ডিসির সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের অভিযোগে যা বললেন সেই নারী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃমাত্র চার মাস ১৫ দিনের মাথায় বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হককে বদলি করার আদেশটি প্রচারের পর বিষয়টি নিয়ে বিভিন্ন গুঞ্জন সৃষ্টি হয়। এরই মধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের এক নারী কর্মকর্তার সাবেক স্বামীর করা অভিযোগের কপির অংশ বিশেষ (কিছু কিছু জায়গা মুছে ফেলা হয়েছে) ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এমন অভিযোগের প্রেক্ষিতে দুয়েকটি গণমাধ্যমে নিউজ প্রকাশিত হয়। মঙ্গলবার (১৮ মে) গণমাধ্যমের কাছে প্রকাশিত নিউজ এবং ওই অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে দাবি করেছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের ওই নারী কর্মকর্তা।

ক্ষোভ প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক স্যারের বিরুদ্ধে আমার সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে যে অভিযোগ দেওয়া হয়েছে তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। সেই অভিযোগের ভিত্তিতে যদি কারও বিরুদ্ধে কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তা অবশ্যই অমানবিক। ১১ এপ্রিল আমার সাবেক স্বামী ফখরুল আলমের করা ওই অভিযোগের বিষয়ে আমার সঙ্গে কোনো সংবাদকর্মী বা অন্য কেউ কথা বলেনি। এমনকি একটি ভিত্তিহীন অভিযোগের ভিত্তিতে অনেকে ফেসবুকে বিষয়টি ভাইরাল করেছেন।

তিনি আরও বলেন, ২০১১ সালে পারিবারিকভাবে আমাদের বিবাহ হয়। আমাদের দুটি পুত্র সন্তান রয়েছে। এরপরেও কারণে-অকারণে তিনি আমাকে সন্দেহ করেন। আমার বয়সে ছোট মামাতো ভাই ও অফিসের কলিগদের নিয়েও তিনি নানা কলহ সৃষ্টি করেছেন। বিয়ের পরে তিনি আমার গায়েও হাত তুলেছেন। তার অত্যাচার সহ্য করতে না পেরে ২০১৭ সালে প্রথম তাকে ডিভোর্স দেই। পরবর্তীতে সন্তানদের কথা বিবেচনা করে পরিবারের সমঝোতায় আবার সংসার শুরু করি। কিন্তু ফখরুল আলমের স্বভাবের পরিবর্তন হয় না। তিনি আমার ওপর অত্যাচারের মাত্রা আরও বাড়িয়ে দেন। এমনকি আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক করে নানান অপপ্রচার চালাতে থাকেন। এক পর্যায়ে ২০২০ সালের অক্টোবর মাসের শেষ দিকে দুই ছেলেসহ আমি তার সংসার থেকে চলে আসি। এসময় আমার স্বর্ণালংকারসহ সব ধরনের মূল্যবান মালামাল জোর করে রেখে দেন ফখরুল আলম। ৮ নভেম্বর আমি তাকে ডিভোর্স প্রদান করি। এরপর থেকেই তিনি আমাকে নানারকম হুমকি-ধামকি দিচ্ছেন। হুমকির প্রেক্ষিতে আমি তার বিরুদ্ধে ঢাকা খিলগাঁও থানায় সাধারণ ডায়েরিও করেছি। আসলে আমাকে সামাজিক ও পেশাগতভাবে হেয়প্রতিপন্ন করার জন্য আমার সাবেক স্বামী মো. ফখরুল আলম এই অভিযোগ দিয়েছেন। অত্যাচারী স্বামীকে ছেড়ে দুই সন্তান নিয়ে ভালোই আছি। সন্তানদের নিয়ে মান সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে চাই। ফখরুল আলমের এসব কর্মকাণ্ড বন্ধে সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করেন তিনি।

বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আ.ন.ম ফয়জুল হক বলেন, সরকারি চাকরির শর্ত অনুযায়ী আমি পরবর্তী কর্মস্থলে চলে যাব। তবে বাগেরহাটের মোল্লাহাটের একটি ছেলে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে অভিযোগ দিয়েছেন। ফেসবুকে একটা পেজ খুলে ওই অভিযোগের কপিটিকে ভাইরাল করা হয়েছে। যা জেলা প্রশাসক এর ঐতিহ্যবাহী পদটিকে সম্মানহানী ও বিতর্কিত করার অপচেষ্টামাত্র। ওই অভিযোগে তার পারিবারিক বিষয়ে আমাকে জড়িয়ে মিথ্যা বানোয়াট কিছু কথা লেখা হয়েছে। যা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও বানোয়াট। তবে আমি এবং আমার পরিবার আমাদের নিজেদের অবস্থানে আত্মবিশ্বাসী৷ আমি দ্ব্যর্থহীনভাবে বলতে পারি যে ওই অভিযোগে আমার কোনো দায় নেই৷ আমার সারল্যের সুযোগ নিয়ে এমন বানোয়াট অভিযোগ তৈরি করা হয়েছে৷ আমার বিরুদ্ধে আনীত অভিযোগের কপিটিও আমি অফিসিয়ালি পাইনি। এ বিষয়ে এখনও আমার নিকট থেকে কোনোরূপ বক্তব্য নেয়া হয়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here