মামুনুলের পক্ষে ফেসবুক পোস্ট, দুই ছাত্রলীগ নেতাকে অব্যাহতি

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি:হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের পক্ষে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয়া সীতাকুণ্ড উপজেলায় দুজন ছাত্রলীগ নেতাকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়েছে।

তারা হলেন- উপজেলার ৯নং ভাটিয়ারী ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ড ছাত্রলীগ সভাপতি মো. গিয়াস উদ্দিন এবং ৮নং সোনাইছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মো. আজিজুল হক আজিজ।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহিন আহমেদ ও সোনাইছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি নাজিম উদ্দিনের স্বাক্ষরিত প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি জানানো হয়।

দুই ছাত্রলীগ নেতার অব্যাহতি বিষয়টি নিশ্চিত করে উপজেলা ছাত্রলীগ সভাপতি মো. শিহাব উদ্দিন বলেন, ‘দুজনই হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মামুনুল হকের পক্ষে স্ট্যাটাস দিয়েছে যা সংগঠনের নীতি আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ। এ কারণে সংগঠন থেকে দুজনকে অব্যাহতি দেয়া হয়।’

ছাত্রলীগ নেতারা জানান, সংসদে হেফাজতের যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা মামুনুল হকের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দেয়া বক্তব্যের বিরোধিতা করে এক ব্যক্তি ফেসবুক স্ট্যাটাস দেয়। আর সেটি শেয়ার করে ভাটিয়ারী ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড সভাপতি গিয়াস উদ্দিন।

ভাটিয়ারী ছাত্রলীগ নেতা গিয়াস উদ্দিন বলেন, আমার ব্যবহৃত মোবাইল সেটটি চুরি হয়ে যায়। যারা চুরি করেছে তারাই পোস্টটি শেয়ার করেছে। মোবাইল চুরির বিষয়টি আমি থানাকেও অবহিত করেছি।

অপরদিকে, মাওলানা মামুনুল হকের ঘটনা নিয়ে তার পক্ষে ফেসবুকে স্ট্যাটাস দেয় সোনাইছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগ প্রচার সম্পাদক আজিজ।

সোনাইছড়ি ইউনিয়ন ছাত্রলীগের প্রচার সম্পাদক মো. আজিজুল হক আজিজ বলেন, আমি দীর্ঘদিনের মুজিব আদর্শের একজন সৈনিক। জ্ঞান হওয়ার পর থেকেই আমি এ আদর্শ লালন করছি। আমার ফেসবুক আইডি হ্যাক হওয়ার কারণে কে বা কারা আমার আইডি থেকে মামুনুল হকের পক্ষে স্ট্যাটাস দেয়। আইডি উদ্ধার হওয়ার পর আমি পোস্টটি ডিলিট করে দিই। দল থেকে অব্যাহতির বিষয়টি দুঃখজনক।

দুজনের বিষয়টি দলের দৃষ্টিগোচর হলে সংগঠনের নীতি আদর্শ ও দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে তাদেরকে সংগঠনের পদ থেকে অব্যাহতি দেয়া হয়।

উপজেলা ছাত্রলীগের সাধারণ সম্পাদক এস এম রিয়াদ বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডের জন্য আজিজুলকে দলীয় পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। ছাত্রলীগের কাছে আসা আজিজুলের ফেসবুক আইডি থেকে পোস্ট করা স্ক্রিনশটে দেখা গেছে, তিনি মাওলানা মামুনুল হকের নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে ঘটে যাওয়া ঘটনাকে মিথ্যা ও তাঁকে হেনস্থা করা হচ্ছে বলে দাবি করেছেন।

ভাটিয়ারী ইউনিয়ন ছাত্রলীগের সভাপতি মো. শাহীন আহমেদ বলেন, গিয়াসের উদ্দিন তার ফেসবুক আইডিতে শেয়ার করা পোস্টের স্ট্যাটাসে লিখেছেন ‘একজন প্রধানমন্ত্রী কীভাবে সংসদে দাঁড়িয়ে মামুনুল হক সাহেবের নামে মিথ্যা অপবাদ দিতে পারেন।

প্রসঙ্গত, গত ৩ এপ্রিল বিকেলে মামুনুল হক এক নারীকে নিয়ে সোনারগাঁয়ের রয়্যাল রিসোর্টে গিয়ে অবরুদ্ধ হন। সে সময় স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মীরা ফেসবুকে লাইভ করলে তোলপাড় হয়। মামুনুল সে সময় যেসব তথ্য দিয়েছেন, পরে তার বেশির ভাগের সত্যতা মেলেনি।

স্থানীয় লোকজনের জেরার মুখে সঙ্গীনিকে নিজের দ্বিতীয় স্ত্রী দাবি করে বলেন তার নাম আমেনা তাইয়্যেবা। দাবি করেন, তার শ্বশুরের নাম জাহিদুল ইসলাম, শ্বশুরবাড়ি খুলনায়। তবে সেই নারী পরে জানান তার নাম জান্নাত আরা ঝর্ণা, বাবার নাম অলিয়র রহমান, গ্রামের বাড়ি ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গায়। এই ঘটনার পরে ফাঁস হওয়া বিভিন্ন ফোনালাপে মামুনুলের বিয়ের দাবির সত্যতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। তার চার সন্তানের জননী স্ত্রী ওই দিন সন্ধ্যায় ছেলেদের নিয়ে ঢাকার মোহাম্মদপুরের বাসা ছেড়ে যান। তিনি এখনও ফেরেননি।

এসব ঘটনায় মামুনুল যখন বেকায়দায় তখন হেফাজতের নেতা-কর্মীরা মসজিদে মাইকিং করে জড়ো হয়ে একযোগে হামলা করেন রিসোর্টে। স্থাপনাটিতে ব্যাপক ভাঙচুর করে মামুনুলকে ছিনিয়ে নেয়ার পাশাপাশি ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক অবরোধ করে ব্যাপক গাড়ি ভাঙচুরও করেন।

এখানেই থেমে থাকেননি তারা। ক্ষমতাসীন দল ও তার সহযোগী সংগঠনের স্থানীয় কার্যালয়েও হামলা হয়। ভেঙে গুঁড়িয়ে দেয়া হয় সেগুলো। হামলা হয় স্থানীয় যুবলীগ ও ছাত্রলীগ নেতাদের বাড়িঘরে। সেদিন হেফাজতের এই সন্ত্রাসী মনোভাব দেখা গেছে সুনামগঞ্জের ছাতকে ও মুন্সিগঞ্জের সিরাজদিখানেও। সেখানেও ক্ষমতাসীন দলের কার্যালয় আক্রান্ত হয়েছে।

এ ঘটনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ৪ এপ্রিল রোববার সংসদে সাম্প্রতিক সময়ে দেশব্যাপী হেফাজতে ইসলামের কর্মকাণ্ড নিয়ে সমালোচনা করেন। এ সময় তিনি অভিযোগ করেন, পবিত্র ইসলাম ধর্মের নামে সংগঠনটি ‘অপবিত্র’ কাজ করছে। সংগঠনটির নেতৃত্ব নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শেখ হাসিনা।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here