ধর্ষণ মামলার পর পদ হারালেন ছাত্রলীগ নেতা

নিজস্ব প্রতিনিধিঃবরিশাল মহানগর ছাত্রলীগ সভাপতি জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে এক তরুণী ধর্ষণ মামলা করেন। সেই মামলায় তিনি গ্রেপ্তার না হলেও এবার সভাপতির পদ হারালেন জসিম।

মঙ্গলবার (২৫ মে) বাংলাদেশ ছাত্রলীগের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আল-নাহিয়ান খান জয় ও সাধারণ সম্পাদক লেখক ভট্টাচার্য্য স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জসিম উদ্দিনের অব্যাহতির এ তথ্য জানানো হয়।

 

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ ছাত্রলীগ কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদের এক জরুরি সিদ্ধান্ত মোতাবেক জানানো যাচ্ছে যে, সংগঠনের শৃঙ্খলা পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগের ভিত্তিতে বাংলাদেশ ছাত্রলীগের বরিশাল মহানগর শাখার সভাপতি মো. জসিম উদ্দিনকে তার পদ থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হলো। সেই সঙ্গে বর্তমান কমিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় বরিশাল মহানগর শাখা কমিটি বিলুপ্ত ঘোষণা করা হলো।

এরআগে, জসিম উদ্দীনের বিরুদ্ধে গত ১৯ এপ্রিল ধর্ষণ ও গর্ভপাত করানোর অভিযোগ এনে এয়ারপোর্ট থানায় লিখিত অভিযোগ করেন এক তরুণী। পরে ২২ এপ্রিল রাতে ওই অভিযোগটি মামলা হিসেবে গ্রহণ করে বরিশাল মেট্রোপলিটনের এয়ারপোর্ট থানা পুলিশ। যার নম্বর-১৩।

মামলায় ভুক্তভোগী ওই তরুণী অভিযোগ করেন, দীর্ঘ ৯ বছর ধরে বরিশাল নগরের সাগরদী এলাকার বাসিন্দা শুক্কুর আলীর ছেলে এবং বরিশাল মহানগর ছাত্রলীগের সভাপতি জসিম উদ্দীনের সঙ্গে তার প্রেমের সম্পর্ক ছিল। যার সূত্র ধরে বিয়ের প্রলোভন দেখিয়ে ২০১৯ সালের ২ ফেব্রুয়ারি প্রথমবার তরুণীকে ধর্ষণ করা হয়। পরবর্তীতে তিনি গর্ভবতী হয়ে পড়লে মামলার একমাত্র আসামি ওষুধ সেবন করিয়ে তা নষ্ট করেন এবং বরিশাল সদর হাসপাতালে নিয়ে চিকিৎসক রেহানা ফেরদৌসের কাছে গর্ভপাতের ব্যাপারে নিশ্চিত হন।

পরবর্তীতে বরিশাল নগরের চাংপাই হোটেল, রাজধানী ঢাকায় নিয়ে এবং ভুক্তভোগীর বাসায় গিয়েও বিয়ের কথা বলে তাকে একাধিকবার ধর্ষণ করেন। সর্বশেষ চলতি বছরের ৫ মার্চ দুই দিনের মধ্যে বিয়ে করার কথা বলে বাদীকে তার নিজ বাসায় ধর্ষণ করেন জসিম। এরপর বিয়ের জন্য চাপ দিলে জসিম নিজেকে বিবাহিত বলে দাবি করেন এবং বাদীকে বিয়ে করা সম্ভব নয় বলে জানান।

এদিকে গত ১৮ এপ্রিল বরগুনা জেলার অপর এক তরুণীকে বিয়ে করেন জসিম উদ্দিন। আর বিয়ের একদিন পরেই তার বিরুদ্ধে ধর্ষণের এ অভিযোগ করেন ভুক্তভোগী ওই তরুণী।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here