ভয়ংকর প্রেমিকা, অন্তরঙ্গ মুহূর্তের ভিডিওর জন্য কাটলেন গলা

মাদারীপুর প্রতিনিধি:বেয়াই-বেয়াইন থেকেই গড়ে ওঠে প্রেমের সম্পর্ক। হয় শারীরিক সম্পর্কও। কিন্তু অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বেশকিছু ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করেন প্রেমিক। হঠাৎ ঘনিষ্ঠ এ সম্পর্কে ধরে ফাটল। তবে সম্পর্ক ছিন্ন হলেও ভিডিও আর ছবি ফেসবুকে দেয়ার ভয় দেখিয়ে বেয়াইনের সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতেন সাবেক প্রেমিক। তাই বর্তমান প্রেমিককে নিয়ে বেয়াইকে হত্যা করেন সাবেক প্রেমিকা।

ঘটনাটি ঘটেছে মাদারীপুরের শিবচর উপজেলায়। নিহতের নাম ইসমাইল হোসেন ইমন। তিনি একই উপজেলার নিলখী ইউনিয়নের দক্ষিণ চরকামার কান্দি গ্রামের সেকান কাজীর ছেলে।

১৫ মে শিবচরের চর-বাঁচামারা গ্রামের আড়িয়াল খাঁ নদ থেকে ইমনের গলাকাটা লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এর আগে ঈদের দিন দুপুরে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন তিনি।

এ ঘটনায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন নিহতের সাবেক প্রেমিকা লাবনী আক্তার ও তার বর্তমান প্রেমিক কামরুজ্জামান কামরুল। এদিকে, এ হত্যাকাণ্ডে লাবনীর সহযোগী মেহেদীকে দুদিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।

স্বীকারোক্তিতে তারা জানান, কোমল পানীয়র সঙ্গে নেশাদ্রব্য খাইয়ে নদীর পাড়ে নিয়ে প্রায় অচেতন করে ইমনের গলায় প্রথম ছুরি চালান প্রেমিকা লাবনী। পরে তার গলায় আরো দুই দফা ছুরি চালিয়ে মৃত্যু নিশ্চিত করেন নতুন প্রেমিক কামরুল। এরপর আড়িয়াল খাঁ নদে লাশ ফেলে দেয়া হয়।

এর আগে, ঈদের দিন দেখা করার কথা বলে ডেকে আনা হয় ইমনকে। এ সময় ইমনের সঙ্গে থাকা জামাল নামের অপর একজনকেও নেশাদ্রব্য খাওয়ানো হয়। এতে তিনিও অসুস্থ হয়ে পড়েন। পরে ইমনকে গল্প করার কথা বলে নির্জন চরে নিয়ে যান লাবনী। সেখানেই তাকে হত্যা করেন লাবনী ও কামরুল।

পুলিশ জানায়, ইমন ও লাবনী আত্মীয়তার সূত্রে বেয়াই-বেয়াইন। সেই সূত্র ধরে এক বছর আগে তাদের প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিয়ের আশ্বাসে দুজনের শারীরিক সম্পর্কও হয়। অন্তরঙ্গ মুহূর্তের বেশকিছু ছবি ও ভিডিও নিজের মুঠোফোনে ধারণ করে রাখেন ইমন। ছয় মাস আগে তাদের প্রেমের সম্পর্ক ছিন্ন হয়। সম্পর্ক ছিন্ন হলেও ইমন ঢাকা থেকে এলেই ধারণ করা ভিডিও এবং ছবিগুলো ফেসবুকে দেয়ার ভয় দেখিয়ে লাবনীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কে মিলিত হতেন।

এর মধ্যেই কামরুলের সঙ্গে লাবনীর প্রেমের সম্পর্ক গড়ে ওঠে। নতুন সম্পর্কে জড়িয়ে পড়লেও ইমনের কাছে থাকা ছবি ও ভিডিওগুলো নিয়ে খুব দুশ্চিন্তায় ছিলেন লাবনী। ঈদে ইমন এলাকায় এসে আবারো লাবনীকে একই প্রস্তাব দেন। বিষয়টি প্রেমিক কামরুলকে জানান লাবনী। এরপর ইমনকে হত্যা করেন তারা।

ইমনকে প্লে-বয় হিসেবে পুলিশের কাছে উপস্থাপন করেন লাবনী। অসংখ্য মেয়ের সঙ্গে ইমনের শারীরিক সম্পর্ক ছিল বলেও দাবি করেন তিনি।

মাদারীপুর গোয়েন্দা পুলিশের ওসি মো. আল মামুন জানান, এ হত্যাকাণ্ডে চারজনের সম্পৃক্ততা পাওয়া গেছে। মোবাইলে গোপন ভিডিও ও ত্রিভুজ প্রেমের কারণেই এ হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আদালতে ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি দিয়ে হত্যার দায় স্বীকার করেছেন লাবনী। সাবেক প্রেমিকের গলায় লাবনীই প্রথম ছুরি চালান। হত্যাকাণ্ডটি ঘটাতে লাবনী যেসব কৌশল অবলম্বন করেছেন তা সত্যি অভিনব

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here