চেয়ারম্যানের শ্যালিকার ঘরে মিলল ৯ বস্তা ত্রাণের চাল

নিজস্ব প্রতিনিধিঃপটুয়াখালীর মহিপুরে সরকারি ত্রাণের ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করেছে মহিপুর থানা পুলিশ। বুধবার (২৮ এপ্রিল) বিকালে মহিপুর থানার লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদ সংলগ্ন ইদ্রিস হাওলাদারের বাসায় অভিযান চালিয়ে এ চাল উদ্ধার করা হয়।

এ ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগে লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লার ভায়রা ইদ্রিস হাওলাদারকে আটক করে পুলিশ।

পুলিশ জানায়, লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যানের ভায়রা ইদ্রিস হাওলাদারের বাসায় ত্রাণের চাল রয়েছে, এমন খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে ৭ বস্তা চালসহ তিনটি ড্রামে ভরা দেড়শ’ কেজি চাল উদ্ধার করে।

এ সময় ইদ্রিস হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়। এ বিষয় জানতে চাইলে লতাচাপলী ইউপি চেয়ারম্যান আনছার উদ্দিন মোল্লা জানান, প্রতি জনের ১২০ কেজি করে তিন নামের ভিজিডির চালসহ একজন জেলে কার্ডের চাল ছাড়িয়ে ইদ্রিস হাওলাদার বাসায় রেখেছে।

কে বা কারা রেখেছে এ প্রশ্নের জবাবে চেয়ারম্যান বলেন, ইদ্রিস হাওলাদারের কাছে আত্মীয়দের নামের তালিকার চাল ছিল।

ইদ্রিস হাওলাদার জানায়, তার তিন আত্মীয় যথাক্রমে মোসা. ছালমা বেগম, মোসা. সাথী বেগম ও মোসা. কুলসুম বেগমের চাল ছিল তার বাসায়।

এদিকে ইউনিয়ন পরিষদের তালিকায় কুলসুম বেগমের নাম পাওয়া যায়নি। তবে তিন জনের নামে ৩৬০ কেজি চাল বরাদ্দ থাকলেও ইদ্রিস হাওলাদারের বাসায় ৪৫০ কেজি চাল বেশি, তা জব্দ করেছে পুলিশ।

এ বিষয় কালাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার আবু হাসনাত মো. শহীদুল হক এবং লতাচাপলী ইউনিয়ন পরিষদের তদারকি কর্মকর্তা কলাপাড়া উপজেলা ফ্যামিলি প্ল্যানিং অফিসার ইলিয়াস খান রানা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

তদারকি কর্মকর্তা ইলিয়াস খান রানা বলেন, ইউনিয়ন পরিষদের স্টক রেজিস্ট্রারের সঙ্গে চাল বিতরণের মিল রয়েছে। বাস্তবে কী ঘটনা ঘটেছে তা খতিয়ে দেখবে প্রশাসন।

কলাপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার ইউনিয়ন পরিষদে পরিদর্শনকালে বলেন, পুলিশ ত্রাণের কিছু চাল একজনের বাসা থেকে জব্দ করেছে। বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

মহিপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকার্তা (ওসি) মনিরুজ্জামান বলেন, ৯ বস্তা চাল উদ্ধার করা হয়েছে। চেয়ারম্যানের ভায়রা ইদ্রিস হাওলাদারকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য মহিপুর থানায় আনা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here