কিয়ামত কখন বা কোন সময়ে ঘটবে?

ধর্ম ডেস্ক:দুনিয়ার সব মানুষ ও জ্বীন জাতিকে একত্রিত করা হবে কিয়ামতের দিন। তাদের সব নেক ও বদ আমলের চূড়ান্ত হিসাব হবে। এর পর হবে জান্নাত ও জাহান্নামের ফয়সালা। যারা জান্নাত লাভ করবে তারা চিরকাল জান্নাতে থাকবে, আর যারা জাহান্নাম লাভ করবে তারা চিরকাল জাহান্নামে অবস্থান করবে। কিয়ামত বা পুনরুত্থান কখন সংঘটিত হবে?

এ প্রসঙ্গে কোরআন-হাদিসে নির্দিষ্ট কোন তারিখ উল্লেখ না থাকলেও এর আলামত সম্পর্কে মহান আল্লাহ তায়ালা ইরশাদ করেন, ‘তারা কি শুধু এই অপেক্ষায় রয়েছে যে কিয়ামত তাদের কাছে এসে পড়ুক। বস্তুত কিয়ামতের লক্ষণগুলো তো এসেই পড়েছে। সুতরাং এসে পড়লে তারা কীভাবে উপদেশ গ্রহণ করবে? (সূরা : মুহাম্মাদ, আয়াত : ১৮)।

আবু হুরাইরা রাদিআল্লাহু আনহু থেকে বর্ণিত, নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘শেষ যুগের উম্মতের এক সম্প্রদায়কে বানর ও শূকরে বিকৃত করে দেয়া হবে।’

সাহাবিরা বলল, ‘হে আল্লাহর রাসূল! তারা কি আল্লাহ এক ও মুহাম্মাদ আল্লাহর রাসূল হওয়ার সাক্ষ্য দেয় না?’ নবীজি (সা.) বললেন, ‘হ্যাঁ তারা রোজা রাখে, নামাজ পড়ে এবং হজও আদায় করে।’ সাহাবিরা বললেন, ‘তাহলে তাদের অপরাধ কী?’

নবীজি (সা.) বললেন, ‘তারা ঢাকঢোল, বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা মহিলা বরণ করবে। এই লোকগুলো আমোদ-প্রমোদ ও মদ্যপানে মত্ত অবস্থায় রাত কাটাবে। সকালে দেখা যাবে, তাদের বানর ও শূকরে বিকৃত করে দেয়া হয়েছে।’ (আসবাহানি, হিলয়াতুল আউলিয়া : ৩/১১৯-১২০)।

সাহল বিন সা’দ (রা.) থেকে বর্ণিত। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘আমার উম্মতের মাঝে ধ্বংস, পাথরবৃষ্টি এবং চেহারা বিকৃতকরণ শাস্তি আসবে।’ সাহাবায়ে কেরাম বললেন, ‘হে রাসূল! কবে এই আজাব আসবে?’

নবীজি (সা.) বললেন, ‘যখন বাদ্যযন্ত্র ও গায়িকা নারীদের খুব বিস্তার ঘটবে আর মদকে হালাল মনে করা হবে।’ (তাবারানি, আলমুজামুল কাবির : ৬/১৫০; তিরমিযি, আসসুনান : ২২১৩; সনদ হাসান)।

কিয়ামতের ছোট আলামতগুলো প্রকাশিত হয় গেলে হঠাত করেই কিয়ামতের বড় আলামতগুলো প্রকাশিত হতে শুরু করবে। রাসূল (সাঃ) বলেন, মালা ছিড়ে গেলে এর পুতিগুলো যেমন দ্রুত খসে পড়ে ঠিক সেভাবেই কিয়ামতের (বড়) আলামতগুলো একের পর এক প্রকাশিত হতে থাকবে। (তিরমিযী)

কিয়ামতের বড় আলামতগুলো হচ্ছে: দুখান (ধোঁয়া)। রক্তিম ধোঁয়া, যা পৃথিবীকে ঢেকে ফেলবে এবং যার প্রভাবে মুমিনদের সামান্য সর্দি-কাশির মত অবস্থা হবে আর কাফেরদের জন্য যা হবে ভয়াবহ আযাব;দাজ্জালের আত্মপ্রকাশ; হযরত ঈসা (আঃ) এর অবতরন; ইয়াজূজ-মাজূজ;পশ্চিম দিক থেকে সূর্যোদয়; দাব্বাতুল র্আ‌দ (প্রাণীবিশেষ যা মাটি ভেদ করে বের হবে);তিনটি ভূধ্বস, একটি পূর্ব প্রান্তে, একটি পশ্চিম প্রান্তে আরেকটি জাযীরাতুল আরবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here