অবৈধ পথে ভারতের যাওয়ার প্রস্তুতিকালে আটক ২২

সাতক্ষীরা প্রতিনিধি:সাতক্ষীরায় দালাল চক্রের সাহয়তায় অবৈধ পথে ভারতের যাওয়ার প্রস্তুতিকালে ২২ জনকে আটক করেছে পুলিশ। তারা বাংলাদেশি। সদর উপজেলার বাশদহ ইউনিয়নের কুলিয়াডাঙ্গা গ্রামের এক ভ্যানচালকের বাড়ি থেকে পাসপোর্টবিহীন এই বাংলাদেশিদের আটক করা হয়।

এসময় পাচারকারী চক্রের কাউকে আটক করা সম্ভব হয়নি। তবে পাচারকারী চক্রের সহযোগী ভ্যানচালক মোখলেছুরের স্ত্রী নাসিমা বেগমকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে পুলিশ।

 

বৃহস্পতিবার (২৮ জানুয়ারি) সকালে সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. আসাদুজ্জামন বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

বুধবার (২৭ জানুয়ারি) দিবাগত রাত ১২টার পরে সাতক্ষীরা সদর কুলিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোখলেছুর রহমানের বাড়ি থেকে ২২ জনকে আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ১০ জন পুরুষ, ১০ জন নারী ও দুই মেয়ে শিশু। যাদের মধ্যে নড়াইল জেলার ১৫ জন, খুলনার ৩ জন, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ২ জন, রংপুরের একজন ও মুন্সিগজ্ঞ জেলার এক বাসিন্দা।

আটকরা জানান, তারা কাজের জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে এখানে এসেছে। টাকার বিনিময়ে পাসপোর্ট ছাড়াই ভারতে পার করে দিবে বলে গত মঙ্গলবার তাদেরকে সাতক্ষীরার কুলিয়াডাঙ্গার মোখলেছুরের বাড়িতে নিয়ে আসা হয়। তাদের কাছ থেকে মাথাপিছু ১০ থেকে ২০ হাজার টাকা নিয়ে গত বুধবার ভোর রাতে ভারতে প্রবেশের কথা থাকলেও সুযোগ না হওয়ায় আজ (বৃহস্পতিবার) রাতে তলুইগাছা সীমান্ত দিয়ে ভারতে পার করে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু পার হওয়ার আগেই পুলিশ এসে তাদেরকে আটক করে।

জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করা মোখলেছুরের স্ত্রী নাছিমা বেগম জানান, তার স্বামী মোখলেছুর একজন ভ্যানচালক। তিনি এই দালাল চক্রের সঙ্গে জড়িত নয়। তার স্বামী শুধু মাত্র যাত্রী বহন করেন।

নাছিমা বেগম আরো জানান, সাতক্ষীরা কলারোয়া কেড়াগাছির আব্দুল হামিদের ছেলে আনারুল ইসলাম ও একই গ্রামের কাশেম সরদারের ছেলে কাজিরুল ইসলাম এবং বাশদহ ইউনিয়নের তলুইগাছা গ্রামের বাবলু ওই ২২ জনকে তাদের বাড়িতে রেখে গেছে। তাদেরকে খাওয়া বাবদ ৫০ টাকা করে দেন দালালেরা। এর বাইরে আর কিছু জানেন না তিনি।

ওসি মো.আসাদুজ্জামন জানান, সদর উপজেলার কুলিয়াডাঙ্গা গ্রামের মোখলেছুর রহমানের বাড়িতে বিভিন্ন জেলা থেকে আগত কিছু লোকজন অবৈধ্ভাবে ভারতে প্রবেশ করবে বলে অবস্থান করছে— এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ওই বাড়িতে অভিযান চালানো হয়। অভিযানে একটি ঘরে ১০ জন পুরুষ ও আর একটি ঘরে ১২ জন নারীকে উদ্ধার করা হয়। তাদের মধ্যে ২টি মেয়ে শিশুও আছে।

ওসি আরো বলেন, এ ঘটনায় ওই বাড়ির মালিক মোখলেছুরের স্ত্রী নাসিমাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here