পটুয়াখালীর গলাচিপায় হঠাৎ বেড়ে গেছে ডায়রিয়ার প্রকোপ

সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী ঃ পটুয়াখালীর গলাচিপায় বৈরী আবহাওয়ার কারণে ব্যাপক হারে ডায়রিয়া জনিত রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন শিশুসহ বৃদ্ধরা। হাসপাতালের বেড ছাড়াও মেঝেতে জায়গা দেওয়ার পরেও সামাল দেয়া যাচ্ছে না রোগীদের। গলাচিপা উপজেলার রোগী ছাড়াও পাশ^বর্তী রাঙ্গাবালী উপজেলায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স না থাকায় ওই এলাকার সকল রোগীদের চিকিৎসা দিতে হয় এখানের কর্তব্যরত চিকিৎসকদের। এ কারণে গত কয়েক দিনে এখানে রোগীর সংখ্যা অনেক বেড়ে গেছে। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে গলাচিপা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শিশু ও বৃদ্ধসহ বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হচ্ছেন। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের সংখ্যাই বেশি। প্রাকৃতিক বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রচন্ড গরম ও ঠান্ডার মিশ্র পরিবেশ সৃষ্টির ফলে ডায়রিয়ার প্রকোপ বাড়ছে বলে চিকিৎসকদের ধারণা। ৫০ শয্যা বিশিষ্ট এই হাসপাতালের বেড ছাড়া মেঝেতে জায়গার সংকুলান হচ্ছেনা। কর্তব্যরত ডাক্তার ও নার্সরা রোগীদের চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খাচ্ছেন। হঠাৎ করে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাওয়ায় অনেক রোগী হাসপাতালের মেঝেতেই অবস্থান নিয়ে চিকিৎসাধীন আছেন। ডায়রিয়ায় আক্রান্ত ৬ মাস বয়সের ইয়াসিনকে নিয়ে আসা তার বাবা জানান, হঠাৎ করে আমার ছেলের পাতলা পায়খানা ও বমি হওয়ায় তাৎক্ষণিক ভাবে গলাচিপা হাসপাতালে ভর্তি করতে আসি। কিন্তু হাসপাতালের বেড খালি না থাকায় সে জন্য আমার ছেলেকে নিয়ে মেঝেতে আছি। কর্তব্যরত চিকিৎসক মো. শাহরিয়ার ক্রাইম ফেকাসকে জানান, অন্যান্য রোগীদের চেয়ে ডায়রিয়া জনিত রোগীর সংখ্যা অনেক বেশি হওয়ায় চিকিৎসা সেবা দিতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। গতকাল এক দিনেই ৮ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছে। উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম ক্রাইম ফোকাসকে জানান, এ সময় ভ্যাপসা গরম আবহাওয়া জনিত কারণে ডায়রিয়ার প্রকোপ একটু বেশি-ই থাকে। এছাড়া তরমুজ খাওয়ার কারণেও ডায়রিয়া হয়ে থাকতে পারে। হাসপাতালে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগীর চাপের কারণে খাবার স্যালাইন ও ভ্যাইনে পুশ করা স্যালাইন কয়েকবার এনেছি। ঠিকমত চিকিৎসা সেবা দিতে পারলে ২-৩ দিনের মধ্যে ডায়রিয়ায় আক্রান্ত রোগী পুরোপুরি সুস্থ হওয়া সম্ভব। তিনি আরও জানান গত এক সপ্তাহে ৪৭ জন ডায়রিয়ার রোগী ভর্তি হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here