মার্চেই সড়কে ঝড়লো ৫১৩ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃচলতি বছরের মার্চে সারা দেশে ৪০৯টি সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে। এসব দুর্ঘটনায় ৫১৩ জন নিহত ও আহত হয়েছেন ৫৯৮ জন। গত ফেব্রুয়ারি মাসের তুলনায় মার্চ মাসে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও কমেছে হতাহতের সংখ্যা। সড়ক দুর্ঘটনা নিয়ে কাজ করা রোড সেফটি ফাউন্ডেশনের প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে।

সাতটি জাতীয় দৈনিক, পাঁচটি অনলাইন নিউজ পোর্টাল ও ইলেক্ট্রনিক গণমাধ্যমের তথ্যের ভিত্তিতে সোমবার (৫ এপ্রিল) সংগঠনটি এ প্রতিবেদন প্রকাশ করে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, ফেব্রুয়ারিতে ৪০৬টি দুর্ঘটনায় ৫১৭ জন নিহত হয়। এ মাসের তুলনায় মার্চে দুর্ঘটনার সংখ্যা বাড়লেও হতাহতের সংখ্যা কমেছে। মার্চে নিহতদের মধ্য ৭৮ জন নারী ও ৬৩ জন শিশু রয়েছে। ৪০৯টি দুর্ঘটনার মধ্যে ১৩৮টি মোটরসাইকেল দুর্ঘটনা। এ মাসে দুর্ঘটনায় ১৩৬ জন পথচারী নিহত হয়েছেন। আর যানবাহনের চালক ও সহকারী নিহত হয়েছেন ৮২ জন।

এছাড়া এ মাসে নৌ-দুর্ঘটনায় দুজন নিহত এবং আটজন আহত হয়েছেন। রেলপথ দুর্ঘটনায় ১৯ জন নিহত ও ছয়জন আহত হয়েছেন।

সংগঠনটির নির্বাহী পরিচালক সাইদুর রহমান জানান, মূলত ১০ কারণে দেশে সড়ক দুর্ঘটনা হচ্ছে। এগুলো হচ্ছে- ত্রুটিপূর্ণ যানবাহন, বেপরোয়া গতি, চালকদের বেপরোয়া মানসিকতা, অদক্ষতা ও শারীরিক-মানসিক অসুস্থতা, বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট না থাকা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল, তরুণ ও যুবদের বেপরোয়া মোটরসাইকেল চালানো, জনসাধারণের মধ্যে ট্রাফিক আইন না জানা ও না মানার প্রবণতা, দুর্বল ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা, বিআরটিএ’র সক্ষমতার ঘাটতি এবং গণপরিবহন খাতে চাঁদাবাজি।

সুপারিশ
দক্ষ চালক তৈরির উদ্যোগ বৃদ্ধি করা, চালকের বেতন ও কর্মঘণ্টা নির্দিষ্ট করা, বিআরটিএ’র সক্ষমতা বৃদ্ধি করা, পরিবহনের মালিক-শ্রমিক, যাত্রী ও পথচারীদের প্রতি ট্রাফিক আইনের বাধাহীন প্রয়োগ নিশ্চিত করা, মহাসড়কে স্বল্পগতির যানবাহন চলাচল বন্ধ করে এগুলোর জন্য আদালাত পার্শ্বরাস্তা তৈরি করা, পর্যায়ক্রমে সকল মহাসড়কে রোড ডিভাইডার নির্মাণ করা এবং গণপরিবহণে চাঁদাবাজি বন্ধ করা।

এছাড়া রেল ও নৌ-পথ সংস্কার ও সম্প্রসারণ করে সড়ক পথের ওপর চাপ কমানো, টেকসই পরিবহন কৌশল প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করা এবং সড়ক পরিবহন আইন-২০১৮ বাধাহীনভাবে বাস্তবায়ন করা জরুরি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here