দান কেবল-ই অর্থব্যয় নয়

নিউজ ডেস্কঃসুন্দরভাবে কারো প্রশ্নের উত্তর দেয়া, ভালো কাজে উৎসাহিত করা, পথহারা মানুষকে পথ দেখানো, সবার সাথে হাসিমুখে কথা বলা, সন্তানকে আদর করা, অসুস্থকে দেখতে যাওয়া, কাউকে পানি ঢেলে খাওয়ানো- দৈনন্দিন  জীবনে আমাদের স্বাভাবিক ও স্বতঃস্ফূর্তভাবে করা এই কাজগুলোর সবই দান। করোনাকালের এ সময়ে রমজানের অন্যতম কাজ হোক অসুস্থ্য, অসহায় মানুষকে সাহায্য করা। যে কোনভাবে এ সাহায্য করা যায়। পরস্পরের প্রতি সহমর্মী হওয়া, অসহায়কে সাহায্য করা, অসুস্থ্যের সেবা করা সবকিছুই উত্তম দান হিসেবে চিহ্নিত হবে।

আর ভালো আচরণ দান হিসেবে প্রথম কাতারের। এবং এই দাতা আল্লাহ্‌র কাছে অত্যন্ত মর্যাদাবান। হাদীসে আছে- সকল সৃষ্টি হচ্ছে আল্লাহর পরিবার। আল্লাহর পরিবারের সাথে ভালো ব্যবহারকারী আল্লাহর সবচেয়ে প্রিয়। (হাদীস বর্ণনাকারী—আনাস ইবনে মালেক (রা); গ্রন্থনা-আবু ইয়ালা, বায়হাকি।)

অন্যদিকে, আল্লাহর কাছে সেবামূলক কাজে আন্তরিকভাবে অংশগ্রহণকারী ব্যক্তির মর্যাদা আল্লাহর পথে জেহাদকারী ব্যক্তির সমান। সেবামূলক কাজ শেষ করে ঘরে ফিরে না আসা পর্যন্ত তার এই মর্যাদা বহাল থাকে।

দানের পার্থিব উপকারও কম নয়! হাদীসে রোগমুক্তি, সুখী জীবন এবং দীর্ঘায়ু লাভের জন্যে দানের কথা বলা হয়েছে।

রমজানে আল্লাহ যে-কোনো সুন্নত কাজের সওয়াব ফরজ কাজের সমান করে দেন। আর একটি ফরজের সওয়াবকে ৭০টি ফরজের সমান করে দেন।তার মানে তিনি কোরআন নাজিল করেছেন এবং সেই আনন্দে তার বান্দাদেরকে এই সুবিধা দিতে চাচ্ছেন যে, এই মাসে তোমরা বেশি বেশি ভালো কাজ কর। কারণ, কাজের তুলনায় বিনিময় তোমরা অন্য সময়ের তুলনায় অনেক বেশি পাবে।

‘মহাবিচার দিবসে তোমাদের প্রত্যেকের সাথেই তার প্রতিপালক কথা বলবেন। এই কথাবার্তায় কোনো দোভাষী থাকবে না। যখন ডানে তাকাবে, তুমি তখন তোমার অতীত ভালো কাজ দেখতে পাবে। বামে তাকালে তুমি তোমার অতীত মন্দ কাজ দেখবে। আর সামনে দেখবে জাহান্নামের লেলিহান আগুন। তাই সময় থাকতে, এমনকি এক টুকরা খেজুর দান করে হলেও নিজেকে বাঁচাও। আর তা-ও যদি না পারো, তবে হাসিমুখে কথা বলে, ভালো কথা বলে ও ভালো ব্যবহার করে নিজেকে জাহান্নাম থেকে বাঁচাও।’ (হাদীস বর্ণনাকারী- আদী ইবনে হাতিম (রা);  গ্রন্থনা- বোখারী, মুসলিম।)

নবীজী (স) সবচেয়ে বড় দাতা ছিলেন। রমজান মাসে তিনি দানের পরমাণ আরও বাড়িয়ে দিতেন। কারণ দানের জন্যে এটাই শ্রেষ্ঠ মাস। এমনিতে সৎ দানের নেকি ৭০০ গুণ থেকে শুরু হলেও এই মাসে তা হয় কমপক্ষে ৭০০X৭০ বা ৪৯০০০ গুণ। আর দান সঙ্ঘবদ্ধভাবে করা হলে তা হবে আরও ৭০ গুণ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here