জিয়াউর রহমানের ‘মুক্তিযোদ্ধা খেতাব’ বাতিলের সিদ্ধান্ত

নিজস্ব প্রতিনিধিঃবিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের মুক্তিযোদ্ধা খেতাব বাতিল করা হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিলের (জামুকা) ৭২তম সভায় এ সিদ্ধান্ত হয়। 

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) সকালে গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি ও জামুকার সদস্য শাজাহান খান। 

তিনি জানিয়েছেন, জামুকার বৈঠকে জিয়াউর রহমানের নামের পাশে খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

বাংলাদেশ সরকারের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট অনুসারে জিয়াউর রহমানের নামের পাশে ‘বীর উত্তম’ খেতাব রয়েছে। 

বৈঠকে জিয়াউর রহমান ছাড়াও বঙ্গবন্ধুর আত্মস্বীকৃত খুনি ও মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি শরিফুল হক ডালিম, নুর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন খানের খেতাবও বাতিলের সিদ্ধান্ত হয়েছে। 

শাজাহান খান জানান, সিদ্ধান্তগুলো সুপারিশ আকারে মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর পর গেজেট বাতিলের প্রজ্ঞাপন জারি করা হবে।

তিনি বলেন, ‘স্মরণীয়-বরণীয় ব্যক্তিদের তালিকা থেকে খন্দকার মোশতাকের নাম বাতিল করা হয়েছে। এ ধরনের আরও ব্যক্তির নাম পাওয়া গেলে পর্যায়ক্রমে বাদ দেয়া হবে।’


এদিকে বৈঠকে এলজিইডির সাবেক প্রধান প্রকৌশলী ওয়াহিদুর রহমান ও গণপূর্ত অধিদফতরের সাবেক প্রধান প্রকৌশলী হাফিজুর রহমান মুন্সীর মুক্তিযোদ্ধা গেজেট ও সনদ বহালের সিদ্ধান্ত হয়েছে। এর আগে অভিযোগের প্রেক্ষিতে এ দুজনের গেজেট ও সনদ বাতিল করেছিল মন্ত্রণালয়। 

সরকারের খেতাবপ্রাপ্ত বীর মুক্তিযোদ্ধার গেজেট অনুসারে জিয়াউর রহমান ছাড়াও শরিফুল হক ডালিম ‘বীর উত্তম’, নূর চৌধুরী ‘বীর বিক্রম’, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন খান ‘বীর প্রতীক’ ছিলেন। মুক্তিযুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ অবদানের জন্য স্মরণীয়-বরণীয়জনদের তালিকায় খন্দকার মোশতাকের নামও ছিল। 

শরিফুল হক ডালিম, নূর চৌধুরী, রাশেদ চৌধুরী ও মোসলেহ উদ্দিন খান স্বাধীনতা মহান স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান হত্যা মামলায় দেশের সর্বোচ্চ আদালত কর্তৃক মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here