নাতির কোলে চড়ে ভোট দিলেন ১০৪ বছরের বৃদ্ধা

মোরেলগঞ্জ প্রতিনিধিঃ বয়সের ভারে ক্লান্ত। শরীরের শক্তিও শেষ প্রায়। নিজ পায়ে দাঁড়াতে পারলেও, হাঁটতে হয় নাতি-নাতনির সহায়তায়। খাবার সামনে আসলে, খেতে পারেন একাই। চিকিৎসকের কাছে যাওয়া ছাড়া বাড়ি থেকে বের হন না প্রায় দশ বছর। তারপরও ভোট দিতে হবে ১০৪ বছর বয়সী ফাতেমা বেগমের। দাদির এমন বায়নায় কিছু বিরক্ত হলেও বৃদ্ধ দাদিকে খুশি রাখতে কোলে করে ভোট কেন্দ্রে নিয়ে আসেন ৩৮ বছর বয়সী নাতি মো. কামাল শেখ।

শনিবার (৩০ জানুয়ারি) দুপুর দুইটার দিকে মোরেলগঞ্জ পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ড পশ্চিম সানকিভাংগা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দেন ওই কেন্দ্রের সব থেকে বয়োজেষ্ঠ ভোটার। ভোট দিয়ে বের হয়ে তৃপ্তির হাসি হাসেন এই বৃদ্ধা।

এত কষ্ট করে কেন ভোট দিতে এসেছেন এমন প্রশ্নে ফিসফিস করে বলেন, ‘ভোট দিতে আমার ভালো লাগে। কখন মারা যাব তা তো বলা যায় না। তাই ভোট সামনে আসছে ভোট দিয়ে গেলাম।’

ফাতেমা সানকিভাংগা এলাকার আয়জদ্দিন শেখের স্ত্রী। ভোটার তালিকা অনুযায়ী ১৯১৭ সালের ৩ সেপ্টেম্বর এই বৃদ্ধার জন্ম। সে অনুযায়ী একশ চার বছর বয়স হয় ফাতেমার। তবে স্থানীয় ও তার স্বজনদের দাবি ফাতেমার বয়স ১১৫ বছর। ৬ ছেলে ও দুই মেয়ের জননী এই নারীর ৪০ জনের মতো নাতি-নাতনি রয়েছেন।

স্থানীয় ৬০ বছর বয়সী আবু বকর সিদ্দিক বলেন, আমরা বোঝার পর থেকেই দেখি ফাতেমা বেগম বৃদ্ধ। তার বড় ছেলে সাবেক ইউপি সদস্য নুর মোহাম্মাদের বয়সও প্রায় ৯০ এর কাছাকাছি। এলাকার সব থেকে বয়সী মানুষ হিসেবে ফাতেমাকে সবাই ভালোবাসে এবং শ্রদ্ধা করে। আমরা তার সুস্থতা কামনা করি।

ফাতেমার নাতী মো. কামাল শেখ বলেন, আমার চাচা ও ফুপুরা সবাই বৃদ্ধ হয়ে গেছে। দাদি অনেকদিন ধরে ঘরবন্দি। চোখে দেখলেও কানে কিছুটা কম শোনেন। তারপরও ভোটের কথা শুনে ভোট দেওয়ার ইচ্ছাপোষণ করেন তিনি। আমরা নিরুৎসাহিত করলেও তিনি কেন্দ্রে যাওয়ার ব্যাপারে জোরাজুরি করেন। পরে বাধ্য হয়ে দাদিকে খুশি রাখতে ভোট দেওয়াতে নিয়ে আসছি।

মোরেলগঞ্জ পৌরসভায় শুধুমাত্র কাউন্সিলর পদে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ৯টি সাধারণ ওয়ার্ডে ৪৩ জন এবং ৩টি সংরক্ষিত মাহিলা ওয়ার্ডে ১২ জন কাউন্সিলর প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। ৯টি কেন্দ্রে ১৬ হাজার ৫০০ ভোটার তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করবেন। এর মধ্যে ৮ হাজার ৮৬ জন পুরুষ এবং ৮ হাজার ৪১৪ জন নারী ভোটার রয়েছেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here