চিকিৎসাসেবায় একুশে পদক কেন নয়?

এ বি এম কামরুল হাসান:চিকিৎসা ক্ষেত্রে অবদানের জন্য কোন চিকিৎসককে একুশে পদক দেয়া হয় না। এযাবৎ যত চিকিৎসক এ পদকটি পেয়েছেন, তাঁদের বেশিরভাগই পেয়েছেন গবেষণা, সমাজসেবা বা শিক্ষায়। দু-একজন পেয়েছেন মুক্তিযুদ্ধ বা ভাষা আন্দোলনে অবদানের জন্য। ব্যতিক্রম শুধু অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার। তিনি গত বছর এটি পেয়েছেন চিকিৎসায়।

একুশে পদক দেয়া শুরু হয় ১৯৭৬ সালে। সে বছর শিক্ষা, সাহিত্য ও সাংবাদিকতায় নয় জনকে পদক দেয়া হয়। পরের বছর থেকে সংযুক্ত হতে থাকে শিল্পকলার কিছু শাখা। শিল্পকলা শাখায় একে একে প্রবেশ করে সংগীত, নাটক, নৃত্য, চিত্রশিল্প, চারুশিল্প, যাদুশিল্প ইত্যাদি। অন্যদিকে মূল শাখার ভেতর ধীরে ধীরে সংযুক্ত হয় ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, সমাজসেবা ও রাজনীতি। সবশেষ সংযুক্তি হলো বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং অর্থনীতি, ২০১৭ সাল থেকে। সে সময়ের নীতিমালায় পদকের সংখ্যা সর্বাধিক পনেরো নির্ধারণ করা হয়। ২০১৯ সালের একুশে পদক নীতিমালা পুনরায় সংশোধন করে পদক সংখ্যা সর্বাধিক একুশ নির্ধারিত হয়। সবশেষ এই সংশোধনীতে নতুন কোন ক্ষেত্র যোগ করা হয়নি। যার ফলে এখন পর্যন্ত চিকিৎসা সেবা একুশে পদকের জন্য বিবেচিত কোন ক্ষেত্র নয়। তবে নীতিমালার বারোটি ক্ষেত্রের সবশেষটি হচ্ছে, সরকার কর্তৃক নির্ধারিত অন্য যে কোন ক্ষেত্র। বোধ করি, অধ্যাপক ডা. সায়েবা আক্তার ‘অন্য যে কোন ক্ষেত্র’ র আওতায় চিকিৎসায় গত বছর একুশে পদক পেয়েছিলেন।

 

একুশে পদক শুরু করার পর ৪৬ বছর পেরিয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত চিকিৎসা সেবাকে এ পদকের জন্য রুটিনভাবে বিবেচনা করা হয়নি। তাইতো একুশে পদক পাবার জন্য চিকিৎসকদের গবেষণা, সমাজসেবা বা শিক্ষাক্ষেত্রে অন্য পেশাজীবীদের সাথে প্রতিযোগিতা করতে হচ্ছে। অথচ এ পেশার লোকদের দেশের প্রতিটি আন্দোলন, সংগ্রাম, দুর্যোগ, মহামারীতে রয়েছে গৌরবোজ্জ্বল ইতিহাস। নব্বই এর গণ আন্দোলনে ডা. মিলন সামনের কাতারে থেকে শহিদ হয়েছেন। স্বাধীনতা যুদ্ধে শতাধিক চিকিৎসক আত্মাহুতি দিয়েছেন। চলতি কোভিড মহামারীতে প্রায় দেড় শতাধিক চিকিৎসক শহিদ হয়েছেন। সবখানেই চিকিৎসকরা আছেন। কিন্তু চিকিৎসা ক্ষেত্রে একুশে পদক কেন নয় ? চিকিৎসা ক্ষেত্রে গৌরবোজ্জ্বল ও কৃতিত্বপূর্ণ অবদান কি কোন চিকিৎসকের নেই ? এমনকি মরণোত্তর ? এমনকি এই কোভিডকালের শহিদ চিকিৎসকদের মধ্যেও কি কেউ নেই ?

চিকিৎসকদের মধ্যে থেকে দাবি উঠছে, চিকিৎসা সেবাকে একুশে পদকের জন্য রুটিনভাবে বিবেচনা করা হোক। বিজ্ঞান, প্রযুক্তি বা অর্থনীতিকে একুশে পদকের জন্য বিবেচনা করা হলে, চিকিৎসা সেবা কেন নয় ? এ ব্যাপারে চিকিৎসকদের সংগঠন বিএমএ-কে সোচ্চার হওয়া প্রয়োজন। এগিয়ে আসতে হবে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কেও।

লেখক: প্রবাসী চিকিৎসক, কলামিস্ট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here