মানববন্ধনে সাংবাদিক রোজিনার মুক্তি, মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারের দাবি

পঞ্চগড় প্রতিনিধি:সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহার ও নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে মানববন্ধন করেছে পঞ্চগড়ে কর্মরত সাংবাদিকরা। আজ মঙ্গলবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে শের-ই বাংলা পার্ক এলাকার পঞ্চগড় -তেতুঁলিয়া মহাসড়কে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাব মানববন্ধনের আয়োজন করে। ঘন্টাব্যাপী মানববন্ধনে রাজনৈতিক নেতৃবৃন্দ, শিক্ষক এবং জেলায় কর্মরত প্রিন্ট ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ার সাংবাদিকরা অংশগ্রহণ করেন।

মানববন্ধনে পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি শফিকুল আলমের সভাপতিত্বে ,বাংলাদেশ জাতীয় পাটি কেন্দ্রীয় কমিটির ভাইস প্রেসিডেন্ট আবু সালেক,বাংলাদেশ সমাজতান্ত্রিক দল জাসদের সদর উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক আজহারুল ইসলাম জুয়েল, পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সাধারণ সম্পাদক সাইফুল ইসলাম বাবু, দৈনিক দেশ রুপান্তরের জেলা প্রতিনিধি ও সিনিয়র সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম শহীদ, দৈনিক প্রথম আলোর জেলা প্রতিনিধি রাজিউর রহমান রাজু ও দৈনিক বাংলাদেশ প্রতিদিনের প্রতিনিধি সরকার হায়দার ও কালেরকন্ঠের প্রতিনিধি লুৎফর রহমান প্রমুখ ।

বক্তারা সিনিয়র সাংবাদিক রোজিনা ইসলামকে হেনস্তাকারীদের গ্রেপ্তার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তিসহ মিথ্যা মামলা প্রত্যাহারসহ তার নিঃশর্ত মুক্তির দাবী করেন, দাবী না মানলে বৃহত্তর আন্দোলনের ঘোষনা দেন। একই সাথে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলের দাবী জানায় বক্তারা।

দৈনিক দেশ রুপান্তরের সাংবাদিক শহিদুল ইসলাম বলেন সচিবালয় থেকে শাহবাগ থানার দূরত্ব কত কিলোমিটার। দেশবাসী গতকাল বুঝতে পেরেছে যে রোজিনা ইসলাম আক্রোশের স্বীকার। জেলা জাতীয় পার্টির সাধারন সম্পাদক জানায় রাজনৈতিক নেতাদের মধ্যে প্রথম জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের রোজিনার ঘটনায় বিবৃতি দিয়েছেন।

পঞ্চগড় প্রেস ক্লাবের সভাপতি বলেন সাংবাদিক রোজিনা ইসলাম বাংলাদেশের অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার উজ্জল দৃষ্টান্ত। দীর্ঘদিন থেকে তিনি মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন অনিয়ম দুর্নীতির তথ্য সংগ্রহ করে প্রথম আলো পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ করেছেন। সেই সংবাদ প্রকাশের জের ধরে তাকে একজন সচিব সহ মন্ত্রণালয়ের কিছু পথভ্রষ্ট কর্মকর্তা তাকে হেনেস্থা করে নির্যাতন চালিয়েছে, এ সময় রোজিনা পেশাগত কাজে মন্ত্রণালয় গিয়েছিলেন এই ঘটনা দেশে এর আগে কখনো ঘটেনি।

তিনি বলেন রোজিনাকে শুধু মুক্তি নয় তার হেনেস্থা-কারীদের শাস্তি এবং সাড়ে পাঁচ ঘন্টা কেন তাকে আটকে রাখা হয়েছে তদন্ত করতে হবে। আমরা যখনই কোন দপ্তরের অনিয়ম খুঁজে বের করে সংবাদ প্রকাশ করি তখনই আমাদের উপর জুলুম নির্যাতন চলে আসে। সরকার একদিকে তথ্য অধিকার আইন করছে জনগণের কল্যাণের জন্য অপরদিকে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন করে সাংবাদিকদের কণ্ঠরোধ করা হচ্ছে। এই অবস্থা আর চলতে দেওয়া যায়না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here