ছবি হাতে কেঁদে কেঁদে নিখোঁজদের সন্ধান চাইছেন স্বজনরা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃসজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় নিখোঁজদের সন্ধান পেতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে দাঁড়িয়ে আছেন স্বজন ও পরিবারের লোকজনরা। তারা ছবি হাতে কেঁদে কেঁদে নিখোঁজদের সন্ধান চাইছেন।

শুক্রবার বিকেল থেকে রাত ৯ টা পর্যন্ত এ চিত্র দেখা গেছে।

বৃহস্পতিবার নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় ৫০ জনের অধিক আগুন পুড়ে মারা গেছেন। অগ্নিকাণ্ডের প্রায় ২৪ ঘণ্টা ও আত্নীয় স্বজনের সন্ধান পায়নি অনেক পরিবার। তাই স্বজনের সন্ধানে ছবি হাতে নিয়ে ঘুরছে পরিবারের লোকজন।

স্ত্রী তার স্বামীর, মা তার ছেলের, বোন তার ভাইয়ের, মামা তার ভাগনের, স্বামী তার স্ত্রীর খোঁজে ছবি হতে নিয়ে আহাজারি করছেন মানুষের দ্বারে দ্বারে।

মৌলভীবাজার পর ভাচন্দ্র বর্মন তার স্কুল পড়ুয়া মেয়েকে অভাবের কারনায় কাজে দিয়েছেন। মেয়ে কম্পা রানী বর্মনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় শোনে লকডাউনের মধ্যে শতবাধা পেরিয়ে করে তার মেয়ের লাশের জন্য ছুটে এসেছেন। তার আকুতি আমার মেয়েকে এক নজর দেখতে চাই। করোনার মধ্যে সংসারে অভাব থাকায় পড়াশোনা রেখে গত ১ জুলাই হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডে ৪ হাজার ৮০০ টাকা মজুরিতে চাকরি করতে দেন বাবা পরভা চন্দ্র।

হাসনাইন নামের ১৩ বছর বয়সী ছোট্ট ভাইয়ের লাশ খুঁজতে এসেছে তার কিশোরী বোন তানিয়া। হাসনাইনের ছবি হাতে নিয়ে সে বলতে থাকে, আমার ভাইয়ের লাশটা একটু খোঁজে দেন। এতো মানুষের ভিড়ে কি আমার ভাইকে পাব না।

ভবনের চারতলায় ডিউটিরত নিখোঁজ মহিউদ্দিন  (১৮) খোঁজে আসা তার বোন তানজু মহিউদ্দিনের ছবি নিয়ে মর্গের সামনে দাঁড়িয়ে যাকে পাচ্ছেন তাকেই ছোট ভাইয়ের লাশ খুঁজে দেওয়া আকুতি জানাচ্ছেন।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ লিমিটেডের কারখানায় ছয় মাস আগে চাকরি নেন ফিরোজা বেগম। বৃহস্পতিবার সকালে স্ত্রী ফিরোজার সঙ্গে শেষ কথা হয় স্বামী মো জাহিদের। ছবি হাতে ৪৫ বছরের বয়স্ক লোক খুঁজছেন তার স্ত্রীকে। আমাদের একটা মেয়ে আছে। মেয়েটা মায়ের জন্য কান্না করছে। আমি এখন কি করে তাকে বুঝ দেব?

এই রকম স্ত্রীর, ভাই, বোন, মেয়ের সন্ধান না পেয়ে তাদের ছবি ও জাতীয় পরিচয়পত্র নিয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজে (ঢামেক) ঘুরছেন পরিবারের লোকজন।

নারায়ণগঞ্জের অতিরিক্ত ডিসি শামীম বেপারী সাংবাদিকদের বলেন, লাশগুলো এমনভাবে পুড়ে গেছে যে পরিচয় শনাক্তের জন্য ডিএনএ পরীক্ষা করতে হবে। মৃত ব্যক্তিদের স্বজনদের ডিএনএ নমুনা দেওয়ার জন্য ঢাকা মেডিকেলের মর্গে আসতে বলা হয়েছে। ডিএনএ পরীক্ষা করার পরেই লাশ হস্তান্তর করা হবে।

ঢাকা মেডিকেল মর্গের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা বাবুল বলেন, নারায়ণগঞ্জ রূপগঞ্জের আগুনের ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৪৮টি লাশের প্যাকেট মর্গে এসেছে। আপাতত লাশগুলো সংগ্রহ করা হয়েছে। প্রতিটি লাশেরই ময়নাতদন্ত করা হবে। ময়নাতদন্তের মাধ্যমে ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা হবে। এরপর আত্মীয়স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here