লকডাউনে খামার করে স্বপ্নপূরণ বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীর

নওগাঁ প্রতিনিধি:দেড় বছর থেকে দেশের সব শিক্ষা প্রতিষ্ঠান বন্ধ। পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোও বন্ধ। তাই অনেকটা বাধ্য হয়েই প্রিয় বিদ্যাপীঠ ছেড়ে বাড়িতে এসে থাকতে হচ্ছে শিক্ষার্থীদের।

অধিকাংশ শিক্ষার্থীই শুয়ে-বসে, ফেসবুকিং করে, মোবাইল গেম অথবা বই পড়ে সময় কাটাচ্ছে। লকডাউনের এই অবসর সময়টাকে হেলায় নষ্ট না করে স্বপ্নের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিহান।

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর ইউপির আরজি পাঁচঘড়িয়া গ্রামের সাহাবুল আলমের ছেলে হাসিবুল ইসলাম জিহান। তিনি নর্থসাউথ বিশ্ব বিদ্যালয়ের মার্কেটিং বিভাগের নবম সেমিস্টারের শিক্ষার্থী। পড়াশুনা শেষে উদ্যোক্তা হওয়ার স্বপ্ন অনেক আগে থেকেই। কিন্তু লকডাউনের কারণে পড়াশুনা শেষ করার আগেই সেই স্বপ্নের সিঁড়িতে আরোহণ করেছেন জিহান।

স্বপ্নের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিহান। 

স্বপ্নের গরুর খামার গড়ে তুলেছেন নর্থসাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী জিহান।

 

করোনা ভাইরাসের কারণে গত বছরের ১৭ মার্চ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ হয়ে যায়। বাড়িতে চলে আসেন জিহান। গ্রামের বাড়িতে সবসময় দু-একটা গরু থাকেই। এই গরুগুলো লালন পালন করতে করতেই বড় একটি খামার করার সাধ জাগে তার। যে কথা সেই কাজ। বাবা সাহাবুল আলমের সাথে পরামর্শ করে শুরু করেন খামারের কাজ। বড় আকারের ২০টি গরু রাখার মতো একটি গোয়াল ঘর তৈরি করেন তিনি। নাম দেন জিহান ডেইরি ফার্ম।

জিহান ডেইরি ফার্মে বর্তমানে ১৮ টি গরু আছে। এর মধ্যে রয়েছে গাভি, দেশি ষাঁড় ও ইন্ডিয়ান বলদ। তিনটি গাভি থেকে প্রতিদিন ৭০ থেকে ৮০ লিটার দুধ হয়। কুরবানির ইদকে সামনে রেখে ছয় মাস ও এক বছর আগে কিনেছিলেন বলদ ও ষাঁড়গুলো। এই ঈদে বিক্রয় উপযোগী গরু রয়েছে ১৫ টি।

গরুগুলো কিনতে ও লালনপালন করতে খরচ হয়েছে ৩০ লাখ টাকা। বিক্রি করার ইচ্ছে আছে ৪০ লাখ টাকায়। কিন্তু কঠোর লকডাউনের কারণে গরুগুলো ভালো দাম দিয়ে বিক্রয় করা নিয়ে আছেন ভীষণ শঙ্কায়।

হাসিবুল ইসলাম জিহান বলেন, ছোট বেলা থেকেই আমার গরু পালনের শখ ছিল। পড়াশুনা শেষ করেই শুরু করতাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধ থাকায় ভাবলাম বসে না থেকে এখন থেকেই শুরু করি। বাবার সঙ্গে পরামর্শ করে শুরু করেছি। বর্তমানে ১৮ টি গরু আছে।

জিহান আরো বলেন, এই প্রজেক্টকে আরো বড় করার ইচ্ছে আছে। আগামী বছর ৫০ থেকে ৬০ টি গরুর প্রজেক্ট করবো। এখন আমার এখানে দুইজন লোক কাজ করে। খামার বড় হলে আমার স্বপ্নপূরণ হবে পাশাপাশি অনেক লোকের কর্মসংস্থানও হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here