কালবৈশাখী: ৩ জেলায় ঝরলো ১৩ প্রাণ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃচৈত্রের বিদায় পর্বে দেশের ওপর দিয়ে বয়ে গেল কালবৈশাখী ঝড়। রবিবার বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত এই ঝড়ের তাণ্ডবে দেশের ৩ জেলায় ১৩ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। এরমধ্যে গাইবান্ধায় ১০ জন, ফরিদপুরে ২ জন এবং কুষ্টিয়ায় ১ জনের মৃত্যু হয়েছে। এছাড়াও দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ঝড়ে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়েছে।

জেলা প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যের ভিত্তিতে জানা গেছে, গাইবান্ধায় রবিবার বিকেলে ঘণ্টাব্যাপী কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। এছাড়াও জেলার বিভিন্ন উপজেলায় কাঁচা ঘরবাড়ি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। জেলাজুড়ে বিদ্যুৎ সরবরাহ বিছিন্ন হয়ে পড়েছে।

নিহতদের মধ্যে গাইবান্ধা সদরে ৪ জন, পলাশবাড়ীতে ৩ জন, ফুলছড়িতে ২ জন এবং সুন্দরগঞ্জে ১ জনের মৃত্যু হয়েছে।

নিহতরা হলেন- জেলার পলাশবাড়ী উপজেলার বেতকাপা ইউনিয়নের বাকেরপাড়া গ্রামের ইউনুছ আলীর স্ত্রী জাহানারা বেগম (৫০), একই ইউনিয়নের মোস্তফাপুর গ্রামের আব্বাস আলীর ছেলে আবদুল গাফফার (৪২), একই উপজেলার মনোহরপুর  ইউনিয়নের কুমেদপুর গ্রামের আবদুল কাদের মিয়ার স্ত্রী মমতা বেগম (৬৪), গাইবান্ধা সদর উপজেলার মালিবাড়ী ইউনিয়নের ঢনঢনিপাড়া গ্রামের মিঠু মিয়ার স্ত্রী সাহারা বেগম (৪১), একই উপজেলার রামচন্দ্রপুর ইউনিয়নের হরিণসিংগা গ্রামের হিরু মিয়ার ছেলে মুনির (৫), একই ইউনিয়নের বাসুদেবপুর গ্রামের রিজু মিয়ার স্ত্রী আর্জিনা বেগম (২৮), উপজেলার বাদিয়াখালী ইউনিয়নের রিফাইতপুর সরকারেরতারি গ্রামের খগেন্দ্র চন্দ্রের স্ত্রী জোৎস্না রানী (৫৫), সুন্দরগঞ্জ উপজেলার ধোপাডাঙ্গা ইউনিয়নের কিশামত হলদিয়া গ্রামের সোলায়মান আলীর স্ত্রী ময়না বেগম (৪৭), ফুলছড়ি উপজেলার গজারিয়া ইউনিয়নের কাতলামারি গ্রামের বিশু মিয়ার স্ত্রী শিমুলি বেগম (২৬) এবং একই উপজেলার এরেন্ডাবাড়ী ইউনিয়নের ডাকাতিয়ার চর গ্রামের বারেক মিয়ার ছেলে হাফিজ উদ্দিন (৬৫)।

এসব তথ্য নিশ্চিত করে জেলা ত্রাণ কর্মকর্তা ইদ্রিশ আলী জানিয়েছেন, ঝড়ে অন্তত শতাধিক মানুষ আহত হয়েছেন। তবে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপনে জরিপ চালানো হচ্ছে।

ফরিদপুরে রবিবার সন্ধ্যায় আলফাডাঙ্গা উপজেলার বানা ইউনিয়নের টাবনী ঘোষবাড়ির সামনে কালবৈশাখী ঝড়ের কবলে গাছচাপা পড়ে মা-মেয়ের মৃত্যু হয়েছে। নিহতরা হলেন- জেলার মধুখালী উপজেলার বাজিতপুর গ্রামের মো. জাহিদের স্ত্রী মোসাম্মাৎ হালিমা (২৫) এবং তাদের ৪ মাস বয়সী শিশুকন্যা আফছানা।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বোয়ালকারী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক রাফেজা আক্তার মিলি জানিয়েছেন, ঝড়ে গাছচাপায় মোসাম্মাৎ হালিমা ঘটনাস্থলেই মারা যান। হাসপাতালে আনার পথে তাদের শিশুকন্যা আফছানার মৃত্যু হয়।

কুষ্টিয়ায় রবিবার বিকেলে দৌলতপুর উপজেলার মহিষাডোরার আল্লারদর্গা এলাকার শশীধরপুর গ্রামে কালবৈশাখী ঝড়ে উড়ে আসা টিনের আঘাতে এক যুবকের মৃত্যু হয়েছে। নিহতের নাম রবিউল ইসলাম (৪০)। তিনি স্থানীয় বাসিন্দা সাদ মণ্ডলের ছেলে এবং পেশায় একজন সবজি বিক্রেতা।

কুষ্টিয়া জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল কর্মকর্তা তাপস কুমার সরকার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে জানিয়েছেন, রবিবার সন্ধ্যায় হাসপাতালে আনার আগেই রবিউলের মৃত্যু হয়।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here