দিল্লিতে পড়ে রয়েছে লাশের সারি, ফুরিয়েছে চিতার কাঠও

আন্তর্জাতিক ডেস্ক:করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় ঢেউয়ে ভারতে হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হচ্ছে প্রতিদিনই। একইসময়ে সংক্রমিত হচ্ছে লাখ লাখ মানুষ। পুরো ভারতজুড়েই বাড়ছে মৃত্যুর মিছিল। সবচেয়ে বাজে পরিস্থিতি রাজধানী দিল্লিতে। শ্মশানের কর্মীদের ওপর সম্প্রতি কাজের চাপ এতটাই বেড়ে গেছে যে মৃতের পরিবারের লোকজনকেও কাজে হাত লাগাতে হচ্ছে। প্রায় একই ছবি দিল্লির বাকি ২৫টি শ্মশান আর কবরখানায়। সারি দিয়ে কিংবা স্তূপ করে রাখা হচ্ছে মৃতদেহ।

শ্মশানগুলোতে মৃতদেহ পোড়ানোর জন্য আর স্থান সংকুলান হচ্ছে না। শেষকৃত্যের জন্য ব্যবহার করা হচ্ছে পার্কিং লটগুলো। এমনকি জায়গা নেই কবরস্থানেও। সাধারণত দিল্লিতে যত সংখ্যক মৃতের সৎকার হয়ে থাকে, তার থেকে বহুগুণ বেশি মৃতদেহ রোজ আসছে শ্মশান ও কবরস্থানে। গত ১০ দিনে এমনই ঘটনার সাক্ষী দিল্লি।

এ পরিস্থিতিতে মৃতদেহ দাহ করার কাঠ ফুরিয়ে গেছে বহু শ্মশানে। কাঠের অভাবে কেয়ারটেকারকে বাধ্য হয়ে বন্ধ করে দিতে হয়েছে শ্মশানের দরজা। করোনায় দৈনিক তিন শতাধিক মৃত্যুর গণ্ডি পেরিয়ে যাওয়া দিল্লি এমন করুণ পরিস্থিতির মুখেই পড়েছে।

গত সপ্তাহে দিল্লিতে মৃত্যুর গড় হার ছিল ৩০৪। সোমবার পর্যন্ত রাজধানীতে মৃতের সংখ্যা ৩৫০। রবিবার ৩৫৭ জনের প্রাণ গেছে। আগের দিন মারা যান ৩৪৮ জন। দিনের পর দিন এত মানুষের মৃতদেহ সৎকার করতে হিমশিম খাচ্ছে শ্মশান আর কবরস্থানের কর্মচারীরা।

দিল্লির অন্যতম একটি প্রধান শ্মশানে দৈনিক ২২ জনের দেহ সৎকারের ব্যবস্থা আছে। আর আপাতত রোজই সেখানে ৬০ থেকে ৭০টি মৃতদেহ আসছে। চাপে পড়ে শ্মশানের আশপাশে আরও ১০০টি প্ল্যাটফর্ম তৈরি করতে হচ্ছে।

দিল্লির রাস্তায় লোক নেই। মন্দির, মসজিদ, গির্জাও সেভাবে ভর্তি নয়। জনসমাগম শুধুই হাসপাতালগুলোতে। আর সেখান থেকে বেরিয়ে আসা একের পর এক মরদেহ সৎকারে হয়রানি, ভোগান্তি সাধারণ মানুষের। এমনই দাবি করছে বেশ কয়েকটি গণমাধ্যমের রিপোর্টে।

করোনার জেরে শ্মশানের জন্য জমি বাড়াতে হচ্ছে দিল্লিতে। আরও ৫০টি নতুন প্ল্যাটফর্ম তৈরি করা হয়েছে সৎকারের জন্য। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্নে ছাড় পাচ্ছে না পার্কিং লটগুলো। দিল্লির গাজীপুরে এমনই পার্কিং লটে চিতা জ্বালানোর বন্দোবস্ত করা হচ্ছে। যে হারে করোনায় দিল্লিতে মৃত্যু মিছিল অব্যাহত রয়েছে, তাতে পরিস্থিতি ক্রমাগত ভয়াবহ হচ্ছে।

শুধু শ্মশানে নয়, মৃত্যুর চাপে একই পরিস্থিতি কবরস্থানেও। সেখানেও লাশ দাফন থামছে না। শ্মশানেও আগুন নিভছে না। আরও চিতা রাখার জন্য জায়গা তৈরি করা হচ্ছে। খবর ইন্ডিয়া টুডে, ওয়ান ইন্ডিয়া।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here