বরিশালে লকডাউনে নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে থ্রি-হুইলার, মানছেনা স্বাস্থ্যবিধী-ভাড়া দ্বিগুন!

এম,আর শুভঃ করোনা ভাইরাসের সংক্রমন-মৃত্যু ক্রমাগত বেড়ে চলায় সরকার দ্বীতিয়বারের মত লকডাউন ঘোষণা করেছে। আজ থেকে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন ঘোষণা করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। গতকাল ১১টি নির্দেশনা দিয়ে এ প্রজ্ঞাপন জারি করে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ। লকডাউন চলাকালীন সময়ে এ সকল নির্দেশনা মানতে হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়। এর-ই ধারবাহিকতায় সারাদেশে চলছে লকডাউন। করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে স্বাস্থ্যবিধী নিশ্চিতে জেলা প্রশাসন থেকে নিয়োজিত  ম্যাজিস্ট্রেটরা মনিটরিং ও যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহন করে চলেছে। পাশাপাশি  বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের আয়োজনে সচেতনতামূলক র‍্যালী ও প্রচারণা কার্যক্রম অনুষ্ঠিত হয়।  রবিবার (৫ এপ্রিল) বেলা সোয়া ১১টায় নগরীর জিলা স্কুল মোড় থেকে র‍্যালীটি বের হয়। বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএমবার এর নেতৃত্বে স্বাস্থ্য সুরক্ষা বিধি মেনে গোটা নগরীতে করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে সচেতনতামূলক মোটরযান র‍্যালী ও লকডাউন কার্যকর কর্মসূচি শুরু হয়। বর্ণাঢ্য এ র‍্যালীটি নগরীর জেলাস্কুল মোড় থেকে শুরু হয়ে জেলখানা মোড়, নথুল্লাবাদ ও রুপাতলী প্রদক্ষিণ করে শেষ হয়। এর আগে বিএমপি কমিশনার মোঃ শাহাবুদ্দিন খান বিপিএম-বার বলেন, করোনা প্রতিরোধে সাধারণ মানুষকে সচেতন হওয়ার পাশাপাশি স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার জন্যই এ প্রচারণা। তিনি বলেন, বিএমপির প্রত্যেকটি সদস্য অতীতের ন্যায় করোনা প্রতিরোধে কঠোরভাবে দায়িত্ব পালন করবেন।

নানান সচেতনতা র‍্যালীসহ স্বাস্থ্যবিধী পালনে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন কর্মসূচী পালন করা হলেও বরিশালে লকডাউনের প্রভাব তেমন লক্ষ্য করা যায়নি। আজ সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, গনজামায়েত করে টিসিবির পন্য বিক্রয়-ক্রয় কার্যক্রম , বরিশালের বেশ কিছু প্রানকেন্দ্র রুপাতলী, নথুল্লাবাদ , চৌমাথা, সদর রোড, লঞ্চঘাটে গনজামায়েতসহ দোকানের শার্টার অর্ধেক খোলা রেখে হরমামেশাই চলছে লকডাউনকে তোয়াক্কা না করেই সকল কার্যক্রম। চায়ের দোকানগুলোও বেশ পূর্বের মত উন্মুক্তই বলা চলে। করোনার তোয়াক্কা না করেই চলছে ব্যবসা। ”যা প্রজ্ঞাপনের নির্দেশনা বহির্ভুত””

এছারাও নগরী ঘুরে লক্ষ করা যায়, অপ্রয়োজনে বাইরে বের হয়ে কেউ চায়ের দোকানে আড্ডা মারছেন , আবার কেউ লকডাউনের মধ্যেই প্রকাশ্যে ধুমপান চালিয়ে যাচ্ছে। যা জনসাধারনের জন বেশ ক্ষতির কারন হয়েই দাড়াচ্ছে। এদিকে লকডাউনে রুপাতলী, নথুল্লাবাদসহ দুরপাল্লার সকল রুটে  বাস-মিনিবাস চলাচল বন্ধ থাকলেও হলুদ অটো, মাহিন্দ্রা, সিএনজি সকল ছোট পরিবহনগুলো নগর দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। প্রতিদিনের চেয়ে তুলনামূলক ছোট এ সকল গাড়ীর সংখ্যা আজ নগরীতে কম লক্ষ্য করা গেলেও সেই সুযোগে সরকারী বিধিনিষেধ উপেক্ষা করে সড়ক দখল করে  এ সকল থ্রি-হুইলার গুলো যাত্রীদের থেকে ইচ্ছেমত ভাড়া আদায় করে চলেছে। এ নিয়ে যাত্রীদের মাঝে ক্ষোভ বিরাজ করছে। সরেজমিনে যাত্রীদের থেকে প্রাপ্ত অভিযোগের তথ্য মতে, বরিশালের রুপাতলী থেকে লঞ্চঘাট হলুদ অটোতে নিয়মিত ভাড়া জনপ্রতি ১০ টাকা কিন্ত আজকের প্রতিকুল অবস্থায় হলুদ অটো চালকরা চুষছে যাত্রীসাধারনদের। যারা জরুরী প্রয়োজনে বাজার কিংবা অন্যান্য  কার্য্য সম্পাদনে বেরিয়েছেন। জনপ্রতি এ সকল চালকরা ১০ টাকার স্থলে ১৫-২০ টাকা নিচ্ছে। যাত্রীরাও বিপাকে পড়ে অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে দায় সারছেন।

