খানাখন্দের সড়কে ভোগান্তি চরমে

জাকারিয়া চৌধুরী, হবিগঞ্জ:হবিগঞ্জ-ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি খানাখন্দের কারণে বেহাল দশায় পরিণত হয়েছে। খানাখন্দে ভরা এই সড়ক এখন যান চলাচলের অনুপযোগী হয়ে উঠেছে। বৃষ্টি এলে সড়কটির অবস্থা আরো শোচনীয় হয়ে পড়ে।

বৃষ্টির মৌসুমে সড়কটির অধিকাংশ ছোট-বড় খানাখন্দ পানিতে তলিয়ে থাকার কারণে ঘটছে দুর্ঘটনা ও সৃষ্টি হচ্ছে যানজট। সড়কে ভোগান্তি এখন চরম আকার ধারণ করছে।

সড়কের বিভিন্ন পয়েন্টে গিয়ে দেখা যায়, সড়কটির ছোট ছোট খানাখন্দগুলো এখন বড় আকার ধারণ করে মরণ ফাঁদে পরিণত হয়েছে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো স্থানে দুর্ঘটনার শিকার হচ্ছেন সাধারণ যাত্রীরা।

জানা যায়, হবিগঞ্জ-ইকরাম ১৫ কিলোমিটার আঞ্চলিক সড়কটি জেলা শহরের সঙ্গে যোগাযোগের একমাত্র অন্যতম মাধ্যম। এ সড়কটি দিয়ে প্রতিদিন বানিয়াচং উপজেলা ও পার্শ্ববর্তী কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম উপজেলার প্রায় শত-শত যানবাহন যাতায়ত করে থাকে। এছাড়াও পণ্যবাহী যানগুলোও এ সড়কটি ব্যবহার করে থাকে। তাই সড়কটি খানাখন্দে পরিণত হওয়ায় একদিকে যেমন ভোগান্তির শিকার হতে হচ্ছে সাধারণ জনগণকে অন্যদিকে মালবাহী যান চলাচলে বিলম্ব হচ্ছে। তাই অচিরেই যেন সড়কটি সংস্কার করা হয় তার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসীসহ ব্যবসায়ীরা।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ক্রাইমফোকাস ডট নেট

ভোক্তভোগীরা ক্ষোভ প্রকাশ করে জানান, বানিয়াচং উপজেলার মক্রমপুর, সুজাতপুর, মন্দরী, মুরাদপুর, পৈলারকান্দি, নোয়া পাথারিয়া, হিয়ালা, কাকিয়ারআব্দা, টুপিয়াজুড়ি, সাঙ্গর, সুজাতপুর, রহমতপুর, গানপুর, মাখনিয়া, রায়পুর, আগুয়া, বিয়জপুর, বাগতলা, বাল্লা মধুপুর, বিথঙ্গল, পাহারপুর ও কিশোরগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার হাজার হাজার মানুষ প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে চলাচল করছে। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে হবিগঞ্জ, সিলেট, মৌলভীবাজারসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যাতায়াত করছেন তারা। ভাটি অঞ্চলের মানুষের যাতায়াতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ এই সড়কটি দীর্ঘদিন ধরে বেহাল অবস্থা পড়ে থাকলেও সংস্কার করা হচ্ছেনা। তাই এ বিষয়ে দ্রুত পদক্ষেপ গ্রহণ করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষসহ এমপি অ্যাডভোকেট আব্দুল মজিদ খানের দৃষ্টি কামনা করেন তারা। এদিকে, জরুরি ভিত্তিতে সড়কটি সংস্কারের দাবিতে ‘হবিগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন’-এর ব্যানারে হবিগঞ্জ থেকে সুজাতপুর পর্যন্ত পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছে সংগঠনটি।

মোতাহের হোসেন নামে এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, দীর্ঘদিন ধরে সড়কটি বেহাল দশায় পরিণত হলেও সড়কটি যেন দেখার কেউ নেই। সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। ফলে বৃষ্টির দিনে ওইসব গর্তে দুর্ঘটনা ঘটছে। আমরা এলাকাবাসী দীর্ঘদিন ধরে সংস্কারের জন্য জানালেও কোনো ব্যবস্থাই নিচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। তাই সড়কটি যেন দ্রুত মেরামত করা হয় তার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে জোর দাবি জানাই।

মামুন আহমেদ নামে আরেকজন জানান, হবিগঞ্জ ইকরাম আঞ্চলিক সড়কটি আমাদের যাতায়াতের একমাত্র রাস্তা। সড়কটি সংস্কার না হওয়ায় আমাদের দুর্ভোগ এখন চরম আকারে পৌঁছেছে।

শাহীন আহমেদ নামে এক ব্যক্তি জানান, সড়কটির অবস্থা এখন এমন হয়েছে যে এ সড়ক দিয়ে রোগীদের আনা-নেয়া করাই মুশকিল হয়ে পড়েছে। ধীরে ধীরে গাড়ি চালিয়ে আসলেও রোগীরা আরো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। এছাড়াও ঝাঁকুনির কারণে গর্ভবর্তী মায়েদের এ সড়ক দিয়ে আনা তো এখন কষ্টসাধ্য হয়ে পড়েছে।

ছবি: ডেইলি বাংলাদেশ

ছবি: ক্রাইমফোকাস ডট নেট

হবিগঞ্জ সম্মিলিত নাগরিক আন্দোলন-এর সদস্য সচিব আবু হেনা মোস্তফা কামাল জানান, সড়ক সংস্কারের দাবিতে আমারা পদযাত্রা কর্মসূচি পালন করেছি। বিভিন্ন বাজার বা পয়েন্টে আমরা পথসভা করেছি। আমরা জনগণকে সঙ্গে নিয়ে দ্রুত এ রাস্তাটি সংস্কারের জোরালো দাবি জানিয়েছি।

হবিগঞ্জ জেলা কমিউনিস্ট পার্টির সাধারণ সম্পাদক পীযূষ চক্রবর্তী বলেন, পদযাত্রা কর্মসূচি থেকে সড়ক সংস্কারের জন্য কর্তৃপক্ষকে আল্টিমেটাম (সময়সীমা) দেওয়া হয়েছে। জনগণের কষ্ট দূর করতে এরমধ্যে সড়ক সংস্কার না হলে পরবর্তীতে কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।

হবিগঞ্জ এলজিইডি’র সিনিয়র সহকারী প্রকৌশলী মো. শফিকুল ইসলাম জানান, সড়কটি মেরামতের জন্য উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামী কয়েক মাসের মধ্যই কাজ শুরু করা হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here