গরিবের দোকান, কিনতে পয়শা লাগে না

সাইফুল রহিমঃ মানুষ মানুষের জন্যে, জীবন জীবনের জন্যে, একটু সহানুভূতি কি, মানুষ পেতে পারে না; ও বন্ধু’ বিখ্যাত সংগীতশিল্পী ভূপেন হাজারিকার সেই কালজয়ী গান ‘মানুষ মানুষের জন্যে’ আজও মানুষের হৃদয়ে নাড়া দেয়। আজও মানুষকে ভাবায়। মানুষের চেতনাকে শাণিত করে; জাগিয়ে তোলে। ভূপেন হাজারিকা আমাদের মাঝে নেই। আছে তাঁর গান। মানুষ বিপদাপন্ন হলে এই গান যেন আরো বেশি করে আমাদের মাঝে ফিরে ফিরে আসে। আমরা মানুষ হয়ে অসহায় মানুষের পাশে কি দাঁড়াচ্ছি? অবশ্যই অনেকে দাঁড়াচ্ছেন। দখিনের জনপদে মানুষের পাশে দাড়ানো তেমন একজন ব্যক্তি মোঃ নুরুল ইসলাম।আপনার বাসায় পরে থাকা একটি পুরনো কাপড় হাসি ফোটাতে পারে একজন অসহায়ের মুখে এমন শ্লোগান নিয়ে আত্মমানবতার সেবায় বরিশাল বাবুগঞ্জ কেদারপুর ইউনিয়নের মোঃ নুরুল ইসলাম কোন স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন নয় বরং একান্ত ব্যক্তিগত উদ্যোগে তার এ কর্মকাণ্ড পরিচালনা করা। ব্যক্তি জীবনে একজন ব্যাংক কর্মকর্তা হয়েও শুক্র-শনিবার ছুটির দিনে নেমে পড়েন অসহায় মানুষের জন্য একটি হেন্ডমাইক ও পুরাতন কাপড় চোপড় সহ গড়িবের দোকান নিয়ে। নিজেকে পরিচয় দেন গরিবের দোকানে খাদেম হিসাবে। ধনি ও মধ্যবিত্ত পরিবারের অপ্রোজনীয় কাপড়চোপড় সংগ্রহ করে গড়ে তোলেন গরিবের দোকান। তাকে এ কাজে সহযোগিতা করেন তার সহকর্মী সহ সমাজের অনেক বিত্তবান ও মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকজন, নতুন পুরাতন কাপড়চোপড় সহ নগত অর্থ অনেকই দিয়ে থাকেন জাকাত ফিতরার টাকা দেশ বিদেশ এর বিভিন্ন স্থান থেকে । প্রায এক বছর আগে শুরু করা এই দোকান ইতিমধ্যেই সাড়া ফেলেছে মানুষের মাঝে। মানবিক সমাজ গড়তে এই উদ্যোগকে ছড়িয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন এ উদ্যোক্তা। মোহাম্মদ নুরুল ইসলাম থাকেন রাজধানীর কেরানীগঞ্জ। ১ছেলে ১ মেয়ে স্ত্রী ও মা নিয়ে সুখের ছোট্ট সংসার তার। তিনি জানান কিশোর বয়স থেকেই সমাজের অসহায় মানুষদের প্রতি টান অনুভব করতেন তিনি কিন্তু ব্যাক্তিগত তেমন বিত্ত-বৈভব না থাকায় সমাজের জন্য তেমন কিছু করতে না পারার আক্ষেপ ছিল তার। চাকরির বেতনে সংসার চালানোই যেখানে হিমশিম অবস্থা সেখানে কিভাবে অসহায় মানুষদের পাশে দাঁড়ানো যায়, সে চিন্তায় মঝে-মধ্যেই অস্থিয় হয়ে উঠতেন। একদিন হঠাৎ তার মনে হলো বাড়তি টাকা নেই তাতে কি? আত্মীয়-স্বজনের কাছ থেকে গিফট হিসাবে পাওয়া বাচ্চাদের বেশ কিছু কাপড় অব্যবহৃত পড়ে আছে। কাপড়গুলো বাসায় শুধুশুধুই জায়গা দখল করে আছে। এগুলো দিয়েই তো তার চিন্তার বাস্তবায়ন শুরু করা যায়। যেই চিন্তা সেই কাজ। নিজের ঘরের বাড়তি কাপড় জুতা ও পাতলা পঁচিশটি কম্বল নিয়ে ২০২০ সালের ১৬ ডিসেম্বর মহান বিজয় দিবসে নেমে পড়লেন রাস্তায়। রাস্তার পাশের ত্রিপল বিছিয়ে কাপড়গুলো সাজিয়ে বসলেন পেছনে একটি ব্যানার তালে লেখা গরিবের দোকান কিনতে পয়সা লাগে না । নুরুর ইসলাম জানান ব্যাপক সাড়া পেলাম রিকশাওয়ালা ও দিনমজুরদের অনেকেই তাদের প্রয়োজন মতো নিয়ে গেল। মাত্র ১৫ মিনিটে আমার ৫০ সেট কাপড় আর ২৫টি কম্বল শেষ হয়ে গেল। এই মানুষগুলোর তৃপ্তির হাসি আমাকে আন্দোলিত করল। এরপর আত্মীয়-স্বজনদের কাপড় সংগ্রহ করে আবারও বসলাম। সেগুলোই বিতরণ হয়ে গেল। এমন কাজে নিজেকে জড়াতে পেরে ধন্য মনে হল। বিষয়টি আত্মীয়-স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে শেয়ার করার পর তারাও এগিয়ে এল। অনেকেই কাপড় পাঠাতে শুরু করল। বন্ধের দিনগুলোতে ঢাকার কেরানীগঞ্জের বিভিন্ন জায়গায় দোকান নিয়ে বসি। বিনে পয়সার এই দোকানের এখন অনেক ক্রেতা। তাদের দোয়া আর ভালোবাসায় অন্যরকম সুখ অনুভব করেন নুরুল ইসলাম। তিনি জানান, গেল ঈদুল ফিতরে গরিবের দোকানের নতুন সংযোজন করেছেন গরিবের ঈদ বাজার। তার এই কাজে অনেকেই সহায়তার হাত বাড়িয়েছেন সবার সমন্বিত প্রচেষ্টায় গরিবের দোকান এখন প্রতিষ্ঠিত। তাই উল্লেখ যোগ্যসংখ্যক মানুষকে ঈদ বাজার দেয়া সম্ভব হয়েছে। এভাবেই একদিন এই প্রচেষ্টাকে এগিয়ে দেশজুড়ে ছড়িয়ে দেযার স্বপ্ন দেখেন নুরুল ইসলাম। তার আশা সবাই মিলে চেষ্টা করলে মানবিক দেশ হিসেবে বিশ্বে মাথা উচু করে দাঁড়াবে বাংলাদেশ। নিজেদের আলোকিত ও পূর্ণাঙ্গ মানুষ হিসেবে গড়ে তুলবো। তাঁর মেধা প্রজ্ঞা ও চিন্তাধারা দিয়ে এই জনপদের সত্যিকারের মানুষ ও দেশপ্রেমিক হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করে যাবেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here