পটুয়াখালীতে হাতে লিখে আন্ধারমানিক পএিকা প্রকাশ

সাঈদ ইব্রাহিম,পটুয়াখালী ঃ পটুয়াখালী জেলায় কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক নদীর ধারে উপকূলের সেই প্রত্যন্ত এলাকা নীলগঞ্জ ইউনিয়নের পশ্চিম সোনাতলা গ্রাম। অপরূপ সৌন্দর্য ঘেরা এই পশ্চিম সোনাতলা গ্রাম। খেপুপাড়া শহর থেকে মাত্র ৫ কিলোমিটার দূরে এই পশ্চিম সোনাতলা গ্রাম অবস্হিত।প্রযুক্তি উন্নয়নের সাথে পাল্লা দিয়ে পরিবতন দেশের প্রিন্ট মিডিয়া চলছে সাদা কালো আর রঙ্গীন পত্রিকার মাঝে টিকে থাকার লড়াই। এতকিছুর মাঝেও জায়গা করে নিচ্ছে বহু পুরাতন পদ্ধতি হাতে লেখা পত্রিকা। এক এক জনের জীবনের বেচে থাকার গল্প এক এক ধরনের, কারোটা রঙ্গীন আবার কারোটা সাদা কালো।পটুয়াখালী জেলায় কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক নদীর ধারে উপকূলের সেই প্রত্যন্ত এলাকায় বসে হাতে লিখে বানানো পত্রিকার মাধ্যমে সমাজে আলো ফেলার চেষ্টা করছে সেই প্রত্যন্ত গ্রামের সহজ সরল মেধাবী দিনমজুর আলোর ফেরিওয়ালা হাসান পারভেজের। পটুয়াখালী জেলায় কলাপাড়া উপজেলার আন্ধারমানিক নদীর ধারে উপকূলের সেই প্রত্যন্ত এলাকায় বসে হাতে লিখে বানানো পত্রিকার মাধ্যমে সমাজে আলো ফেলার চেষ্টা করছে হাসান পারভেজ।তার পত্রিকার নাম দিয়েছে ‘‘আন্ধারমানিক’’ আঁধারে মাণিক্যের সন্ধান।পত্রিকাটি উপকূলীয় কমিউনিটি পত্রিকা। তিন বেলা খাবারের যোগাড়ের জন্য যার শ্রম বিক্রি করতে হয়, কখনো মাছধরা, কখনো মাটি কাটা, কখনো বা ইটভাটার শ্রমিকের কাজ। নিজে হাতে লিখে ফটোকপি করে, এরপর বাড়ির উঠোনে বসে পত্রিকার কভার লাগায়, রোদে শুকোয়, তারপর পাঠকের হাতে পৌঁছে দেয় নিজেই। নিজে না খেয়ে থাকলেও গ্রামের বহু মানুষের কল্যাণে নানান কাজ করে চলেছে হাসান। হাসানের পত্রিকা আন্ধার মানিকে ছোট্ট রুবিনাকে নিয়ে তার লেখা কবিতা সাড়া ফেলেছে দেশজুড়ে। গ্রামের কার ঘরে চাল নেই, মাথাব্যথা হাসানের। গ্রামের কাউকে ঘর পাইয়ে দেওয়ার চেষ্টা, কারও জন্য একখানা ভিজিএফ কার্ড করে দেওয়ার জন্য ধরনা দেওয়া, কারও বাড়িতে দশ কেজি চাউল পৌঁছে দেওয়ার চেষ্টাসহ অনেক সেবামুলক কাজ করেন হাসান। আলোর ফেরিওয়ালা হাসান পারভেজ দৈনিক সকালের সময়কে জানান, আমি একজন দিনমজুর।আমি সহজ সরল মানুষ খেটে খাওয়া মানুষ দিন আনি দিন খাই যখন যে কাজ পাই সেই কাজ করে সংসার চালাই।আমার ইচ্ছা ছিল উচ্চশিক্ষিত হওয়ার কিন্তু আর্থিক সংকটের কারনে ভালকরে পড়াশুনা করতে পারিনি খুব কষ্ট করে আইয়ে পাশ করছি এখন আমার একটাই স্বপ্ন ডিগ্রীটা পাশ করা।আমার একটাই স্বপ্ন একটা কম্পিউটার একটা প্রিন্টার মেশিন একটি ভাল মোবাইল সেট কেনার ইচ্ছা, কিন্তু টাকার অভাবে কিনতে পারছি না।এই ৩টি জিনিস থাকলে আমার পত্রিকায় কাজ করা সহজ হবে।দেশের মানুষের জন্য ভাল কিছু লিখতে পারব সমাজের জন্য ভাল কিছু করতে পারব। আমার পত্রিকায় আন্ধারমানিকে প্রথম ছোট্র রুবিনাকে নিয়ে কবিতা প্রকাশ হয়, রুবিনার জীবন পাল্টে যায়। আন্ধারমানিক পত্রিকার ধারণা ও পরিকল্পনা রফিকুল ইসলাম মন্টু জানান, ওর সঙ্গে প্রথম দেখা সম্ভবত ২০১৬ সালে। নিতান্তই কাজের প্রয়োজনে ওর বাড়িতে যাওয়া। তখনই আমি ওর ভেতরে আলো দেখেছি। হাসান গল্প লিখে, কবিতা লিখে। খাতায় লেখা অনেক কবিতা দেখালো আমাকে। খুব ভালো লেগেছিল। আসলে কোথায় কী রত্ন পড়ে আছে, আমরা জানিনা। হাসান যে একটা রত্ন, সেটা আমরা আগে ভাবিনি। পরে দেখলাম নিজেই তার প্রতিভার প্রমাণ দেখালো। অবিশ্বাস্য একটা ঘটনা ঘটিয়ে ফেললো; হাতে লিখে বের করলো আন্ধারমানিক নামের একটি পত্রিকা

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here