দীপন হত্যায় ৮ আসামির ফাঁসি

নিজস্ব প্রতিনিধিঃজাগৃতি প্রকাশনীর স্বত্বাধিকারী ফয়সল আরেফিন দীপন হত্যা মামলায় আসামির সবাইকে মৃত্যুদণ্ড দিয়ে রায় ঘোষণা করেছেন আদালত।

বুধবার (১০ ফেব্রুয়ারি) ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ রায় দেন।

মৃত্যুদণ্ডাদেশ প্রাপ্ত আসামিরা হলেন- আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া, মইনুল হাসান শামীম ওরফে সামির ওরফে ইমরান, আবদুর সবুর সামাদ ওরফে সুজন ওরফে রাজু ওরফে সাদ, খাইরুল ইসলাম ওরফে জামিল ওরফে জিসান, আবু সিদ্দিক সোহেল ওরফে সাকিব ওরফে সাজিদ ওরফে শাহাব, মোজাম্মেল হুসাইন ওরফে সায়মন ওরফে শাহরিয়ার, শেখ আবদুল্লাহ ওরফে জুবায়ের ওরফে জায়েদ ওরফে জাবেদ ওরফে আবু ওমায়ের ও আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ।

এর মধ্যে আনসারুল্লাহ বাংলা টিমের সামরিক শাখার প্রধান ও বরখাস্ত মেজর সৈয়দ জিয়াউল হক জিয়া এবং আকরাম হোসেন ওরফে হাসিব ওরফে আবির ওরফে আদনান ওরফে আবদুল্লাহ পলাতক রয়েছেন। বাকি ৬ আসামি রায় ঘোষণার সময় আদালত উপস্থিত ছিলেন।

আদালতের সরকারি কৌঁসুলি গোলাম সরোয়ার জাকির রায় ঘোষণার পর গণমাধ্যমকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এদিকে রায় ঘোষণাকে কেন্দ্রে করে আজ বেলা সাড়ে ১১টার দিকে কারাগারে থাকা ৬ আসামিকে কড়া নিরাপত্তার মধ্যে আদালতে নিয়ে আসা হয়। এর কিছুক্ষণ পরই রায় ঘোষণার জন্য এজলাসে বসেন বিচারক।

রায় ঘোষণার সময় দীপনের বাবা অধ্যাপক আবুল কাসেম ফজলুল হকসহ পরিবারের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

এর আগে গত ২৪ জানুয়ারি ঢাকার সন্ত্রাসবিরোধী ট্রাইব্যুনালের বিচারক মজিবুর রহমান এ মামলায় রায়ের জন্য ১০ ফেব্রুয়ারি দিন ধার্য করেছিলেন।

প্রায় ৫ বছর আগে সংঘটিত হত্যাকাণ্ডের এ মামলায় গেল বছরের ১৩ অক্টোবর ৮ জঙ্গির বিচার শুরুর আদেশ দেন আদালত। এ মামলায় এখন পর্যন্ত ২৬ জন সাক্ষীর মধ্যে ২৩ জনের সাক্ষ্য নেয়া হয়।

গেল বছরের ১৯ মার্চ ৮ আসামির বিরুদ্ধে চার্জশিট গ্রহণ করে পলাতক দুই আসামির বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন ট্রাইব্যুনাল।

২০১৮ সালের ১৮ ডিসেম্বর সিএমএম আদালতে এ চার্জশিট উপস্থাপন করা হয়। একই বছরের ১৫ নভেম্বর আদালতে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ডিবি পুলিশের সহকারী পুলিশ সুপার মো. ফজলুর রহমান চার্জশিট দাখিল করেছিলেন।

২০১৫ সালের ৩১ নভেম্বর দুপুরের পর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেটে জাগৃতি প্রকাশনীর কার্যালয়ে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।

ওইদিনই একইসময়ে লালমাটিয়ায় শুদ্ধস্বর প্রকাশনীর কার্যালয়ে ঢুকে এর স্বত্বাধিকারী আহমেদুর রশীদ টুটুল, লেখক সুদীপ কুমার ওরফে রণদীপম বসু ও প্রকৌশলী আবদুর রহমানকে দুর্বৃত্তরা কুপিয়ে ও গুলি করে হত্যার চেষ্টা করা হয়।

দীপন হত্যার ঘটনায় তার স্ত্রী রাজিয়া রহমান জলি রমনা থানায় একটি হত্যা মামলা করেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here