নারী নিয়ে ফুর্তি-উলঙ্গ নাচ, নেশা-জুয়ায়ও মত্ত চেয়ারম্যান জামান ভূঁইয়া!

নিজস্ব প্রতিনিধিঃনরসিংদীর বেলাবো উপজেলা চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি সমসের জামান ভূঁইয়া রিটনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারি, মাদক, ভাইস চেয়ারম্যানদের সম্মানী ভাতা আত্মসাৎসহ বিভিন্ন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ আছে, উপজেলা চেয়ারম্যানের অফিসে রেস্ট রুম হিসেবে ব্যবহার করে জুয়া খেলা, নেশা করা ও মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করাসহ অসামাজিক বিভিন্ন কাজ হয়। এমনকি সম্প্রতি এই চেয়ারম্যানের উলঙ্গ হয়ে নাচার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এমনই কিছু স্থির ও ভিডিও চিত্র ব্রেকিংনিউজের এই প্রতিবেদকের হাতে এসেছে।

অভিযোগ আছে, উপজেলা চেয়ারম্যান সমসের জামান ভূঁইয়া রিটনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা জানে না এমন কেউ উপজেলায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। উপজেলা অফিসে একটি রুমে খাট রেখে রেস্ট রুম হিসেবে ব্যবহার করে। সেখানে সারাদিন জুয়া খেলা, নেশা করা ও মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করাসহ অসামাজিক বিভিন্ন কাজ হয়। এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানের উলঙ্গ হয়ে নাচার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়।

এছাড়াও ভাইস চেয়ারম্যানদের সম্মানী ভাতা, ভ্রমণ ভাতা ও আপ্যায়ন ভাতা আত্মসাতের অভিযোগও রয়েছে। এ ঘটনায় জেলা প্রশাসকের কাছে আইনগত সুরাহা চেয়ে মহিলা ভাইস চেয়ারম্যানের প্যাডে লিখিত অভিযোগ করেছেন দুই ভাইস চেয়ারম্যানরা।

বেলাব উপজেলার পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া জাহাঙ্গীর ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার খালেদা তাদের লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, তারা প্রতি মাসের ৩/৪ তারিখে সোনালী ব্যাংক বেলাব শাখা থেকে নিজেদের সম্মানী ভাতা উত্তোলন করেন। নভেম্বরের মাসিক ভাতা ২৭ হাজার, ভ্রমণ ভাতা ৮ হাজার এবং আপ্যায়ন ভাতা পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যানের ৪ হাজার ৪২১ টাকা ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যানের ৪ হাজার ৩৬৬ টাকার চেক যথারীতি অফিস সহকারী তৌফিক আফ্রাদের নিকট চাইলে তিনি জানান- উপজেলা চেয়ারম্যান পুরো চেক বই তার কাছ থেকে নিজের হেফাজতে নিয়ে গেছেন। বিষয়টি নিয়ে চেয়ারম্যানকে জিজ্ঞাসা করলে তিনি এ বিষয়ে পরে কথা বলবেন বলে জানান। কিন্তু পরবর্তীতে এ বিষয়ে সোনালী ব্যাংকে গিয়ে জানতে পারি চেয়ারম্যান আমাদের টাকা উত্তোলন করে ফেলেছেন।

বিষয়টি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাকে অবহিত করলে তিনিও চেয়ারম্যানকে দ্রুত সুরাহা করার অনুরোধ করেন কিন্তু দীর্ঘ দুই মাস অতিবাহিত হয়ে গেলেও বিষয়টি কোনো সুরাহা হয়নি। এ ঘটনায় দ্রুত আইনগত সুরাহা চেয়ে মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান শারমিন আক্তার খালেদার প্যাডে দুজনই স্বাক্ষর করে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত অভিযোগ করেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী, শিল্পমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিভাগীয় কমিশনার কাছে অভিযোগের অনুলিপি দেন তারা।

এদিকে, তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন দাখিলের পর গত ১৮ জানুয়ারি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের স্থানীয় সরকার বিভাগ উপজেলা শাখা-২ এর উপ-সচিব মোহাম্মদ সামছুল হক স্বাক্ষরিত এ চিঠিতে বলা হয়, দুই ভাইস-চেয়ারম্যানের সম্মানীর প্রায় সাড়ে ৭৪ হাজার টাকা আত্মসাতের প্রমাণ পাওয়া গেছে- যা উপজেলা পরিষদ আইনের লঙ্ঘন। কেন আপনাকে (উপজেলার চেয়ারম্যান সমসের জামান ভূঁইয়া) পদ থেকে বরখাস্ত করা হবে না- তা আগামী ১০ কার্যদিবসের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।

বেলাব উপজেলা ভাইস-চেয়ারম্যান মো. মনিরুজ্জামান ভূঁইয়া জাহাঙ্গীর ব্রেকিংনিউজকে বলেন, আমাদের সম্মানী ভাতা আত্মসাতের প্রমাণ পেয়েছে তদন্ত কমিটি। নরসিংদী সার্কিট হাউজে তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত বিভাগীয় কমিশনার (যুগ্ম-সচিব) খান মো. নুরুল আমিন যখন এসেছিলেন তখন উপজেলা চেয়ারম্যান টাকা আত্মসাতের কথা নিজেই স্বীকার করেছেন। এছাড়াও তদন্ত প্রতিবেদনটি বর্তমানে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মহোদয়ের টেবিলে রয়েছে।

নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, উপজেলা চেয়ারম্যান সমসের জামান ভূঁইয়া রিটনের বিরুদ্ধে নারী কেলেঙ্কারির ঘটনা জানে না এমন কেউ উপজেলায় খুঁজে পাওয়া যাবে না। দ্বিতীয় তলায় আমার অফিসের পাশের রুমে খাট রেখে রেস্ট রুম হিসেবে ব্যবহার করে। সেখানে সারাদিন জুয়া খেলা, নেশা করা ও মেয়েদের নিয়ে ফুর্তি করাসহ অসামাজিক বিভিন্ন কাজ হয়। এমনকি উপজেলা চেয়ারম্যানের উলঙ্গ হয়ে নাচার ভিডিও ফেসবুকে ভাইরাল হয়। এতে করে আমাদেরও সম্মানহানি হয়।

এসব অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে অভিযুক্ত উপজেলা চেয়ারম্যান সমসের জামান ভূঁইয়া রিটন ব্রেকিংনিউজকে বলেন, মন্ত্রণালয় আমার কাছে অভিযোগের বিষয়ে জবাব চেয়েছিল। আমি সেগুলোর জবাব দিয়েছি। আমার বিরুদ্ধে যতগুলো অভিযোগ তার সবগুলো মিথ্যা। একটি মাজারে টাকা দেওয়া নিয়ে ভুল বোঝাবুঝির কারণে অভিযোগ করেছে তারা। রাজনৈতিক দ্বন্দ্বের কারণে উপজেলার পুরুষ ভাইস-চেয়ারম্যান ও মহিলা ভাইস-চেয়ারম্যান আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা অভিযোগ দিয়েছে।

মাদক ও  নারী কেলেঙ্কারির বিষয়ে সমসের জামান ভূঁইয়া রিটন বলেন, আমার অফিসটি বেলাব বাজারের মধ্যে। করোনা পরিস্থির মধ্যে বাজারে একদিন সঙ্গীতানুষ্ঠান হওয়ার কথা থাকলেও তা পরে আমার রুমে গান-বাজনা হয়। আর এতো লোকের মধ্যে একজন চেয়ারম্যান কখনও মাদক গ্রহণ করতে পারে না।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here