যে কারণে বৃদ্ধ ইমামের সঙ্গে পরকীয়ায় জড়ান ২৬ বছরের আসমা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃনিহত আজহারুল ছিলেন আসমা আক্তারের তৃতীয় স্বামী। আসমা আক্তার আরও দু’টি বিয়ে করেছিলেন। আসমা আক্তারের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন নিহত আজহারুলের বড় ভাই। তাদের মধ্যে ২০১৫ সালে পারিবারিকভাবে বিয়ে হয়েছিল। গোপনে আসমা আক্তারের সঙ্গে আজহারুলের পরকীয়া সম্পর্ক হয়। পরে সম্পর্কের জেরে তার বড় ভাইয়ের সঙ্গে আসমা আক্তারের বিবাহ বিচ্ছেদ ঘটে। পরে আসমা আক্তার পালিয়ে আজহারুলেরকে বিয়ে করেন। মসজিদের ইমামের সঙ্গে পরকীয়া প্রেমে পড়ে এই বিয়েও টিকল না আসমা আক্তারের। শেষমেষ হত্যা করেন স্বামীকেই। যদিও শেষ রক্ষা হয়নি। পরকীয়া প্রেমিকসহ র‌্যাবের হাতে গ্রেফতার হন তারা।

ঢাকার দক্ষিণখানের সরদারবাড়ি জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা আবদুর রহমানের (৫৪) সঙ্গে পরকীয়ায় জড়িয়েছিলেন নিহত আজহারের স্ত্রী আসমা আক্তার (২৬)। দুজন পরিকল্পিতভাবে আজহারকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেন। তাঁদের বিয়ে হলে তা আবদুর রহমানের জন্য হতো দ্বিতীয়, আসমার চতুর্থ।

আবদুর রহমানের বাড়ি গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায়। তাঁর এক ছেলে ও এক মেয়ে আছে। ৩৩ বছর ধরে দক্ষিণখান এলাকার মসজিদে নামাজ পড়াচ্ছেন। জিজ্ঞাসাবাদে তিনি র‌্যাবকে জানিয়েছেন, তিনি আসমাকে প্রচণ্ড ভালোবেসে ফেলেছিলেন। তাঁর কথা রাখতে গিয়ে আজহারকে হত্যা করেছেন। তা না হলে আসমা নিজেই আজহারকে হত্যা করবেন বলে হুমকি দিয়েছিলেন। নিজেও মরবেন এবং তাঁকেও (আবদুর রহমান) মারবেন। অন্যদিকে আসমা র‌্যাবকে জানিয়েছেন, আজহারের আচার-আচরণ তাঁর ভালো লাগছিল না। এ কারণে তিনি পরকীয়ায় জড়ান।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন বলেন, জিজ্ঞাসাবাদে তারা আরও জানায়, এ বছর রমজান মাসের ৭ দিন আগে আজহারুলকে তারা হত্যার পরিকল্পনা করে। এ সময় আজহারুল কলেরা রোগে আক্রান্ত হওয়ায় অসুস্থ হয়ে পড়েন। এতে তাদের হত্যার পরিকল্পনা ভেস্তে যায়। ওই সময় হাসপাতলে ভর্তি ছিলেন আজহারুল। এরপর আজহারুল সুস্থ হলে ঈদের আগের দিন তারা টাঙ্গাইলের কালিহাতী গ্রামের বাড়ি চলে যান। সেখানেও নিয়মিত আসমা আক্তারের সঙ্গে মসজিদের ইমাম মাওলানা আব্দুর রহমানের যোগাযোগ চলছিল।

র‌্যাব সূত্র জানায়, রমজানের আগেই আজহারকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তাঁরা। প্রথমে ভাড়াটে খুনির কথা ভাবা হয়। পরে আবদুর রহমান নিজেই হত্যার দায়িত্ব নেন। সে অনুযায়ী গত ১৯ মে তিনি আজহারকে ডেকে এনে হত্যা করে লাশ ছয় টুকরা করে সেফটিক ট্যাংকে ফেলে দেন। এরপর সব ধুয়েমুছে মসজিদে নামাজ পড়ান। ধরা পড়ার আগ পর্যন্ত তিনি চার দিন নামাজ পড়ান। এ সময় নামাজে প্রতিবারই তিনি ভুল করেন।

র‌্যাবের লিগ্যাল অ্যান্ড মিডিয়া উইংয়ের পরিচালক কমান্ডার খন্দকার আল মঈন গতকাল বলেন, ‘আবদুর রহমান ও আসমার বিয়ে করার কথা ছিল। আজহারকে হত্যা করতে দুজন পরিকল্পনা করেন বলে তাঁরা জিজ্ঞাসাবাদে স্বীকার করেছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here