কনেপক্ষের মারের ভয়ে পালালো বর, বিয়ে হলো থানায়!

মজার খবর ডেস্ক:বিয়ে একটি আনন্দের মুহূর্ত। বিয়েতে যেমন হয় আনন্দ তেমনই আবার কিছু কিছু ঘটনা ঘটে যা ভোলার নয়। এরকমই একটি ঘটনা ঘটেছে ভারতের উত্তরপ্রদেশের শাহাজানপুরে। সেখানে বিয়ে বাড়িতে বরযাত্রী আসছে ঠিকই কিন্তু বিয়ে হয় নি। বিয়ে হয় থানায়। কারণ কনেপক্ষের মারধরের শিকার হয়ে থানায় আশ্রয় নিতে হয় তাদের। পরে সেখানেই বিয়ে হয়।

জানা যায়, ২৫ বছর বয়সী কমলেশ বার্মা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনে স্নাতকোত্তর শেষ করেছেন। তিনি দিল্লিতে কাজ করেন। তার বাবা তাদের দূরসম্পর্কীয় এক আত্মীয় রাম অবতার বার্মার ২২ বছর বয়সী মেয়ে ক্রান্তি বার্মার সঙ্গে কমলেশের বিয়ে ঠিক করেন। বিয়ে ঠিক হওয়ার পর তাদের দুজনের মধ্যে ফোনে কথা হয়। এদিকে ক্রান্তি বার্মার বাবা বিয়ের দিন ঠিক করে ফেলে। বিয়ের দিন অনুযায়ী বরযাত্রী নিয়ে হাজির হয় কনের বাড়ি। তবে কনের কয়েকজন আত্মীয় বরযাত্রীদের সঙ্গে খারাপ ব্যবহার শুরু করে। হঠাৎ করে ছেলের বাবাকে থাপ্পড় মারে। এসময় ছেলে ও তার ভাই  এগিয়ে যায়। তারা যেতে না যেতে তাদের ও লাঠি দিয়ে পেটাতে শুরু করে।  তখন জীবন বাঁচাতে সেখান থেকে পালিয়ে যান তারা। তাদের কাছে তখন এটাই একমাত্র উপায় ছিল। ছেলের ভাই বলেন, আমরা কখনো ভাবিনি এমন ঘটনা ঘটবে।

ক্রান্তির বাবা খুবই ভালো মানুষ। তিনি বলেন, পরে আমরা জানতে পারি ক্রান্তির দুলাভাই তার এক আত্মীয়ের সঙ্গে তাকে বিয়ে দিতে চেয়েছিল। তাই পরিকল্পনামাফিক এমন কাজ করেছে, যাতে বিয়ে বাতিল হয়ে যায়। সে প্রায় সফল হয়ে গিয়েছিল। তবে ধন্যবাদ জানাই পুলিশকে। তাদের কারণে শুধু আমরাই বেঁচে যাইনি। বিয়েটাও বেঁচে গেছে। আরসি মিশন পুলিশ স্টেশনের এসএইচও সঞ্জয় সিং বলেছেন, আমরা জানতে পারি এলাকায় একটি বিয়েতে ঝামেলা করছে। তখন আমরা সেখানে যাই। গিয়ে  কনেকে থানায় নিয়ে আসে। আর সেখানেই বিয়ের বাকি কাজ সারতে বলা হয়। সেখানে ছোট একটা মন্দির আছে। ওই মন্দিরই রাত ২টা ৩০ মিনিটে বিয়ে হয়। তারা সকাল সাড়ে ৬টা পর্যন্ত থানায় ছিল। পরে পুলিশি নিরাপত্তা তাদের বাড়ি ফেরত পাঠানো হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here