এলাকাবাসীর সঙ্গে রাতভর সংঘর্ষ-গুলি, ৪০ জাবি শিক্ষার্থী আহত

জাবি প্রতিনিধি:জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) সংলগ্ন গেরুয়া এলাকায় স্থানীয়দের সঙ্গে দফায় দফায় হামলা অন্তত ৪০ জাবি শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন। মসজিদে মাইকিং করে শিক্ষার্থীদের ওপর এ হামলা চালানো হয়েছে বলে স্থানীয়দের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে।

শুক্রবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) সন্ধ্যার পর থেকে শুরু করে রাত ৩টা পর্যন্ত দফায় দফায় হামলা ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এ সময় নয়বার গুলির শব্দ শোনা গেছে। দুপক্ষ থেকে ইট-পাটকেল ছোড়া হয়েছে। সংঘর্ষ চলাকালে শিক্ষার্থীরা ক্যাম্পাসের ভেতরের অংশে ও গ্রামবাসী বাইরে মুখোমুখি অবস্থান নেয়।

হামলার ঘটনায় অন্তত ৪০ শিক্ষার্থী আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন জাবি চিকিৎসাকেন্দ্রের কর্তব্যরত মেডিকেল অফিসার ডা. মাহফুজ।

তিনি জানান, আহতদের বেশিরভাগের ইটের আঘাতে মাথা, মুখ, শরীরের বিভিন্ন স্থান ক্ষতবিক্ষত হয়েছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে অনেককে স্থানীয় এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

সন্ধ্যা থেকে চলা সংঘর্ষের পর রাতে নিরাপত্তাহীনতায় গেরুয়া এলাকায় যেতে না পেতে অনেক শিক্ষার্থী বিপাকে পড়েন। শিক্ষার্থীরা রাতে হল খুলে দেয়ার দাবি তোলেন। প্রশাসনের পক্ষ থেকে তা নাকচ করে দিয়ে হোটেল ভাড়া করে রাতে থাকার পরামর্শ দেয়া হয়। করোনা সংক্রমণের কারণে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের মতো জাবি ক্যাম্পাস ও হল বন্ধ রয়েছে।

এদিকে হল খোলার দাবিতে শনিবার (২০ ফেব্রুয়ারি) সকাল ১০টায় ক্যাম্পাসের শহীদ মিনার পাদদেশে বিক্ষোভ সমাবেশ করার ঘোষণা দিয়েছেন জাবি শিক্ষার্থীরা।

রাতের সংঘর্ষের ঘটনার বিবরণ দিয়ে প্রত্যক্ষদর্শী কয়েকজন জানান, কয়েকদিন আগে একটি ক্রিকেট টুর্নামেন্টকে কেন্দ্র করে স্থানীয় কয়েকজন যুবকের সঙ্গে জাবি শিক্ষার্থীদের ঝামেলা হয়। সমস্যা সমাধানে শুক্রবার বিকেলে স্থানীয় যুবকদের সঙ্গে আলোচনা করতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের কয়েকজন শিক্ষার্থী। একপর্যায়ে কথা কাটাকাটি হলে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের গেরুয়া বাজারের একটি ভবনে আটকে রাখা হয়। সেখানে স্থানীয়রা তাদের মারধর করে। এতে বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্রলীগের সাংগঠনিক সম্পাদক অভিষেক মণ্ডল, কার্যনির্বাহী সদস্য অ্যালেক্সসহ ৩ জন আহত হন। শিক্ষার্থীদের সঙ্গে থাকা ৫টি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করে স্থানীয়রা।

সংঘর্ষ চলাকালে রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর আ স ম ফিরোজ উল হাসান রাতে বলেন, ‘ আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখার চেষ্টা করছি। ঘটনাস্থলে পর্যাপ্ত পুলিশ না থাকায় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হচ্ছে না। পুলিশ আনার জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’

রাতে দুপক্ষের সঙ্গেই কথা বলে পরিস্থিতি শান্ত করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে জানান আশুলিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুজ্জামান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here