মিন্নির দাঁতে ব্যাথা, রাতে ঘুমাতে পারেন না

নিজস্ব প্রতিনিধিঃবহুল আলোচিত বরগুনার রিফাত হত্যাকাণ্ডের দুই বছর পূর্তি হলো আজ। ২০১৯ সালের ২৬ জুন বরগুনা সরকারি কলেজের সামনে বন্ড বাহিনীর হামলায় নিহত হন শাহ্ নেওয়াজ রিফাত শরীফ। এ ঘটনায় নিহত রিফাতের স্ত্রী আয়েশা সিদ্দিকা মিন্নিকে হত্যাকাণ্ডের প্রধান পরিকল্পনাকারী উল্লেখ করে ফাঁসির আদেশ দেন আদালত। ২০২০ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর বরগুনা জেলা ও দায়রা জজ আদালত এ রায় দেন। রায় ঘোষণার পর থেকেই কারাগারে আছেন মিন্নি।

এদিকে বহুল আলোচিত এ হত্যা মামলার রায় ঘোষণার ৯ মাস পরও মিন্নিকে নির্দোষ দাবি করেছেন তার বাবা মো. মোজাম্মেল হোসেন কিশোর।

তিনি বলেন, মিন্নিকে যে দোষী সাব্যস্ত করা হলো, ওকে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত করা হলো, এটা অন্যায়ভাবে করা হয়েছে। মিন্নি কোনোভাবেই দোষী না এবং ও (মিন্নি) কোনো পরিকল্পনার সঙ্গে জড়িত ছিল না।  এটা কেউ প্রমাণও করতে পারেনি। কুচক্রী মহল মিন্নিকে এই মামলায় জড়িয়ে ফাঁসির দণ্ডে দণ্ডিত করেছে। মিন্নিও আমার কাছে বলেছে, ‘আব্বু আমি দোষী না। আমি সম্পূর্ণ নির্দোষ। উচ্চ আদালতে আমি বেকসুর খালাস পাব। সত্যের জয় একদিন হবেই।’

তিনি আরও বলেন, আদালত রায়ে উল্লেখ করেছে- মিন্নি এ হত্যাকাণ্ডের পরিকল্পনাকারী। কিন্তু মিন্নি কোথায় পরিকল্পনা করেছে? পরিকল্পনা যারা করেছে তারা কলেজসহ বিভিন্ন স্থানে পরিকল্পনা করেছে। কিন্তু এসবের সঙ্গেতো মিন্নি ছিল না। মিন্নি যদি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত থাকত বা কোনোভাবেই এটা জানতে পারত তাহলে কখনোই ওই দিন কলেজে যেত না।

মিন্নির শারীরিক অবস্থা নিয়ে মোজাম্মেল হোসেন কিশোর বলেন, মিন্নির দাঁতে ব্যথা ও মাথা ব্যথাসহ অন্যান্য অনেক উপসর্গ আছে। মিন্নি খেতে পারে না, ঘুমাতে পারে না। সব সময় অসুস্থ থাকে। তাই খুবই দুর্বল হয়ে গেছে। কারাগারের পানি পর্যন্ত ওর সঙ্গে অ্যাডজাস্ট হয় না। মিন্নির চিকিৎসার জন্য সংশ্লিষ্ট দফতরে আবেদন করেছে কারা কর্তৃপক্ষ। এ আবেদন অনুমোদিত হলে মিন্নিকে বাহিরে হাসপাতালে চিকিৎসা দেওয়া হবে।

রিফাত হত্যা মামলার রায়ের পর গত বছরের ২৯ অক্টোবর বরগুনা জেলা কারাগার থেকে মিন্নিকে গাজীপুরের কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়। এরপর থেকে এ কারাগারেই রয়েছেন তিনি। করোনার কারণে বন্দীদের সঙ্গে স্বজনদের সাক্ষাৎ বন্ধ থাকায় প্রতি সপ্তাহে একবার স্বজনদের সঙ্গে কথা বলার সুযোগ পান মিন্নি।

মিন্নির অসুস্থতা ও চিকিৎসার বিষয়ে জানতে কাশিমপুর মহিলা কেন্দ্রীয় কারাগারের সিনিয়র জেল সুপার হালিমা খাতুনের ব্যবহৃত সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তা বন্ধ পাওয়া যায়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here