বরিশালে নৌযান শ্রমিকদের কর্মবিরতি : ছেড়ে যায়নি ঢাকার লঞ্চ

নিজস্ব প্রতিনিধিঃবরিশাল-ঢাকা নৌরুটে দুর্ঘটনায় দায়ের হওয়া মামলায় দুই লঞ্চ মাস্টারকে জেল হাজতে পাঠানোর প্রতিবাদে অনির্দিষ্টকালের জন্য কর্মবিরতি পালন শুরু করেছে লঞ্চ শ্রমিকরা।

সোমবার দুপুর ২টার পর বরিশাল নদী বন্দর থেকে ঢাকা-বরিশালসহ অভ্যন্তরিন রুটে যাত্রীবাহী লঞ্চ চলাচল বন্ধ ঘোষণা করেন তারা। এর ফলে সোমবার রাতে ঢাকায় যাত্রার অপেক্ষায় থাকা ৭টি লঞ্চ বরিশাল থেকে ঢাকা’র উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়নি।

কর্মবিরতি শুরুর পর পরই শ্রমিকরা লঞ্চগুলো বরিশাল নদী বন্দর থেকে মাঝ নদীতে সরিয়ে নোঙর করে রাখেন। আকস্মিকভাবে কর্মবিরতি ঢাকার ফলে সীমাহিন ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে কয়েক হাজার যাত্রীকে। বিশেষ করে পূর্বে কেবিন বুকিং দিয়ে রাখা যাত্রীদের ভোগান্তির শেষ নেই। কেউ কেউ বিকল্প ব্যবস্থায় ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করলেও অধিকাংশ যাত্রীই নিজ অথবা স্বজনদের বাড়িতে ফিরে গেছেন।

এর আগে সোমবার সকালে বরিশালের নিজাম শিপিং কোম্পানির এ্যাডভেঞ্চার-১ ও এ্যাডভেঞ্চার-৯ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনায় দায়েরকৃত মামলায় দুটি লঞ্চের মাস্টার জামাল হোসেন ও রুহুল আমিনের জামিন বাতিল করে জেল হাজতে প্রেরণের নির্দেশ দেয় মেরিন কোর্ট।

বাংলাদেশ যাত্রীবাহী নৌ-যান শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি মাস্টার আবুল হাসেম জানান, ‘গত বছর বরিশাল-ঢাকা নৌ-রুটের মেঘনা নদীর মিয়ারচর চ্যানেলে ঘন কুয়াশার কারণে মধ্য রাতে এ্যাডভেঞ্চার-১ ও ৯ লঞ্চের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। তবে এতে কোন যাত্রীর ক্ষয়ক্ষতি হয়নি।

তিনি বলেন, ‘এই ঘটনায় দুর্ঘটনা কবলিত দুটি লঞ্চের মাস্টার রুহুল আমিন ও মাস্টার জামাল হোসেনসহ চারজনের সার্টিফিকেট সনদ চার মাসের জন্য জব্দ করা হয়। পরবর্তীতে বিআইডব্লিউটিএ’র ট্রাফিক বিভাগ মেরিন কোর্টে মামলা দায়ের করেন।

সোমবার সকালে লঞ্চের দুই মাস্টার ওই মামলায় মেরিন কোর্টে হাজির হয়ে জামিনের আবেদন করেন। আদালতের বিচারক তাদের আবেদন না মঞ্জুর করে দু’জনকেই কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। এ খবর বরিশালে শ্রমিকদের মাঝে ছড়িয়ে পড়লে বিক্ষোভে ফেটে পড়েন তারা এবং তাৎক্ষনিকভাবে শ্রমিকলা নৌ বন্দর থেকে লঞ্চগুলো সরিয়ে মাঝ নদীতে নোঙর করে জামিন আবেদন বাতিলের প্রতিবাদ জানান।

সরেজমিনে দেখাগেছে, আকস্মিকভাবে কর্মবিরতি ডাক দেওয়ায় যাত্রীরা সীমাহিন ভোগান্তিতে পড়েছেন। বিকাল থেকে অসংখ্য যাত্রী এসে লঞ্চ ছাড়বে না শুনে ফিরে যান। কেউ কেউ লঞ্চ ছাড়ার অপেক্ষায় রাত পর্যন্ত অপেক্ষা করে ফিরে যেতে দেখা গেছে। স্থানীয় প্রশাসন এবং রাজনৈতিকভাবে লঞ্চ ছাড়ার বিষয়ে অনুরোধ জানানোর পরেও শ্রমিকরা তাদের সিদ্ধান্তের বিষয়ে অনঢ় রয়েছেন।

রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরের শাহাজাদপুর এলাকার বাসিন্দা এবং একটি পোশাক কারখানার জিএম শরিয়ত উল্লাহ বলেন, ‘সোমবার কর্মস্থলে যোগদানের কথা ছিল। কিন্তু লঞ্চে কেবিন না পাওয়ায় মঙ্গলবারের মধ্যে কর্মে যোগ দেয়ার কথা। এজন্য লঞ্চে কেবিনও বুকিং দিয়েছি। সন্ধ্যার দিকে ঘাটে এসে শুনতে পারি শ্রমিকদের কর্মবিরতির কারণে লঞ্চ চলবে না। ফলে বাধ্য হয়ে সড়ক পথে গন্তব্যে পৌঁছতে হবে।

আলাপকালে বিআইডব্লিউটিএ’র যুগ্ম পরিচালক ও নৌ নিরাপত্তা ও ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা বিভাগের উপ-পরিচালক মো. মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘এটি আদালতের ব্যাপার। আমাদের হাতে কিছু নেই। তার পরেও ঢাকায় যোগাযোগ করা হয়েছে। পাশাপাশি শ্রমিকদের সাথে কথা বলে লঞ্চ ছাড়ার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে। কিন্তু শ্রমিকরা তাতে রাজি হয়নি। এ কারণে রাতে বরিশাল থেকে ঢাকায় উদ্দেশ্যে যে ৭টি লঞ্চ ছেড়ে যাবার কথা সেগুলোও ছেড়ে যায়নি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here