এদিকে রুপাতলী নথুল্লাবাদ হলুদ অটো, গ্যাস চালিত সিএনজিতে ভাড়া ১০ টাকা পূর্বনির্ধারিত থাকলেও আজ তার স্থলে ১৫-২০ কিংবা বেশিও চেয়ে বসছেন। সদর রোড থেকে রুপাতলী, চৌমাথা, বিভিন্ন স্থানে বাড়া দ্বিগুন গুনতে হচ্ছে যাত্রীদের। আবার চালকরা বীরদর্পে বলে বেড়াচ্ছেন গাড়িতে উঠলেই ২০ টাকা, যেখানে নামেন , গেলে যান নইলে উইঠেন না। এদিকে ত্রি-হুইলারের এ রাজত্বে অসহায় হয়ে হড়েছেন যাত্রী সাধারন।এদিকে  প্রশ্ন হচ্ছে- লকডাউন প্রজ্ঞাপনের  স্পস্টভাবে উল্লেখ করা আছে , গণপরিবহন চলতে পারবেনা । কিন্ত বরিশালে ছোট এ সকল ত্রি-হুইলার স্বাস্থবিধী না মেনেই গাড়িতে অধিক সংখ্যক যাত্রী বহন করলেও এদের বন্ধ করা কেন সম্ভব হচ্ছেনা? তবে কি যাত্রীদের থেকে অত্যাধিক ভাড়া নিয়ে গলা কাটতেই থ্রি- হুইলার ও অবৈধ হলুদ অটোর দৌরাত্ন। করোনা প্রতিরোধে এদের লাগাম টেনে ধরতে না পারলে সংক্রমনের মাত্রা আরো বেড়ে যেতে পারে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

 

এ বিষয়ে বরিশাল ইজিবাইক শ্রমিক সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক লতিফ সিকদার লেদু জানান, ইজিবাইক বন্ধের জন্য আমরা স্থানীয় প্রশাসন থেকে এখন পর্যন্ত কোনো নির্দেশনা পাইনি। যে কারণে ক্ষুদ্র পরিবহনগুলো চলাচল করছে। তবে গাড়ি চালকদের বলা আছে, ওভারলোড করে যাত্রী বহন করা যাবে না। ট্রাফিক বিভাগ থেকে যখনই চলাচল বন্ধ ঘোষণা করা হবে তখনই সড়ক ছেড়ে যাবে ইজিবাইক।

এদিকে সকল গণপরিবহন বন্ধের নির্দেশনায় অক্ষরে অক্ষরে পালন করেছেন বলে জানান, বরিশাল জেলা বাস- মিনিবাস কোচ মাইক্রোবাস শ্রমিক ইউনিয়নের নির্বাহী সভাপতি রফিকুল ইসলাম মানিক জানান, করোনা ভাইরাস প্রতিরোধে বাস চলাচল বন্ধ আছে। আমরা সরকারের নির্দেশনা যথাযথভাবে পালন করে আসছি। পাশাপাশি বাস বন্ধ থাকায় শ্রমিকদের সহায়তার প্রচেস্টাও চালিয়ে যাচ্ছি আমরা।

এ বিষয়ে বরিশাল রুপাতলী বাস -মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারন সম্পাদক কাওসার হোসেন শিপন জানান, সরকারের নির্দেশনা আমরা যথাযথভাবে পালন করছি। অভ্যন্তরিণ সকল রুটের বাস চলাচল বন্ধ আছে। পাশাপাশি বাস বন্ধ থাকায় অসহায় বেকার বাস শ্রমিকদের সহযোগীতায় মিটিং পূর্বক আমরা তাদের সহায়তা প্রদান করব। তবে দুঃখের বিষয় হল, সরকার থেকে নির্দেশনার কোন তোয়াক্কাই যেন করছেন অবৈধ মাহিন্দ্রা-থ্রিহুইলার। লঞ্চঘাটসহ সকল স্থান থেকে ধারণক্ষমতার চেয়েও অত্যাধিক ভাড়া আদায় করছে মাহিন্দ্রার সিন্ডিকেট । এছাড়াও সরকার করোনা প্রতিরোধে সামজিক দুরত্ব পালনের নির্দেশনা প্রদান করেন ।অথচ এ সকল  থ্রি -হুইলার অত্যাধিক যাত্রী নিয়ে পরিবহনে সক্রিয় রয়েছে। এতে করে সংক্রমন ঝুঁকি আরো বাড়বে বলে আমার মনে। জনগনের স্বাস্থ সুরক্ষায় অভিলম্বে এ বিষয়টির প্রতি প্রশাসনের কঠোর নজরদারী করার আহবান জানাই।

বরিশাল মেট্রোপলিটন (ট্রাফিক) পুলিশের উপ-কমিশনার জাকির হোসেন মজুমদার বলেন, সরকারি নির্দেশনায় আন্ত:জেলা পরিবহন বন্ধ রাখার বিষয়ে উল্লেখ করা হয়েছে। সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা স্বাভাবিক রাখতে নগরীর মধ্যে ক্ষুদ্র পরিবহন চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়ে উল্লেখ নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here