মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে এমপিকে ক্ষমা চাইতে বললেন উপজেলা চেয়ারম্যান

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি:গত বছরের এক অনুষ্ঠানে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের সবাইকে উত্তরীয় পরিয়ে না দেয়ায় তাদের কাছে ক্ষমা চাইতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য উম্মে ফাতেমা নাজমা বেগমের (শিউলী আজাদ) প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন সরাইল উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর।

বুধবার (১৭ মার্চ) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী ও জাতীয় শিশু দিবস উপলক্ষে এক আলোচনা সভায় তিনি এ আহ্বান জানান।

সরাইল উপজেলা বীর মুক্তিযোদ্ধা সংসদ, কমান্ডার কাউন্সিল এ আলোচনার আয়োজন করে।

সভায় নারী এমপি শিউলী আজাদকে উদ্দেশ্য করে উপজেলা চেয়ারম্যান রফিক উদ্দিন ঠাকুর বলেন, আপনার শক্তি আমাদের চেয়ে বড় নয়। সব বীর মুক্তিযোদ্ধা একত্র হয়ে আপনার বিরুদ্ধে দাঁড়ালে, আপনি এখানে দাঁড়াতেই পারবেন না। এখনো সময় আছে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার মাধ্যমে একটা বসার পরিবেশ তৈরি করুন। ইউএনওর সঙ্গে কথা বলুন। এক্ষেত্রে আমার সহযোগিতা লাগলে আমিও করতে প্রস্তুত আছি।

তিনি বলেন, আলোচনায় আসেন এবং বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চান। জাতির শ্রেষ্ঠ সন্তান বীর মুক্তিযোদ্ধাদের অবমাননা করে এ দেশে কেউই টিকতে পারেনি, আপনিও পারবেন না।

স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা জানান, গত বছর সরাইলে বীর মুক্তিযোদ্ধাদের এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে নারী এমপি শিউলী আজাদ কয়েকজন বীর মুক্তিযোদ্ধাদের উত্তরীয় পরাননি। এতে তারা অপমানিত বোধ করেন। এরপর থেকে স্থানীয় বীর মুক্তিযোদ্ধারা সংসদ সদস্য শিউলী আজাদের সব অনুষ্ঠান বর্জন করে আসছেন। এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৭ মার্চ উপজেলা প্রশাসনের উদ্যোগে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এমপি শিউলী আজাদ প্রধান অতিথি হওয়ায় উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদ আলাদা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার বীর মুক্তিযোদ্ধা ইসমত আলী বলেন, নারী সংসদ সদস্যকে আমন্ত্রণ করায় উপজেলা প্রশাসন আয়োজিত ১৭ মার্চের অনুষ্ঠান আমরা বয়কট করেছি। আজকে মুক্তিযোদ্ধাদের আলোচনা সভায় উপজেলা চেয়ারম্যান তাকে আহ্বান জানিয়েছেন, ইউএনওর মাধ্যমে বিষয়টি মীমাংসা করে মুক্তিযোদ্ধাদের কাছে ক্ষমা চাইতে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে সংরক্ষিত আসনের এমপি উম্মে ফাতেমা নামজা বেগম (শিউলী আজাদ) বলেন, তারা কেন এই কথা বলবেন? বীর মুক্তিযোদ্ধারা আমার পরম শ্রদ্ধেয়। যে অনুষ্ঠানটির কথা বলছেন, সেখানে আমি তিনজন মুক্তিযোদ্ধাকে উত্তরীয় পরিয়ে দেয়ার পর আয়োজকরা আমাকে বললো বাকিগুলো তারা পরিয়ে দেবেন। অনুষ্ঠানে উপস্থিত তরুণরা মুক্তিযোদ্ধাদের আসনে গিয়ে উত্তরীয় পরিয়ে দিয়েছেন। এর ছবিও আমার কাছে আছে। যারা এই কথা বলছেন তারা আমার স্বামী ইকবাল আজাদ হত্যা মামলার আসামি। নিজেরা বাঁচার জন্য এসব কথা বলছেন

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here