৯ মাস পর পুলিশের এসআই আসাদুলের বিরুদ্ধে রহস্যঘেরা মামলা!

ফরহাদ হোসেন ফুয়াদ : ঘটনার প্রায় ৯ মাস পরে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে ছেলের বয়সী একজন পুলিশের এসআই’র বিরুদ্ধে নারী কর্তৃক মামলা দায়েরের ঘটনায় তোলপাড় নগরী। দীর্ঘ প্রায় ৯ মাস কোন ব্যবস্থা না নিয়ে এখন কেন মামলা? এমন প্রশ্নে বরিশাল নগরী জুড়ে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।

আর থানার মত একটি নিরাপদ স্থানে এমন একটি ঘটনা ঘটার পরও র্দীঘ ৯ মাস পযন্ত তা কীভাবে গোপন ছিলো?
গত ২৪ মে বরিশাল নারী ও শিশু নির্যাতন অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালে শ্লীলতাহানির অভিযোগ এনে সাগরদী ধান গবেষণা এলাকার এক নারী বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানার উপ-পরিদর্শক আসাদুল ইসলামের বিরুদ্ধে একটি মামলা করেন।

মামলায় ঐ নারী উল্লেখ করেন, প্রতিবেশীর সঙ্গে জমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর তিনি বরিশাল কোতোয়ালী মডেল থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সাধারণ ডায়েরি তদন্তের দায়িত্ব দেয়া হয় উপ-পরিদর্শক আসাদুলকে। একই বছরের ১৬ অক্টোবর সাধারণ ডায়েরি তদন্তের জন্য ওই নারীকে থানার একটি কক্ষে ডেকে নানা অজুহাতে তাকে দীর্ঘ সময় বসিয়ে রাখা হয়। এক পর্যায়ে পুলিশের এসআই আসাদুল ওই নারীর স্পর্শকাতর স্থানে স্পর্শ করেন ও ঘাড়ে চুমু দেন।

ওই নারীর আইনজীবী আসাদুজ্জামান হাওলাদার বলেন, ‘আদালত অভিযোগটি তদন্তের জন্য পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) নির্দেশ দিয়েছেন।’

অপরদিকে অভিযুক্ত এসআই আসাদুলের সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, ‘অভিযুক্ত নারী আমার মায়ের বয়সী। এমনকি ওই নারীর ছেলেও তার সময় বয়সী। কি কারণে তিনি আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ এনে মামলা করেছেন, তা আমার বোধগম্য না।

এদিকে ‘দীর্ঘ ৯ মাস কোন ব্যবস্থা না নিয়ে হঠাৎ মামলা কেন করলেন’ এমন প্রশ্ন করলে তার সন্তোষজনক কোন উত্তর দিতে পারেননি অভিযোগ দায়ের করা ঐ নারী।

কোতোয়ালী মডেল থানার ওসি মো. নুরুল ইসলাম  বলেন, ‘এসআই আসাদুলের বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলায় যে সকল বিষয় উল্লেখ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা।

 

’ কারণ হিসাবে এই পুলিশ কর্মকর্তা জানান, এসআই আসাদুলের বিরুদ্ধে যে বিষয় অভিযোগ করা হয়েছে, একই বিষয় গত বছরের ২৭ সেপ্টেম্বর ওই নারী কোতোয়ালী মডেল থানায় অন্য একজনের বিরুদ্ধে একটি সাধারণ ডায়েরি করেন এবং পরবর্তীতে নিজেই আবার অভিযোগ তুলে নেন।

ঘটনার দিন ওই নারীর স্বামী, তার দুলাভাইসহ আরো বেশকিছু আত্ময়ীস্বজন উপস্থিত ছিলেন। এ সময় এমন ঘটনা কোনভাবেই সম্ভব না। এই পুলিশ কর্মকর্তা আরো বলেন, তদন্তর সার্থে থানার সিসি টিভি ফুটেজ দেখলেই বেড়িয়ে আসবে ঘটনার মূল রহস্য।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here