আবাসিক হোটেলে নিয়ে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ, নূরের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি

নোয়াখালী প্রতিনিধি:নোয়াখালীর সোনাইমুড়ীর রওনক আবাসিক হোটেলে দশম শ্রেণির স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণের ঘটনায় গ্রেফতারকৃত মো. শরীফুল ইসলাম নূর ১৬৪ ধারায় আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

গতকাল সোমবার নোয়াখালী চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের ৬ নম্বর আমলি আদালতে জবানবন্দি রেকর্ড শেষে আসামিকে কারাগারে পাঠানো হয়। এর আগে সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) ও মামলার তদন্ত কর্মকর্তা জিসান আহমেদ নূরকে আদালতে হাজির করে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করার আবেদন করেন। বিকেল ৪টার দিকে নূরের জবানবন্দি রেকর্ড শেষ হয়।

মঙ্গলবার সন্ধ্যায় সোনাইমুড়ী থানার পরিদর্শক (তদন্ত) জিসান আহমেদ এ তথ্য নিশ্চিত করেন।

তিনি আরো জানান, আসামি নূর স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করার কথা আদালতের কাছে স্বীকার করেছেন। সেদিন যা যা ঘটেছিল, তা সবিস্তারে আদালতকে জানিয়েছেন।

গত রোববার দুপুর ১২টার দিকে সোনাইমুড়ী পৌরসভার রওনক হোটেলে স্কুলছাত্রীকে ধর্ষণ করে মো.শরীফুল ইসলাম নূর। পরে ওই ছাত্রীকে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় প্রথমে স্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে, পরে রাত সাড়ে ১১টার দিকে নোয়াখালীর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় পুলিশ গত রোববার রাতেই ঘটনার মূলহোতা শরীফুল ইসলাম নূর ও হোটেলের ম্যানেজার দ্বীন মোহাম্মদকে গ্রেফতার করে।

জানা গেছে, ওই কিশোরী চাটখিল উপজেলার একটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী। অভিযুক্ত শরীফুল ওই ছাত্রীকে প্রেম নিবেদনসহ নানা কুপ্রস্তাব দিতেন। গতকাল ছাত্রী অ্যাসাইনমেন্টের খাতা জমা দিতে বিদ্যালয়ে যায়। বাড়ি ফেরার পথে শরীফুল তাকে অপহরণ করে কৌশলে সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে হোটেলে নিয়ে যান। সেখানে এ ধর্ষণের ঘটনা ঘটে। পরে কিশোরীর অতিরিক্ত রক্তক্ষরণ হলে শরীফুল তাকে প্রথমে সোনাইমুড়ীর একটি বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করেন। মেয়েটির পরিস্থিতির অবনতি হলে শরীফুল পালিয়ে যান। পরে  রোববার রাতে পুলিশ মেয়েটিকে উদ্ধার করে নোয়াখালী জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করে এবং রাতে ওই স্কুলছাত্রীর মামা দুইজনের নাম উল্লেখ করে এবং অজ্ঞাত ২-৩ জনকে আসামি করে নারীও শিশু নির্যাতন দমন আইনে সোনাইমুড়ী থানায় মামলা দায়ের করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here