জনতার ‘ধাওয়া খেয়ে’ যা বললেন এমপি আক্তারুজ্জামান

নিজস্ব প্রতিনিধিঃখুলনার কয়রা উপজেলায় বাঁধ মেরামতে নিয়োজিত স্বেচ্ছাসেবী জনগণের ধাওয়া খেয়েছেন স্থানীয় সংসদ সদস্য আক্তারুজ্জামান বাবু।

মঙ্গলবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে দশহালিয়ার ভাঙনকবলিত বেড়িবাঁধে ট্রলার নিয়ে পরিদর্শনে গেলে স্থানীয়রা তাকে তীরে ভিড়তে বাধা দেন। এ সময় উত্তেজিত জনতা তার ট্রলার লক্ষ্য করে ঢিল ও কাদা ছোড়েন।

উপায়ন্তর না পেয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন সংসদ সদস্য। অবশ্য পুলিশ প্রহরায় তিনি ফের এলাকায় যান।

এ বিষয়ে এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু বলেন, এখানকার মানুষ দীর্ঘদিন ধরেই কষ্টের মধ্যে রয়েছে। তাদের দাবি টেকসই বেড়িবাঁধ। আমি নেমে তাদের কথার উত্তর দেই। এরপর তাদের শুকনো খাবার দেই। তবে কাদা ও ঢিল ছুড়ে মারার বিষয়টি তিনি অস্বীকার করেন।

স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, মঙ্গলবার সকাল থেকেই মহারাজপুর ইউনিয়নের দশহালিয়া এলাকায় বাঁধ মেরামতের কাজ করছিলেন স্থানীয় জনগণ। এর আগে গত এক সপ্তাহ কাজ করেও ওই ভাঙন মেরামত করতে পারেননি স্বেচ্ছাসেবীরা। ভাঙনের কারণে মহারাজপুর, পার্শ্ববর্তী বাগালী ইউনিয়নের অন্তত ২৫টি গ্রাম প্লাবিত হয়েছে। এতে চরম দুর্ভোগে পড়েন ওই এলাকার মানুষ।

গত কয়েক দিনের চেষ্টার পর মঙ্গলবার সকাল থেকেই কাজ শুরু করেন স্থানীয় জনগণ। বেলা সাড়ে ১১টার দিকে খুলনা-৬ আসনের (কয়রা-পাইকগাছা) এমপি আক্তারুজ্জামান বাবু ট্রলার নিয়ে কপোতাক্ষ নদী ধরে দশহালিয়ার ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে যান। তার ট্রলারটি নদীতীরে লাগানোর আগেই স্থানীয় লোকজন উত্তেজিত হয়ে পড়েন। ক্ষুব্ধ জনগণ ঢিল ও কাদা ছুড়ে মারেন এমপির দিকে।

এ সময় তার ট্রলারে কয়রা থানার ওসি রবিউল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন। মানুষ প্রায় ১৫ মিনিট ধরে বৃষ্টির মতো কাদা ছুড়ে মারেন ট্রলার লক্ষ্য করে। এ সময় মাইকে বারবার কাদা ছোড়া থেকে নিবৃত করার চেষ্টা করলেও তাতে ব্যর্থ হন। একপর্যায়ে উপায়ন্তর না পেয়ে এমপি ট্রলার নিয়ে সেখান থেকে সটকে পড়েন।

মানুষের ছোড়া কাদায় এমপির শরীর জবুথবু হয়ে পড়ে। এ সময় প্রায় ঘণ্টাব্যাপী মানুষ কাজ বন্ধ রাখেন। এরপর উত্তেজিত জনতা শান্ত হলে পুলিশ প্রহরায় এমপি ভাঙন এলাকায় যান।

এ সময় এমপি বাবু বাঁধ মেরামতে নিজের ব্যর্থতা স্বীকার করে বলেন, দুর্বল বেড়িবাঁধের কারণে এ অঞ্চলের মানুষ ভোগান্তিতে রয়েছেন। আমরা চেষ্টা করছি টেকসই বাঁধ মেরামতের। আপনারা শান্ত হোন; খুব শিগগিরই মজবুত বাঁধ নির্মাণ করা হবে। এরপর তিনি নিজে কাজে নেমে পড়েন। তবে তার কাজে যোগ দেওয়ায় অধিকাংশ লোকজন ঘটনাস্থল থেকে চলে যান।

এমপির ওপর কাদা ছোড়া ঘটনার ২ মিনিটের একটি ভিডিও প্রকাশ হয়েছে। তাতে দেখা গেছে- মানুষ বৃষ্টির মতো ঢিল-কাদা ছুড়ছেন। এক ব্যক্তি মাইকে জনগণকে শান্ত করার চেষ্টা করছেন, তবে সাধারণ মানুষ তা থেকে নিবৃত্ত হচ্ছেন না।

স্থানীয় লোকজন জানিয়েছেন, গত বছর আম্পানের আঘাতের পর দশহালিয়ার ভাঙন মেরামতের কাজ সম্পন্ন করেছে ইউনিয়ন চেয়ারম্যান জিএম আব্দুল্লাহ আল মামুন ও এমপির নিজের লোকজন। তারা কাজ ঠিকভাবে না করে অর্থ আত্মসাৎ করায় এবার আবার ভেঙেছে। ফলে মানুষের দীর্ঘদিনের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে এদিন।

কয়রা উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি জিএম মহসিন রেজা বলেন, এমপি স্থানীয় রাজনীতির শিকার। মাহমুদ আলী নামে একজন আওয়ামী লীগ নেতাকে এ ঘটনার জন্য দায়ী করেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here