মহাদেবপুরে বেগুন খেতে পোকার আক্রমণ

Exif_JPEG_420

রওশন জাহান, নওগাঁ : নওগাঁর মহাদেবপুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকায় বেগুন খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। কীটনাশক স্প্রে করেও পোকার আক্রমণ ঠেকাতে পারছেন না চাষীরা। মওসুমের এই সময় আলুসহ বিভিন্ন সবজি বাজারে ওঠায় এমনিতেই বেগুনের দাম কমে গেছে। তার উপর পোকার আক্রমণে দিশেহারা হয়ে পড়েছেন বেগুন চাষীরা।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্র জানায়, এবার উপজেলার ১০ ইউনিয়নে আড়াইশ’ হেক্টর জমিতে বেগুনসহ নানান রবি ফসল আবাদ করা হয়েছে। এরমধ্যে বেগুনের আবাদ খুব ভাল হয়েছে। শুরুতে চাষীরা ৪০ টাকা থেকে ৬০ টাকা কেজি দরে বেগুন বিক্রি করেছেন। এখানকার খেত থেকে উঠিয়ে পাইকাররা কিনে নিয়ে ট্রাকে ট্রাকে বেগুন রাজধানী ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়ে বিক্রি করে প্রচুর মুনাফা লাভ করেছেন। কিন্তু এখন বেশীরভাগ বেগুন খেতে পোকার আক্রমণ দেখা দেয়ায় ফলনও কমে গেছে। বিস্তর টাকা খরচ করে বেগুন খেতে কীটনাশক স্প্রে করার খরচ বাদ দিয়ে বেগুন খেত থেকে তেমন আর লাভ পাচ্ছেন না চাষীরা। তাই অনেকে খেত থেকে বেগুনের গাছ তুলে ফেলে নতুন ফসল আবাদের চিন্তা করছেন। বাজারে এখন বেগুনের কেজি ৫ টাকা থেকে ১০ টাকা।

সম্প্রতি সরেজমিনে উপজেলার খাজুর ইউনিয়নের কুঞ্জবন মাঠে গিয়ে দেখা যায়, বেগুনের খেতে কীটনাশক স্প্রে করছেন এক চাষী। কাছে গিয়ে জানতে চাইলে তিনি ওইগ্রামের গোপাল চন্দ্র বর্মণের ছেলে বিষ্ণু চন্দ্র বর্মণ (৪০) বলে জানান। ডিগ্রি পাশ করা বিষ্ণু নিজের ছয় কাঠা জমিতে বেগুন চাষ করেছেন। তিনি জানান, গত দুই মাস থেকে বেগুনের ভাল ফলন পেয়েছেন। তখন দামও ছিল বেশি। হঠাৎ করে পোকার আক্রমণ দেখা দিয়েছে। তার ভাষায় এই পোকার নাম বেগুন ছিদ্র করা পোকা। পোকার আক্রমণে বেগুন গাছের পাতা হলদে বর্ণ ধারণ করেছে।
কুঁকড়ে গেছে গাছের কান্ড। কোন কোন গাছ মরে যাচ্ছে। বেগুন ধরলেও বেগুনের ভীতরও পোকা থাকছে।

এর প্রতিকার হিসেবে তিনি দুইটি কোম্পানীর কীটনাশক ব্যবহার করছেন। ১৬ লিটার পানিতে কীটনাশকের একটি পাতা গুলে সপ্তাহে দুইদিন স্প্রে করছেন। এতে পোকা কিছুটা কমছে বটে কিন্তু একেবারে শেষ হচ্ছেনা। তিনি জানান, তার মত অনেকের খেতেরই একই অবস্থা। স্প্রে করা কীটনাশক বেগুনের গাছের পাতার উপর ছাড়াও গাছে গাছে ধরে থাকা বেগুনের উপরও পড়ছে। কীটনাশক লেগে থাকা বেগুন খেলে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতি হবে কিনা সে ব্যাপারে তিনি কিছু জানাতে পারেননি। আজকাল কীটনাশক প্রয়োগ ছাড়াই অনেক আধুনিক পদ্ধতিতে খেতের পোকা দমন করা যায় সেবিষয়ে তাকে কেউ কোনদিন জানায়নি। তিনি জানান, এলাকায় কর্মরত উপ-সহকারি কৃষি কর্মকর্তারা তাদের গ্রামে কোনদিন আসেননি।

জানতে চাইলে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ অরুন চন্দ্র রায় জানান, বেগুন খেতে প্রয়োগ করা কীটনাশক খুব হালকা। ওই বেগুন খেলে স্বাস্থ্যের কোন ক্ষতির সম্ভাবনা নেই।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here