সোমবার থেকে সারাদেশে ‘লকডাউন’

নিজস্ব প্রতিনিধিঃ করোনাভইরাসের সংক্রমণ হঠাৎ করে বেড়ে যাওয়ায় সারা দেশে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দেওয়া হচ্ছে। আগামী সোমবার থেকে সাত দিন এই লকডাউন বলবৎ থাকবে বলে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন।

শনিবার (৩ এপ্রিল) নিজের বাসায় গণমাধ্যমকে তিনি জানান, গত কয়েক দিন ধরেই প্রতিদিন ছয় হাজারের বেশি মানুষ করোনায় আক্রান্ত হচ্ছে। গতকাল শুক্রবার একদিনে শনাক্ত সাত হাজারের কাছাকাছি পৌঁছায়। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির অবনতির কারণে সরকার এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

ওবায়দুল কাদের বলেন, সারাদেশে আগামী সোমবার (৫ এপ্রিল) থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত লকডাউন ঘোষণার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।

এ বিষয়ে জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী ফরহাদ হোসেন বলেন, হঠাৎ বেড়ে যাওয়া করোনা সংক্রমণ রোধ করতে সরকার ২-৩ দিনের মধ্যে এক সপ্তাহের জন্য লকডাউনের চিন্তা করছে সরকার। এখনই চূড়ান্ত দিন তারিখের কথা উল্লেখ না করলেও এক সপ্তাহের এই লকডাউন সোম অথবা মঙ্গলবার শুরু হতে পারে এবং জনগণকে প্রস্তুতি নেবার সুযোগ দেয়া হবে বলে তিনি বলছেন।

আর সরকার বলছে করোনাভাইরাসে দ্বিতীয় ঢেউ সামলানোর জন্য এটা করা হয়েছে।

প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, জরুরি সেবা দেওয়া প্রতিষ্ঠানগুলো লকডাউন চলাকা‌লে খোলা থাক‌বে। এছাড়া শিল্প-কলকারখানাও খোলা থাক‌বে, যা‌তে ক‌রে শ্রমিকরা শিফ‌টিংয়ের মাধ্যমে কাজ করতে পারে।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘মানুষের চলাফেরা যাতে কমাতে পারি সেজন্য আমরা আপাতত এক সপ্তাহের জন্য লকডাউন দিচ্ছি। সরকারি ও বেসরকারি অফিস-আদালত বন্ধ থাকবে। সব ধরনের মার্কেট বন্ধ থাকবে।

তিনি বলেন, আমাদের জরুরি সেবা দেয়া প্রতিষ্ঠান, ডিসি অফিস, ইউএনও অফিস, ফায়ার সার্ভিসের অফিস, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার অফিস, সংবাদপত্র অফিস- এই ধরনের অফিস খোলা থাকবে। শিল্প ও কলকারখানা খোলা থাকবে, সেখানে একাধিক শিফট করে স্বাস্থ্যবিধি মেনে যাতে শ্রমিকরা কাজ করেন- সেটা নিশ্চিত করতে হবে।

গণপরিবহন বন্ধ থাকবে কিনা- জানতে চাইলে ফরহাদ হোসেন বলেন, ‘আমরা যখন এ বিষয়ে প্রজ্ঞাপন জারি করব সেখানে তা স্পষ্ট করে বলা হবে। এখনই এ বিষয়ে বলছি না।’

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, ‘মানুষের চলাচল যাতে একেবারে সীমিত করে ফেলা যায় আমরা সেই পদক্ষেপ নেব। কেউ অপ্রয়োজনে ঘর থেকে বের হতে পারবে না।’

অনেক লোক বিভিন্ন স্থানে গিয়ে আটকে থাকতে পারে, তাদের সেই সুযোগটা দিয়ে একদিন পর লকডাউন দেয়া হচ্ছে বলেও জানান জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী।

