তীব্র অক্সিজেন সংকট, চিন্তিত সরকার

নিজস্ব প্রতিনিধিঃদেশে করোনা ভাইরাসের সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে।গত ২৪ ঘণ্টায় সর্বোচ্চ রেকর্ড হয়েছে শনাক্তে। আক্রান্ত হয়েছেন ৮ হাজার ৩৬৪ জন মানুষ। নমুনা পরীক্ষার অনুপাতে রোগী শনাক্তের হার ২৩ দশমিক ৮৬ শতাংশ। মৃত্যু হয়েছে ১০৪ জনের। এমন পরিস্থিতেতে আগামী ১ জুলাই থেকে কঠোর বিধিনিষেধ দিতে যাচ্ছে সরকার। যা কার্যকরে মাঠে নামানো হবে খোদ সেনাবাহিনীকে।

এদিকে সংক্রমণের এই উর্ধ্বগতিতে মানুষকে নিয়ন্ত্রণে রাখার পাশাপাশি আরও একটি বিষয় নিয়ে বেশ চিন্তিত সরকার। সেটি হচ্ছে অক্সিজেন।

সংক্রমণ বাড়লে দেখা দিতে পারে অক্সিজেন সংকট। তাই যেকোনো পরিস্থিতি মোকাবিলায় আগে থেকেই অক্সিজেন নিয়ে ভাবছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। এরইমধ্যে বিভিন্ন শিল্প-কারখানা ও অক্সিজেন সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করেছে তারা। তবে সংকট এড়াতে করোনার বিস্তার কমিয়ে আনার ওপর জোর দেয়া হচ্ছে।

অক্সিজেনের বিষয়টি নিয়ে কথা বলেছেন স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মুখপাত্র ও জাতীয় রোগ নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্রের লাইন ডিরেক্টর অধ্যাপক ডা. রোবেদ আমিন।

সোমবার (২৮ জুন) তিনি বলেন, দেশে যে পরিমাণ অক্সিজেন উৎপাদন হয় এটা দিয়ে এখন চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে করোনা রোগী বেড়ে গেলে অক্সিজেন সংকট দেখা দিতে পারে।

রোবেদ আমিন বলেন, প্রতিবেশী ভারতে করোনার সংক্রমণ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ার সময় দেশটিতে অক্সিজেন সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছিল। অক্সিজেনের অভাবে মারা গেছে অনেক রোগী। দেশে এমন পরিস্থিতি যাতে তৈরি না হয় সে ব্যাপারে সরকার আগে থেকেই সর্তক অবস্থায় রয়েছে।

বর্তমানে অক্সিজেনের চাহিদা কেমন- এ প্রশ্নের জাবাবে তিনি বলেন, সারাদেশে অক্সিজেনের চাহিদা ১২০ থেকে ১৫০ টনের মতো। তবে সংক্রমণ বাড়লে অক্সিজেনের চাহিদাও বাড়বে। আমরা দেখেছি, এপ্রিল মাসে যখন সবচেয়ে বেশি সংক্রমণ ছিল তখন দৈনিক চাহিদা ছিল প্রায় ১৯০ টন।

তিনি আরও বলেন, আমাদের দেশে যেসব অক্সিজেনের প্ল্যান্ট আছে, সেগুলো যেকোনো সংকট মোকাবিলায় প্রস্তুত। অক্সিজেন উৎপাদন ও সরবরাহকারী দুটি প্রতিষ্ঠানের মধ্যে লিনডে ও ইসলাম অক্সিজেন মেডিকেল অক্সিজেন সরবরাহ করে থাকে। এদের থেকে নিয়েই আমাদের চাহিদা মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তবে সংক্রমণের চাহিদা বাড়ার কারণে অন্যান্য কোম্পানি যারা শিল্প-কারখানার জন্য অক্সিজেন তৈরি করে তাদের সাথেও আমরা যোগাযোগ করছি।

‘আবুল খায়ের গ্রুপের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। এছাড়া কয়েকটি ইস্পাত কোম্পানি শিল্প-কারখানার জন্য অক্সিজেন উৎপাদন করে থাকে এমন কোম্পানির সঙ্গেও স্বাস্থ্য অধিদপ্তরতর যোগাযোগ করছে। আমাদের মহাপরিচালকের নিজস্ব উদ্যোগের কারণে আবুল খায়ের গ্রুপ এগিয়ে আসছে। করোনা সংক্রমণ বাড়লে তাদের অক্সিজেন দিয়েই দেশের অক্সিজেনের চাহিদা মেটানো সম্ভব হবে।’

একইসঙ্গে সংক্রমণ বাড়তে থাকলে হাসপাতালে শয্যাও পাওয়া যাবে না বলে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন রোবেদ আমিন।বলেছেন, সারাদেশে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ যেভাবে বাড়তে শুরু করেছে, এভাবে চলতে থাকলে অচিরেই করোনা হাসপাতালগুলোতে সাধারণ শয্যাও পাওয়া যাবে না।গত মাসের তুলনায় সংক্রমণের সংখ্যা বহুগুণ বৃদ্ধি পেয়েছে। হাসপাতালগুলোতে আবারও করোনা আক্রান্ত রোগীদের ভিড় আমরা দেখতে পাচ্ছি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here