ববি’র শিক্ষার্থীদের ওপর হামলা, উত্তপ্ত বরিশাল

শামীম আহমেদ,বরিশাল:বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের (ববি) শিক্ষার্থীদের ওপর মঙ্গলবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে বাস শ্রমিকদের হামলার ঘটনায় মহাসড়ক অবরোধ করে তিন দফা দাবি জানিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। দাবি আদায়ে বিক্ষুব্ধরা বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস সংলগ্ন একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দিয়েছে শিক্ষার্থীরা।

বুধবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) দুপুর সকাল থেকে বরিশাল-কুয়াকাটা রুটে দক্ষিণাঞ্চলের সাথে যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে। বেলা ১১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা ভিসি প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিনের সাথে বৈঠক করেছেন। এ সময় তারা ৩টি দাবি যথাক্রমে অপরাধীদের শাস্তির আওতায় আনা, হামলার রাতে প্রক্টরিয়াল বডির ব্যর্থতার জবাব চাওয়া এবং বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের নতজানু নীতি পরিহার করা।

ভিসি প্রফেসর ড. ছাদেকুল আরেফিন শিক্ষার্থীদের সকল দাবি খতিয়ে দেখবেন বলে আশ্বাস দিয়েছেন। ওই ঘটনার পর বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনের সড়কে কুয়াকাটা এক্সপ্রেস নামে একটি যাত্রীবাহী বাসে আগুন ধরিয়ে দেয় ছাত্ররা। খবর পেয়ে ফায়ার সার্ভিস কর্মীরা গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনেন।

এর আগে বুধবার রাত ১টার দিকে বাস মিনিবাস মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক শিপনের নেতৃত্বে মানিক ও মামুন তার দলবল নিয়ে বরিশাল রুপাতলী হাউজিংয়ের আবাসিক এলাকার ১৯, ২২ ও ২৩ নং রোডে অবস্থিত বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মেসের সামনে অবস্থান নেয়। এক পর্যায়ে ধারালো চাপাতি, রামদা, রোড তিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের ১৩ জন শিক্ষার্থীকে বেধরক মারধর করে কুপিয়ে গুরুতর আহত করেছে। তারা বর্তমানে শেবাচিম মেডিসিন ও সার্জারি বিভাগে ভর্তি হয়েছেন।

এ খবর মধ্যরাতে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আতঙ্ক দেখা দেয়। শিক্ষার্থীদের একাংশ বিশ্ববিদ্যালয় সংলগ্ন বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়ক ইট পাটকেল ছিটিয়ে অবরোধ করে রাখে। বুধবার সকাল সাড়ে ৮টা থেকে শিক্ষার্থীরা মহাসড়কে জরো হয়ে অবরোধ সৃষ্টি করে রেখেছে। দুপুর নাগাদ শত শত বাস মহাসড়কের দুই পাশে আটকা পড়েছে। তীব্র যানজটের কারণে সাধারণ মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

এ ব্যাপারে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ড. সুব্রত কুমার দাস বলেন, রাতের আঁধারে শিক্ষার্থীদের উপর হামলার ঘটনা দুঃখজনক। বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি নিজেই এ বিষয়টি দেখবাল করছেন।

প্রসঙ্গত, মঙ্গলবার বিআরটিসি বাস শ্রমিক রফিক কর্তৃক বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই শিক্ষার্থীকে রুপাতলী এলাকায় লাঞ্চিত ও মারধরের জেরে বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ করেছিলেন শিক্ষার্থীরা। এদিকে শিক্ষার্থীদের অবরোধের ফলে বরিশাল-কুয়াকাটা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে।

প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, সকালে ওই বাসটি যাত্রী নিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের সামনে দিয়ে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল, তখন হঠাৎ বাসটিতে ভাংচুর চালায় আন্দোলনকারীরা। এরপর বাসটি মহাসড়কের ওপর ফেলে রেখে চলে যান চালক ও হেলপার। সকাল সাড়ে ১০টার দিকে যাত্রীবিহীন ওই বাসটিতে আগুন ধরিয়ে দেন তারা। এদিকে মঙ্গলবার রাতের ওই হামলার ঘটনায় আহত ১৩ জনকে সকাল সাড়ে ৯টায় শের-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে দেখতে যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো. ছাদেকুল আরেফিন।

এদিকে বিকালে নগরীর অশ্বিনী কুমার টাউন হলের সামনে পৃথকভাবে বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়ন ও বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্র আন্দোলন বিক্ষোভ মিছিল ও সমমাবেশ করে দ্রুত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদের উপর হামলাকারী গ্রেফতারের দাবি জনান।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here