এদিকে ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার বিরাজমান পরিস্থিতিতে সরকার সোমবার থেকে এক সপ্তাহের জন্য সারাদেশে লকডাউনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের একথা জানিয়ে বলেন, আজ সন্ধ্যার মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় বিস্তারিত জানাবেন। সেইসঙ্গে শিল্প কলকারখানা সর্তসাপেক্ষ চালু থাকতে পারে বলেও জানান ওবায়দুল কাদের।।

বিএনপি যে নেতিবাচক ভাইরাসে আক্রান্ত তা করোনার চেয়েও ভয়াবহ বলে মন্তব্য করেছেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের।

করোনা মহামারিতে বিএনপি জনগণের পাশে না দাঁড়িয়ে ঘরে বসে মিডিয়ায় ঝড় তোলা আর সরকারের অন্ধ সমালোচনা ও মিথ্যাচারই  করোনাকালে বিএনপির সফলতা বলে মনে করেন ওবায়দুল কাদের। বলেন, তারা সরকারের কোন উদ্যোগ চোখে দেখে না।

একবার লকডাউন নিয়ে অপপ্রচার, আবার করোনা ভ্যাকসিন নিয়ে মিথ্যাচার, কখনো কখনে সরকারের ব্যর্থতা খোঁজা বিএনপির রোজনামচা উল্লেখ করে আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক বলেন একটি দায়িত্বশীল রাজনৈতিক দল হয়েও দুর্যোগে মানুষের পাশে দাঁড়ানোর নূন্যতম মূল্যবোধও তারা হারিয়ে ফেলেছে।

জনগণের সম্পদ বিনষ্ট আর নৈরাজ্য সৃষ্টির মাধ্যমে বিএনপি এবং তার সহযোগীরা যে তান্ডবলীলা চালিয়েছে তার জন্য বিএনপিকেই জনগণের কাঠগড়ায় দাঁড়াতে হবে বলে মন্তব্য করেন ওবায়দুল কাদের।

তিনি বলেন আন্দোলনের নামে জনগণের উপর প্রতিশোধ নেওয়াই এখন বিএনপির কৌশল।

যারা কথা দিয়ে কথা না রেখে দূরপাল্লায় দ্বিগুণ ভাড়া আদায় করছে, তাদের উদ্দেশে সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী ওবায়দুল কাদের বলেন দুর্যোগের মধ্যে জনগণের দুর্ভোগ বাড়াবেন না।

করোনা সংক্রমণ ও মৃত্যুর হার দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় সবাইকে স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা এবং মাস্ক পড়া জরুরি কর্তব্য বলে মনে করে সেগুলো পালন করার আহবান জানান সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী।

ওবায়দুল কাদের বলেন, করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকার ইতিমধ্যে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছে  কিন্তু এখনো অনেকেই মাস্ক পরিধানসহ স্বাস্থ্যবিধির প্রতি অনিহা দেখাচ্ছে, যা প্রকারান্তরে ভয়াবহ পরিস্থিতি নিয়ে আসতে পারে। নিজেদের সুরক্ষায় সবাই সর্বোচ্চ সতর্কতা অবলম্বন করাই এখন মূল কাজ।

রমজান এলেই এক শ্রেণীর ব্যবসায়ী নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বাড়িয়ে দেয়, যা শাস্তি যোগ্য অপরাধ, সড়ক পরিবহন ও সেতুমন্ত্রী এবিষয়ে  সংশ্লিষ্টদের উদ্দেশে করে বলেন অহেতুক মূল্য বৃদ্ধি ও মজুদদারিতা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে।

ইতোমধ্যে সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়ে ওবায়দুল কাদের বলেন, বাজার অস্থির করার যে কোন অপপ্রয়াস সরকার মেনে নিবে না, কোন ধরনের সিন্ডিকেটের কাছে সরকার বাজার ব্যবস্থাকে জিম্মি হতে দিবে না বলেও হুঁশিয়ার করে দেন ওবায়দুল কাদের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here