মধ্যরাতে গোপনে যাত্রী বহন, দূরপাল্লার ১০ বাস জব্দ

যশোর প্রতিনিধি: সাতক্ষীরা থেকে যাত্রী নিয়ে রাজধানী ঢাকায় যাবার পথে যশোর থেকে দূরপাল্লার ১০টি বাস আটক করেছে পুলিশ। সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ওই বাসগুলে গোপনে যাত্রী নিয়ে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা করেছিলো বলে পুলিশ জানিয়েছে।

 

মঙ্গলবার দিবাগত মধ্যরাতে যশোরের উপরশরস্থ খাজুরা বাসস্ট্যান্ড থেকে ৭টি ও মণিরামপুর থেকে ৩টি বাস আটক করা হয়। তবে বাসের শ্রমিকদের আটক করা হয়নি। আটক ১০ বাসের যাত্রীদের তাদের ওঠার স্থানে ফিরিয়ে দেয়া হয়েছে।

যশোর ট্রাফিক পুলিশের ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মো. মাহাবুব কবীর জানান, তাদের কাছে খবর ছিলো সরকারি নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে গোপনে ভিন্ন পথ ব্যবহার করে রাতে সাতক্ষীরার শ্যামনগর থেকে যাত্রী নিয়ে দূরপাল্লার বাস ঢাকায় যাচ্ছে। মূলত যশোরে ট্রাফিক পুলিশ রাত ১০টা পর্যন্ত ডিউটি করে। এই সুযোগটা কাজে লাগিয়ে রাত ১০টার পর যাত্রী নিয়ে বাস যশোর পার হয়ে যাচ্ছে।

‘গোপনে এসব খবর পেয়ে ট্রাফিক পুলিশ রাত ১০টা থেকে রাত আড়াইটা পর্যন্ত যশোরের উপশহরস্থ খাজুরা বাসস্ট্যান্ড ও মণিরামপুর থানার সামনে অবস্থান নিয়ে শ্যামনগর থেকে ছেড়ে আসা ঢাকাগামী ১০টি যাত্রীবাহী দূরপাল্লার বাস আটক করেন। কোতয়ালি থানার পুলিশও অভিযানে অংশ নেয়।’

ইন্সপেক্টর (প্রশাসন) মাহাবুব কবীর আরও জানান, বাসগুলোর মধ্যে গ্রিন বাংলা পরিবহনের দুটি (একটির নম্বর ঢাকা মেট্রো-ব-১৪-৭০৬৮), এসডি পরিবহনের ১টি (ঢাকা মেট্রা-ব-১৫-৭৮১২), সাতক্ষীরা এক্সপ্রেসের ১টি, ঠিকানা পরিবহনের একটি, সুন্দরবন এক্সপ্রেসের ১টি রয়েছে।

তিনি বলেন, তারা বাসের শ্রমিকদের আটক করেননি। তবে বাস মালিকদের বাস জিম্মায় নিতে হলে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়ে যশোর পুলিশের সাথে যোগাযোগ করতে বলা হয়েছে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ সংক্রান্ত বিষয়ে উর্দ্ধতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ নেয়া হবে।

ট্রাফিক পুলিশের ওই কর্মকর্তা আরও জানান, বাসের যাত্রীদের যারা যেখান থেকে এসেছেন তাদের রাতেই সেখানে পাঠিয়ে দিয়েছেন তারা। এর মধ্যে কেউ কেউ নিজ ব্যবস্থাপনায় ফিরে গেছেন। অন্যদের পুলিশি ব্যবস্থাপনায় পাঠিয়ে দেয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে যশোর জেলা পরিবহন সংস্থা শ্রমিক ইউনিয়নের সভাপতি আজিজুল আলম মিন্টু বলেছেন, বেশ কয়েকদিন ধরে রাতের বেলায় গোপনে সাতক্ষীরা থেকে বসে করে ঢাকায় যাত্রী পরিবহন করা হচ্ছে। সরকারি নির্দেশ অমান্যকারীদের কোনোভাবে যশোরের পরিবহন শ্রমিক নেতারা সমর্থন করে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here