ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্বে চবির ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার

 চবি  প্রতিনিধিঃচট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের (চবি) রেজিস্ট্রার পদে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন সমাজতত্ব বিভাগের অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান। গত ৩০ জুন বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ হোসেনের মেয়াদ শেষ হয়। এরপর সে দফতরেও ভারপ্রাপ্ত হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন অধ্যাপক মনিরুল হাসান।

এদিকে, সমাজতত্ত্ব বিভাগের শিক্ষক প্রধান প্রকৌশলীর ভারপ্রাপ্ত দায়িত্ব নেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে চলছে নানান সমালোচনা।

জানা যায়, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় কর্মচারী অবসর/গ্র্যাচুইটি বিধি ১৯ (বি) অনুসারে প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ হোসেনের চাকরির মেয়াদ ৩০ জুন ২০২১ শেষ হয়েছে। তাই বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে অবসর গ্রহণ করতে বলা হয়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রকৌশল দফতরের সংশ্লিষ্টরা জানান, গত ৩০ জুন মেয়াদ শেষ হয় প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ হোসেনের। তারপরও তিনি ওই দফতরে নিয়মিত অফিস করছেন কিন্তু দফতর সংশ্লিষ্ট কাগজগুলোতে স্বাক্ষর করছেন ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান জানান, আমি মূল দায়িত্ব পালন করছি না। প্রধান প্রকৌশলী না থাকলে রুটিন কাজগুলো রেজিস্ট্রারকে পালন করতে হয়। আমি শুধু সে দায়িত্বটুকুই পালন করছি। যেমন গতকাল ওই দফতরের কর্মকর্তা কর্মচারীদের বেতন বোনাস সম্পর্কিত যে চেকটি দিতে হয়েছে তাতে প্রধান প্রকৌশলী না থাকায় আমাকেই স্বাক্ষরটি করতে হয়েছে। যতোদিন প্রধান প্রকৌশলী নিয়োগ হচ্ছে না ততোদিন রুটিন কাজগুলো আমাকে পালন করতে হচ্ছে। আমার প্রধান প্রকৌশলীর দায়িত্ব নেয়ার কোনো শখ বা ইচ্ছে নেই।

প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ হোসেনের মেয়াদ শেষ হবার পরও অফিস করছেন কিনা জানতে চাইলে রেজিস্ট্রার (ভারপ্রাপ্ত) অধ্যাপক এসএম মনিরুল হাসান জানান, অবসরে গেলেও যেহেতু তিনি দীর্ঘদিন যাবৎ দফতরের দায়িত্ব পালন করেছেন উনার উপর অর্পিত দায়িত্বগুলো বুঝিয়ে দিতে তিনি দফতরে আসতে পারেন। তবে তিনি অফিস করছেন না।

জানা যায়, ৩০ জুন দায়িত্ব শেষ হবার পর সর্বশেষ গত রোববার, সোমবার ও মঙ্গলবার দফতরে এসেছিলেন প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ হোসেন।

এবিষয়ে জানতে চাইলে অবসরপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মোহাম্মদ আবু সাঈদ হোসেন বলেন, আমার মেয়াদ শেষ হয়েছে। তাই আমি অবসরে আছি। সেখানে কে দায়িত্ব নিছেন সেটা আমি জানি না।

এদিকে, চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের ৬ষ্ঠ একাডেমিক ভবন (২য় কলা ও মানববিদ্যা অনুষদ) নির্মাণ প্রকল্পের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতি অযোগ্যতা ও অদক্ষতার প্রমাণপ্রাপ্ত হওয়ায় শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করতে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) কমিটি কতৃক সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। গত ১১ জানুয়ারি দুদকের পক্ষ থেকে প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বলা হলেও ৭ মাসে কোনো ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here