১০ ঘণ্টা মুরগির খাঁচায় বন্দি করে দুই শিশুকে ইলেকট্রিক শক ও ছ্যাঁকা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃমাত্র ১৫০ টাকা চুরির অপবাদে ১০ ঘণ্টা মুরগির খাঁচায় বন্দি করে দুই শিশুকে ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দিয়ে নির্যাতনের অভিযোগ পাওয়া গেছে।

জানা গেছে, রামু উপজেলার ঈদগড় ইউনিয়নের ঈদগড় বাজারের একটি মুরগির দোকানে গত বৃহস্পতিবার এ ঘটনা ঘটলেও এখন পর্যন্ত কোনো আইনি সহায়তা পাননি ভুক্তভোগীরা। ওই ইউনিয়নের মো. রিফাত করিম নামে এক ব্যক্তি দুই শিশুকে খাঁচায় বন্দি করে মধ্যযুগীয় কায়দায় এ নির্যাতন করে।

অভিযুক্ত রিফাত করিম ঈদগড় ৫নং ওয়ার্ডের মো. শরিফ পাড়ার নেজাম উদ্দীন ছেলে। পুলিশের দাবি, বারবার মামলা করার কথা বলা হলেও ভুক্তভোগীর পরিবার তাতে রাজি হচ্ছে না।

নির্যাতনের শিকার দুই শিশু একই এলাকার প্রতিবন্ধী মো. নুরুল আলমের ছেলে সোহেল (১০) ও রশিদ আহমদের ছেলে ইব্রাহিম (১০)।

নির্যাতনের শিকার শিশু ইব্রাহিম জানায়, তাদেরকে খাঁচায় বন্দি রেখে শরীরের বিভিন্ন অংশে ইলেকট্রিক শক ও জ্বলন্ত সিগারেটের ছ্যাঁকা দেন রিফাত।

সোমবার ঈদগড় ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফিরোজ আহমেদ ভুট্রো ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানান, মাত্র ১৫০ টাকা চুরির অপবাদে শিশু সোহেল ও তার বন্ধু ইব্রাহিমকে সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত টানা ১০ ঘণ্টা খাঁচায় বন্দি রেখে শত শত মানুষের সামনে নির্যাতন করেন রিফাত। ওই মুরগির দোকানের মালিকও এই রিফাত।

অভিযোগ স্বীকার করে রফিত করিম বলেন, দোকান থেকে টাকা চুরি হলে তাদের আমার সন্দেহ হয়। এর প্রেক্ষিতে তাদেরকে ধরে এনে খাঁচায় ঢুকিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করি। এক পর্যায়ে সোহেল তিনশ টাকা চুরি করেছে বলে স্বীকার করে।

রামু থানার ওসি আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, শিশু নির্যাতনের ভিডিও ক্লিপ দেখে আমি স্বপ্রণোদিতভাবে আমার একজন অফিসারকে ওই এলাকায় পাঠিয়েছিলাম। কিন্তু নির্যাতিত শিশুদের পরিবার কিছুতেই মামলা করতে রাজি হচ্ছে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here