পটুয়াখালী মির্জাগঞ্জে ইউনিয়ন ভুমি সহকারীর বিরুদ্ধে অতিরিক্ত অর্থ নেয়ার অভিযোগ

সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী ঃপটুয়াখালীর মির্জাগঞ্জ উপজেলা সদরের সুবিদখালী ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের বিরুদ্ধে দাখিলায় অতিরিক্ত অর্থ ও নানা অনিয়মের মাধ্যমে অর্থ আদায়ের অভিযোগ উঠেছে। দাখিলা কাটতে জমির প্রকৃত মালিকদের উপস্থিত থাকার কথা থাকলে স্থানীয় দলিল লেখক ও দালালদের মাধ্যমে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দাখিলা দিচ্ছেন তিনি।
এ ইউনিয়ন ভূমি অফিসে দাখিলা, দাগ-খতিয়ান ও মিউটেশনের তথ্য সরবরাহে অতিরিক্ত অর্থ না দিলে ঘুরতে হয় দিনের পর দিন। অবশেষে ধার্যকৃত টাকা দিয়ে কাজ সম্পন্ন করেন এমনও অভিযোগ উঠেছে। এছাড়াও সরকারি নিয়মনীতির তোয়াক্কা করছেন না ইউনিয়ন ভূমি অফিসের ওই দায়িত্বরত কর্মকর্তারা। তিনি পটুয়াখালী থেকে প্রতিদিন এসে এখানে অফিস করছেন। সকাল ৯-৫টা পর্যন্ত অফিস করার কথা থাকলেও তিনি প্রতিনিই আসেন দেড়ি করে। তিনি ২০ শতাংশ জমি নামজারি করতে ১ লক্ষ টাকা চান ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা এবং ২০ শতাংশ জমির দাখিলা কাটার জন্য ৩ হাজার টাকা নিলে ইউনিয়ন ভূমি সহকারি কর্মকর্তা মো. রফিকুল ইসলাম সুদসহ ২৩১ টাকার দাখিলা কেটে দেন জমির মালিক শামিম মোল্লাকে। নিজে অশিক্ষিত থাকার কারনে এ বিষয়ে অন্যের কাছ থেকে জানতে পেরে তিনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি কর্মকর্তার কাছে ১৬ মার্চ লিখিত অভিযোগ দেন মো.শামিম মোল্লা। উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা অভিযোগটি আমলে নিয়ে তদন্তের জন্য উপজেলা ভূমি অফিসের পেসকার মো. মনিরুল ইসলামের কাছে প্রেরন করেছেন।
অভিযোগে বলেন, ১৯৮১ সালের ক্রয়কৃত ২০ শতাংশ জমি গত ১৫ মার্চ দুপুরে নামজারি করার জন্য সুবিদখালী ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলামের কাছে গেলে প্রথমে তিনি নামজারি বাবদ ১ লক্ষ টাকা দাবী করেন। পরে তা ৫০ হাজার টাকা চান। এত টাকা শামিম মোল্লা দিতে না পারায় শেষে ২৫ হাজার টাকা চান নামজারির জন্য। সে টাকা দিতে না পারায় ২০ শতাংশ জমির দাখিলা কাটতে গেলে তাঁর কাছে ৩ হাজার টাকা চাইলে,তাকে টাকা দেই। আমি পড়তে না পারায় অন্য একজনের কাছে দাখিলাটি দেখাইলে তিনি বলেন ২৩১ টাকার দাখিলা কেটেছেন। বাকি টাকা ফেরৎ চান। তাই অসহায় শামিম মোল্লা বাকি টাকা পাওয়ার জন্য অভিযোগ করেছেন। অভিযোগটির তদন্তকারী কর্মকর্তা মো. মনিরুল ইসলাম বলেন,অভিযোগটি পেয়েছি। তদন্ত করে উপজেলা সহকারি কমিশনার স্যারের কাছে জমা দেয়া হবে।
এব্যাপারে ইউনিয়ন ভূমি সহকারী কর্মকর্তা মোঃ রফিকুল ইসলাম বলেন, দাখিলা বাবদ আমি অতিরিক্ত কোন টাকা নেইনি। আমার নামে মিথ্যা রটানো হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও উপজেলা সহকারি কমিশনার ভূমি কর্মকর্তা মোসা. তানিয়া ফেরদৌস বলেন, তদন্ত করে যথাযথ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here