৩৮ বছর ধরে একুশের চেতনায় তিন নদী পরিষদ

রুবেল মজুমদার, কুমিল্লা:আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি, আমি কি ভুলিতে পারি- ফেব্রুয়ারি মাস এলেই গানটির মর্মবোধ জেগে ওঠে বাঙালির হৃদয়ে।৫২ এর বাংলা ভাষাকে পূর্ব পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা হিসাবে প্রতিষ্ঠা করার দাবি জানায় ছাত্ররা। সেদিন কুমিল্লার রাজপথ থেমে থাকেনি। কুমিল্লার ২ কৃতী সন্তান ভাষাসৈনিক ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত ও বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল ইসলাম ভাষা আন্দোলন ও আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস প্রতিষ্ঠিত হওয়ার ক্ষেত্রে অনবদ্য ভূমিকা রেখেছেন- যা কুমিল্লাবাসীর জন্য ইতিহাসে অত্যন্ত গর্বের বিষয়’।

ভাষা আন্দোলনসহ অধিকার প্রতিষ্ঠার সব রকম ন্যায়সঙ্গত সংগ্রামেই কুমিল্লার ছিল মুখরিত। ১৯৪৭ সালের ৩ জুন ভারত বিভাগের মাউন্টব্যাটন পরিকল্পনার পর থেকে পাকিস্তানের রাষ্ট্রভাষা নিয়ে বিভিন্ন জল্পনা-কল্পনা শুরু হলেও মোটামুটি নিয়ন্ত্রিত বিদ্রোহ ঘটে বা ভাষার প্রশ্ন ওঠে ১৯৪৮ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাকিস্তান গণপরিষদের প্রথম অধিবেশনে। এখানে কংগ্রেসী নেতা ধীরেন্দ্রনাথ দত্ত উর্দু ও ইংরেজীর সঙ্গে বাংলাকেও পরিষদের সরকারি ভাষা করার প্রস্তাব করেন। কিন্তু নতুন বিতর্কের পর এই প্রস্তাব অগ্রাহ্য হয়। দত্তের এই গণতান্ত্রিক বক্তব্য পূর্ব বাংলার জনগণকে বিপুলভাবে অনুপ্রাণিত করে, বাংলা ভাষার পক্ষে লড়ার জন্য এবং তিনি কুমিল্লাবাসী বলে ওই নায়কসুলভ বক্তব্য কুমিল্লার মানুষকে বাংলা ভাষার প্রশ্নে গভীরভাবে ভাবিত করে।

কুমিল্লার ভাষা সৈনিকদের স্মৃতি স্মরণে তিননদী পরিষদের সভাপতি, ‘সাপ্তাহিক অভিবাদন’ সম্পাদক আবুল হাসানাত প্রতিবছর কুমিল্লায় ভাষা মাস ফেব্রুয়ারিতে শুরুতে অমর একুশের টানা ২১ দিনব্যাপী অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করে থাকেন। কুমিল্লায় সিটি কর্পোরেশনের নগর উদ্যানে জামতলায় তিন পরিষদ নামের একটি সংস্কৃতি সংগঠনের জেলার বিভিন্ন আন্দোলনের ইতিহাস নতুন প্রজন্ম কাছে স্মরণগুলো মনে করে দেন। এছাড়া এই সংগঠনটি জেলার স্থানীয় বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন, শিল্পী, রাজনীতিবিদ ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান নাচ, গান, নাট্য, আবৃত্তি ও আলোচনায় মাধ্যমে একুশের চেতনা তুলে ধরে। ভাষা শহীদের চেতনাকে লালন করে তা সবার মাঝে  ছড়িয়ে দেওয়ার মানসে সীমিত সাধ্যের মধ্যেও নিরলস কাজ করে যাচ্ছে সংগঠনটি।

উল্লেখ্য মেঘনা গোমতী ও তিতাস অবিভক্ত কুমিল্লার প্রধান তিনটি নদী।  সংগঠনটি ইতিহাস থেকে জানা যায়,শুরুর কথা সূচনা হয় মূল ৮৪ সালের দিকে,ইংরেজি দৈনিক নিউ নেশন পত্রিকার তৎকালীন কুমিল্লা প্রতিনিধি প্রদীপ সিংহ রায়, ক্রীড়া সংগঠক বদরুল হুদা, চট্টগ্রাম আর্ট কলেজের ছাত্র সৈয়দ আবদুল ওয়াজেদ, ঢাকা আর্ট কলেজের ছাত্র নওশাদ কবীরের সঙ্গে বিষয়টি নিয়ে আলোচনা করলেন সাংবাদিক বাবুল। এই পাঁচজন মিলেই গড়ে তোলেন তিন নদী পরিষদ।  ওই নদীগুলো কথা মাথা রেখে তিননদী পরিষদ নামে  একটি সাংস্কৃতিক সংগঠন গড়ে ওঠে ১৯৮৪ সালের ১৫ জানুয়ারিতে। ওই সংগঠনটির উদ্যোগে ৩৮ বছর ধরে অমর একুশের টানা ২১ দিনব্যাপী অনুষ্ঠিত বিভিন্ন অনুষ্ঠান হচ্ছে ধারাবাহিক।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here