বাবা-মা হারা একমাত্র ভাইকে খুঁজছেন তাসনুর

নারায়ণগঞ্জ প্রতিনিধি:ছোটবেলায় মাকে হারান তাসনুর বেগম। এক মাস আগে বাবাও না ফেরার দেশে চলে যান। তাসনুরের দুটি সন্তান ছিল, কিন্তু তারাও দুর্ঘটনায় মারা যায়। একমাত্র ভাই মহিউদ্দিনই ছিল তার ভরসা। এখন তাকেও হারাতে বসেছেন তাসনুর।

নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে একটি পোশাক কারখানায় কাজ করতেন তাসনুর। তিন মাস আগে আদরের একমাত্র ভাই মহিউদ্দিনকে রূপগঞ্জে সজীব গ্রুপের অঙ্গ প্রতিষ্ঠান হাশেম ফুড অ্যান্ড বেভারেজ কারখানায় কাজে দিয়েছিলেন তিনি।

সাততলা ভবনের চারতলায় চকলেট বানানোর কাজ করতেন মহিউদ্দিন। বৃহস্পতিবার ওই ভবনের নিচতলায় আগুন লাগার পর থেকে বন্ধ রয়েছে তার মুঠোফোন। অসংখ্যবার ফোন করেও একমাত্র ভাইটির কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। পরে রাতভর ভবনের গেটের বাইরে কেঁদেছেন তাসনুর। তার আরেক চাচাতো ভাই শামীমও নিখোঁজ রয়েছেন।

তাসনুর বেগম বলেন, বাবা-মা আর সন্তানরা মারা যাওয়ার পর একমাত্র ভাইটি ছিল আমার ভরসা। গ্রামের বাড়ি ভোলা থেকে স্থানীয় এক কন্ট্রাকটরের মাধ্যমে তিন মাস আগে এ কারখানায় তাকে চাকরি নিয়ে দেই। সঙ্গে চাচাতো ভাই শামীমও আসে।

তিনি আরো বলেন, কারখানায় আগুনের খবর পেয়ে ভাইদের মোবাইলে ফোন দিয়েছি। প্রথমে মোবাইল বাজলেও তারা ধরেনি। কিছুক্ষণ পর থেকে ফোন বন্ধ পেয়েছি। রাত ৯টা থেকে কারখানায় ও হাসপাতালে খোঁজাখুঁজি করছি। না পেয়ে অপেক্ষা করছি।

তার মতো আগুনে পুড়ে যাওয়া ওই ভবনের চারপাশে অপেক্ষা করছেন স্বজনরা। কেউ কেউ বিলাপ করছেন। আবার অনেকে নীরব হয়ে বসে রয়েছেন। আবার কখনো ফায়ার সার্ভিসের সদস্যদের কাছে তথ্যের জন্য ছুটে যাচ্ছেন।

বৃহস্পতিবার বিকেল ৫টার দিকে রূপগঞ্জের ভুলতার কর্ণগোপ এলাকায় হাশেম ফুডস অ্যান্ড বেভারেজ কোম্পানির কার্টন কারখানায় এ আগুন লাগে। আগুন নেভাতে অল্প সময়ের মধ্যেই সেখানে ফায়ার সার্ভিসের ১৮টি ইউনিট কাজ শুরু করে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ২৩ ঘণ্টায়ও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here