ভ্যাকসিন নিয়ে যে নির্দেশনা দিলেন প্রধানমন্ত্রী

নিজস্ব প্রতিনিধিঃকরোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন প্রয়োগ কর্মসূচি বিষয়ে এক নির্দেশনায় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ৪০ বছরের বেশি বয়সী সবাই করোনার ভ্যাকসিন নেওয়ার জন্য নিবন্ধন করতে পারবেন। এর আগে ৫৫ বছর বয়সীদের টিকার জন্য নিবন্ধন করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল।

সোমবার (৮ ফেব্রুয়ারি) মন্ত্রিপরিষদের বৈঠকে অংশ নিয়ে প্রধানমন্ত্রী এসব নির্দেশনা দেন। বৈঠক শেষে মন্ত্রিপরিষদ সচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম এসব তথ্য জানান।

 

প্রেস ব্রিফিংয়ে সচিব বলেন, ‘কেউ রেজিস্ট্রেশন করতে না পারলে, সেক্ষেত্রে ভোটার আইডি নিয়ে ভ্যাকসিন পয়েন্টে গেলেই তাকে রেজিস্ট্রেশনের জন্য সহযোগিতা করা হবে। গ্রামের সবাই ইউনিয়ন ডিজিটাল সেন্টারে গিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে পারবেন। সবাই টিকা নিলে করোনা নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে।’

প্রধানমন্ত্রীকে উদ্ধৃত করে মন্ত্রিসচিব খন্দকার আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘দেশে অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার যে টিকা প্রয়োগ করা হচ্ছে, তার কার্যকারিতা ৭০ ভাগ। প্রধানমন্ত্রী টিকা নিয়ে আরও বেশি করে প্রচার চালাতে নির্দেশ দিয়েছেন। এখন পর্যন্ত যারা টিকা নিয়েছেন সবাই সুস্থ আছেন। মন্ত্রীরা যারা টিকা নিয়েছেন তাদের তো বয়স বেশি, তবে তারা ভালো আছেন।’

মন্ত্রিসভা বৈঠকের সূচনা বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, আমরা চাচ্ছি একটু আর্লি করোনা ভ্যাকসিনের সেকেন্ড ডোজ দিয়ে দেওয়া হোক। এক মাস থেকে দেড় মাসের মধ্যে সেকেন্ড ডোজ দিয়ে এগুলো তাড়াতাড়ি শেষ করতে। ভ্যাকসিনের ডেট যেন এক্সপায়ার না হয়, সেটাও দেখতে হবে।

ভ্যাকসিন গ্রহণের পরও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার আহ্বান জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘সবাইকে মাস্ক ব্যবহার করতে হবে। মাস্ক পরা ও হাত ধোয়া অব্যাহত রাখতে হবে। এটা মনে করলে হবে না; আমি টিকা নিয়েছি, আমি একদম সেভ।’

ভ্যাকসিনের সেকেন্ড ডোজ তুলনামূলক কম সময়ের মধ্যে দেওয়ার তাগিদ দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘হিসাব করে একদম ১৫ দিনের মধ্যেই নিতে হবে তা না। এক মাস, দুই মাস না; তিন মাস পর্যন্ত ইফেক্ট থাকে। এই সময়ের মধ্যে সেকেন্ড ডোজ নেওয়া যায়। তবে আমরা চাচ্ছি একটু আর্লি সেকেন্ড ডোজ দিয়ে দিতে। এক মাস থেকে দেড় মাসের মধ্যে সেকেন্ড ডোজ দিয়ে, এগুলো (দেশে আসা ৭০ লাখ ভ্যাকসিন) তাড়াতাড়ি শেষ করা। ডেট এক্সপায়ার না হয় সেটাও দেখতে হবে।’

ফ্রন্টলাইনারদের ভ্যাকসিনে অগ্রাধিকার দেওয়ার ওপর জোর দিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, চিকিৎসার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, ল’ফোর্সেস এজেন্সিসহ যারা অ্যাক্টিভলি কাজ করেছে এবং করে যাচ্ছে। তাদের কথা আগেই বলেছি। আমাদের নেতাকর্মীরাও যথেষ্ট কাজ করেছে। তারাও রেজিস্ট্রেশন করলে করতে পারবে। এখন আর একটু ওপেন করে দেওয়া হবে।

শেখ হাসিনা আরও বলেন, ‘আমাদের কর্মীরা তো কাজ করেছে। করোনায় মৃতদের লাশ দাফন করা, রোগীদেরকে হাসপাতালে নেওয়ার ব্যাপারে সাহায্য করাসহ ভলান্টিয়াররা সবাই যথেষ্ট কাজ করেছে। এখন আমার মনে হয়, এটা আরেকটু ওপেন করে যত তাড়াতাড়ি দেয়া যায়। এখন তো আবার নেক্সট ডোজের জন্য রেডি হতে হবে।’

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here