় করার টার্গেট রয়েছে তাদের। বাজারে ধানের দাম প্রতি মণ ১১০০ থেকে ১২০০ টাকা হলেও কৃষকের বাড়ি থেকে কিনলে কিছুটা কমে কেনা যায়।

স্থলপথ বা সড়কপথ রেখে নদীতে নৌপথ ব্যবহার করার কারণ জানতে চাইলে তারা বলেন, বর্ষাকালে নৌপথই ভালো, খরচ কম। সড়কপথে লকডাউনের ঝামেলা। এছাড়া সড়কপথে ট্রাকের ভাড়া বেশি এবং ট্রাক নিয়ে কৃষকের বাড়ির এতো কাছে আসা সম্ভব নয়। নদী পথে বিশেষ করে নদীর এই ভরা মৌসুমে নৌকা নিয়ে গ্রামে কৃষকের বাড়ির কাছাকাছি আসা অনেক সহজ। এ জন্য আমরা নৌপথটাকেই ব্যবহার করছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here