বাবুগঞ্জে শহীদ মিনার ময়লার ভাগাড়!

আরিফ হোসেন,বাবুগঞ্জ:বরিশালের বাবুগঞ্জের দেহেরগতি ইউনিয়নের রাহুৎকাঠি বন্দরে প্রায় ১২বছর আগে ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মীত হয় একটি পাকা শহীদ মিনার। বর্তমান ও ভবিষ্যৎ প্রজন্মের কাছে ভাষা শহীদদের সম্মান ও গুরুত্ব তুলে ধরতে বন্দর কর্তৃপক্ষের উদ্যোগে নির্মীত হয় শহীদ মিনারটি। কিন্তু নির্মানের পর থেকেই কর্তৃপক্ষের অব্যবস্থাপনায় ময়লার ভাগাড়ে পরিনত হয় মহান ভাষা শহীদদের স্মরণে নির্মীত ঐ মিনারটি। ২১শে ফেব্রুয়ারি এলে কোন রকম পরিষ্কার করা হলেও পরের দিন থেকে নিয়মিত বাজারের সমস্ত ময়লা সেখানেই ফেলা হয় বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা। সরেজমিনে দেখা গেছে, দেহেরগতি ইউনিয়নের ঐতিহ্যবাহি রাহুৎকাঠি বাজারের (সাবেক শিকারপুর ফেরিঘাট)প্রবেশদ্বারে হাতের বামপাশেই পাবলিক টয়লেট ঘেঁষে নির্মান করা হয়েছে শহীদ মিনার টি। মিনারের চারপাশে ও মিনারের উপরে ফেলা রয়েছে সমস্ত বাজারের নোংরা ময়লা আবর্জনা। বেওয়ারিশ কুকুরগুলোর একমাত্র রাত্রিজাপনের স্থান হয়ে দাড়িয়েছে শহীদ মিনারটি।
সাবেক মুক্তিযোদ্ধা ডেপুটি কমান্ডার আব্দুল করিম হাওলাদার বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রথম অঙ্কুর রোপিত হয়েছিল বায়ান্নর ভাষা আন্দলনের মাধ্যমে। ‘মাতৃভাষা বাংলা চাই’ স্লোগানের জন্য সালাম,রফিক, জব্বারের আত্মদানের মাধ্যমেই বাঙ্গালী স্বাধীনতা লাভের আকাঙ্খা তীব্র হয়। আমাদের ভাষা শহীদদের যথাযথ মর্যাদা দিতে হবে। শহীদ মিনার একটি পবিত্র স্থান সেখানে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা অমানবিক চিন্তার বিকাশ।
সচেতন মহলের নেতৃবৃন্দ বলেন, মূলত ভাষা শহীদদের ত্যাগের বিনিময়ে আমরা মাতৃভাষা বাংলা পেয়েছি । আর ভাষা শহীদদের স্মৃতি ও আত্মত্যাগের সঠিক ইতিহাস প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পাড়া-মহল্লায় ও গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠানে শহীদ মিনার তৈরি করা হয়। শহীদ মিনার শুধু একদিন ফুল দিয়ে শ্রদ্ধা জানানোর জন্য নয়। শহীদ মিনার এভাবে ময়লার ভাগাড় তৈরি করা হলে এ প্রজন্মের কাছে শহীদ মিনারের গুরুত্ব কমে যাবে।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোঃ আমীনুল ইসলাম বলেন, আমাকে বিষয়টি এর আগে কেউ জানায়নি। শহীদ মিনার ময়লার ভাগাড় হয়ে থাকলে তাৎক্ষনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here